পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: চলতি বছরে শেষে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন বিধি চালু করেছে। ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ বা ‘SIR’-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় সংশোধন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী-সহ অযোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের ভোট দানের অধিকার সুনিশ্চিত করতেই এই সংশোধন বলে মত কমিশনের। বিহারের পরে এক এক করে অন্যান্য রাজ্যগুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হবে। সমস্যা হল কমিশন যে নথিগুলিকে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসাবে চাইছে সেই নথিগুলি জোগাড় করতে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসাবে মোট ১১টি নথির তালিকা দিয়েছে কমিশন। অনেক ভোটারের কাছে এই ১১টি নথির কোনওটিই নেই। সেইসব ভোটারদের আবার অধিকাংশই প্রান্তিক এবং দরিদ্র। তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। সেকারণেই SIR-এর বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একাধিক দল। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা। এমতাবস্থায় SIR এর প্রতিবাদে ‘ইন্ডিয়া’-র শরিকদল ৯ জুলাই, বুধবার ‘বিহার বনধ’-এর ডাক দিয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই বনধকে সমর্থন জানিয়েছেন। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, যিনি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়ার সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান, তিনিও বনধকে সমর্থন জানিয়েছেন। ৭ জুলাই, সোমবার নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বনধে সামিল হওয়ার জন্য ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ৯ জুলাই ‘চাক্কা জ্যাম’-এর ডাক দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন এবং সরকারই মূলত নিশানায়। নির্বাচন কমিশন প্রতি ঘণ্টায় তাদের নির্দেশ পরিবর্তন করছে। বিএলও এবং যাচাইকরণের কাজে নিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।” নির্বাচন কমিশনের পাটনা অফিস সঠিকভাবে কাজ করছে না বলেও তিনি এদিন অভিযোগ করেন। ‘SIR’ নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি প্রতিনিধি দল ৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছিল বলে তিনি জানান। কিন্তু কমিশন এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।
আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ আরও এক ধাপ এগিয়ে অভিযোগ করেছেন, দুই গুজরাটি ( প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ) বিহারের প্রায় ৮ কোটি বাসিন্দার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
লালু প্রসাদ এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে লিখেছেন , “এই দুই গুজরাটি বিহার, সংবিধান এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের বিরোধী। উঠুন, আপনার আওয়াজ তুলুন। সংবিধান এবং ভারতের গণতন্ত্রকে বাঁচান।” ভোটের আগে বিহারে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরগরম। অনেকে আবার মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে এনআরসি চালু করার পদক্ষেপ। বিরোধীরা সেই আশঙ্কায় কমিশনের নতুন সংশোধনী বিধির বিরোধিতা করছেন।






























