২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য পাচার, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার বিশাল যাদব

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের এক কর্মী। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে বছরের পর বছর ধরে গুপ্তচরবৃত্তির কাজ করছিলেন ওই ব্যক্তি। এমনকী অপারেশন সিঁদুরের সময়েও দেশের প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য পাচার করতেন তিনি। বুধবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

সূত্রের খবর, অভিযুক্ত যুবকের নাম বিশাল যাদব। হরিয়ানার রেওয়ারির পুনসিকা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ভারতীয় নৌসেনার দিল্লিতে অবস্থিত সদর দপ্তরে ক্লার্ক পদে কর্মরত ছিলেন যাদব। চর সন্দেহে তাঁর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করতেই গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মোবাইলের তথ্য থেকে জানা যায়, টাকার বিনিময়ে তিনি নৌসেনা এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের গোপন তথ্য পাকিস্তানের এক মহিলা এজেন্টকে পাচার করতেন। গোয়েন্দা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রিয়া শর্মা ছদ্মনামে কাজ করা এক পাকিস্তানি মহিলা হ্যান্ডলারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

আরও পড়ুন: ১৯-বছরের পুরনো মামলায় গ্রেফতার পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব, উত্তেজনা পটনায়

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জয়পুরের কেন্দ্রীয় জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে যাদবকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, তিনি অনলাইন গেমিংয়ে আসক্ত ছিলেন এবং যথেষ্ট আর্থিক দায়বদ্ধতার শিকার হয়েছিলেন। তার আসক্তি সমর্থন এবং ঋণ পরিশোধের জন্য, তিনি পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের কাছে গোপনীয় নথি প্রেরণ করেছিলেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি (ইউএসডিটি) এবং প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করেছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে।

আরও পড়ুন: দিল্লি বিস্ফোরণ মামলা: গ্রেফতার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান জাভেদ সিদ্দিকী

অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি চ্যাট বিনিময় এবং নথি স্থানান্তর পাওয়া গেছে, যা স্পষ্টভাবে গুপ্তচরবৃত্তির হদিশ মিলেছে। পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল (সিকিউরিটি) বিষ্ণুকান্ত গুপ্তা বলেছেন, গোয়েন্দা শাখা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত যাদব-সহ সন্দেহভাজন গুপ্তচরবৃত্তির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। অর্থের বিনিময়ে নওসেনা ভবন সম্পর্কিত সংবেদনশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার হ্যান্ডলারের কাছে ফাঁস করতে দেখা গেছে। বুধবার রাজস্থান সিআইডি গোয়েন্দারা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে যাদবকে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন: পাক গুপ্তচর সংস্থাকে তথ্য পাচার, ‘গুপ্তচরবৃত্তি’র অভিযোগে পাঞ্জাবে আটক এক নাবালক

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

“আমি দুই বারের বিধায়ক, তাও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন কেন?” SIR-এর দ্বিতীয় নোটিস পেয়ে সরব জাকির হোসেন

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য পাচার, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার বিশাল যাদব

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের এক কর্মী। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে বছরের পর বছর ধরে গুপ্তচরবৃত্তির কাজ করছিলেন ওই ব্যক্তি। এমনকী অপারেশন সিঁদুরের সময়েও দেশের প্রতিরক্ষার গোপন তথ্য পাচার করতেন তিনি। বুধবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

সূত্রের খবর, অভিযুক্ত যুবকের নাম বিশাল যাদব। হরিয়ানার রেওয়ারির পুনসিকা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ভারতীয় নৌসেনার দিল্লিতে অবস্থিত সদর দপ্তরে ক্লার্ক পদে কর্মরত ছিলেন যাদব। চর সন্দেহে তাঁর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করতেই গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মোবাইলের তথ্য থেকে জানা যায়, টাকার বিনিময়ে তিনি নৌসেনা এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের গোপন তথ্য পাকিস্তানের এক মহিলা এজেন্টকে পাচার করতেন। গোয়েন্দা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রিয়া শর্মা ছদ্মনামে কাজ করা এক পাকিস্তানি মহিলা হ্যান্ডলারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

আরও পড়ুন: ১৯-বছরের পুরনো মামলায় গ্রেফতার পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব, উত্তেজনা পটনায়

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জয়পুরের কেন্দ্রীয় জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে যাদবকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, তিনি অনলাইন গেমিংয়ে আসক্ত ছিলেন এবং যথেষ্ট আর্থিক দায়বদ্ধতার শিকার হয়েছিলেন। তার আসক্তি সমর্থন এবং ঋণ পরিশোধের জন্য, তিনি পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের কাছে গোপনীয় নথি প্রেরণ করেছিলেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি (ইউএসডিটি) এবং প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করেছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে।

আরও পড়ুন: দিল্লি বিস্ফোরণ মামলা: গ্রেফতার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান জাভেদ সিদ্দিকী

অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি চ্যাট বিনিময় এবং নথি স্থানান্তর পাওয়া গেছে, যা স্পষ্টভাবে গুপ্তচরবৃত্তির হদিশ মিলেছে। পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল (সিকিউরিটি) বিষ্ণুকান্ত গুপ্তা বলেছেন, গোয়েন্দা শাখা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত যাদব-সহ সন্দেহভাজন গুপ্তচরবৃত্তির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। অর্থের বিনিময়ে নওসেনা ভবন সম্পর্কিত সংবেদনশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার হ্যান্ডলারের কাছে ফাঁস করতে দেখা গেছে। বুধবার রাজস্থান সিআইডি গোয়েন্দারা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে যাদবকে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন: পাক গুপ্তচর সংস্থাকে তথ্য পাচার, ‘গুপ্তচরবৃত্তি’র অভিযোগে পাঞ্জাবে আটক এক নাবালক