২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিজেপি বাংলা ভাষা এবং বাঙালিদের ঘৃণার ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে, খুঁটিপুজোয় এসে বিজেপিকে আক্রমণ সায়নীর

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: মানুষের টাকা খরচ করে এতবার আসা-যাওয়ার দরকার কি! এর চেয়ে বরং এখানেই কিছু বাড়িঘর ভাড়া নিয়ে নিন। এখানেই থাকুন ২৬ অবধি। এত যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। মানুষের টাকা নষ্ট করার দরকার কি! মঙ্গলবার একুশে জুলাইয়ের খুঁটি পুজোতে এসে এভাবেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপিকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। প্রতিবছরই একুশে জুলাই উপলক্ষ্যে খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিন থেকেই মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ শুরু করেন তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও সেইমতো খুঁটি পুজোর আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি থেকে শুরু করে, রাজ্যসহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ প্রমুখ।

বিজেপি বাংলা ভাষা এবং বাঙালিদের ঘৃণার ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে, খুঁটিপুজোয় এসে বিজেপিকে আক্রমণ সায়নীর

আর এই দিন এই অনুষ্ঠান থেকেই প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে আসাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি এই যুবনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ। একুশে জুলাই-এর দুদিন আগেই রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে আসা নিয়ে তৃণমূল সাংসদকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসতেই পারেন। ২৬ শে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন যত এগোবে। ট্রেনে, বাসে, প্লেনে, অটোতে করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের নেতাদের আসা-যাওয়া বাড়বে।
তিনি বলেন, বাংলার মানুষ জানে বিজেপি বাংলা ভাষা এবং বাঙালিদের ঘৃণা করে। এই অবস্থায় তারা যতই বাংলায় আসুক কোনও লাভ হবে না। বিজেপি শাসিত রাজ্যে যদি বাঙালিদের নিরাপত্তা দিতে পারে, বাংলায় কথা বলার জন্য তাদের যদি বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে না দেওয়া হয়, তাহলেই আমরা প্রকৃত বুঝতে পারব আপনারা বাংলা এবং বাঙালিকে ভালোবাসেন।

আরও পড়ুন: সোনম ওয়াংচুকের গ্রেফতারিতে ক্ষোভ, বিজেপিকে আক্রমণ উদ্ধব ঠাকরের

এ দিন খুঁটিপুজোতে বিজেপিকে বাংলা বিরোধী আখ্যা দিয়েছেন সায়নী ঘোষ। তিনি বলেন, এবার ২১ জুলাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রেকর্ড ভিড় এবার ধর্মতলায় হবে একুশে জুলাই। বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এর জবাব দেবে।

আরও পড়ুন: গ্রেফতার Sonam Wangchuk! ‘তৈরিই ছিলাম’ বললেন লাদাখের ‘র‍্যাঞ্চো’

একুশের মঞ্চ থেকেই জাতীয় ও রাজ্যস্তরে আগামী দিনে কোন পথে চলবে তৃণমূল কংগ্রেস তার দিশা দেবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও পর্যন্ত মঞ্চের মাপ যা ঠিক করা হয়েছে তা হল মূল মঞ্চ, যেখানে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষস্তরের নেতা, নেত্রী, বিধায়ক, মন্ত্রী, সাংসদ, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বসবেন সেই মঞ্চের মাপ ৫২/২৪ ফুট। দ্বিতীয় মঞ্চটি ৪৮ ফুট/২৪ ফুট। তৃতীয় মঞ্চটির আয়তন ৪০ ফুট/২৪ ফুট। উচ্চতায় ৩টি মঞ্চ যথাক্রমে ১০, ১১ ও ১২ ফুট।

আরও পড়ুন: বেশি অপরাধ বজরং, আরএসএস-এর, বলেও সিদ্ধারামাইয়া নির্দোষ কোর্টে

দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি একাধিকবার জানিয়েছেন, এই দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯৯৩ সালের পর থেকে আমরা শহিদ স্মরণ করে আসছি। নতুন করে আর এ নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে প্রতিবারের মতো এবারও একুশের সমাবেশকে সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। মঞ্চের কাজ শুরু হল।

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ দেখার জন্য শহর জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে থাকছে জায়ান্ট স্ক্রিন। সমাবেশ-চত্বর ঘিরে থাকছে বরাবরের মতোই আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা-ব্যবস্থা। মঞ্চ ও তার আশেপাশের এলাকা মুড়ে ফেলা হবে সিসিটিভিতে। প্রতিবারই ভিড়ের নিরিখে একুশে তার নিজেই নিজের রেকর্ড ছাপিয়ে দেয়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। লোকসভা ও একাধিক বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল জয়ের পর দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভিড় আছড়ে পড়বে একুশের সমাবেশে। ১৮ জুলাই থেকে দলের কর্মী-সমর্থকরা শহরে আসতে শুরু করবেন।

প্রতিবারের মতন এবারও বিধাননগরে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক, রাজাহাট নিউ টাউনের ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকা, দক্ষিণে গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম, উত্তীর্ণ, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এ-ছাড়াও বড়বাজারের একাধিক ধর্মশালা বুক হয়ে গিয়েছে। এসব জায়গায় থাকবেন নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। থাকবে তাঁদের খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত। বিধানসভা ভোটের আগে এবারের একুশের শহিদ স্মরণকে সামনে রেখে শহিদ সমাবেশ সবদিক থেকেই রেকর্ড গড়তে চলেছে। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরের জ্যাম নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ। পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও থাকছে আলাদা বন্দোবস্ত। সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখছে কলকাতা পুলিশ।

সর্বধিক পাঠিত

এসআইআর: তামিলনাড়ুতে বাদ পড়ল ৭৪ লক্ষের বেশি নাম

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিজেপি বাংলা ভাষা এবং বাঙালিদের ঘৃণার ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে, খুঁটিপুজোয় এসে বিজেপিকে আক্রমণ সায়নীর

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: মানুষের টাকা খরচ করে এতবার আসা-যাওয়ার দরকার কি! এর চেয়ে বরং এখানেই কিছু বাড়িঘর ভাড়া নিয়ে নিন। এখানেই থাকুন ২৬ অবধি। এত যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। মানুষের টাকা নষ্ট করার দরকার কি! মঙ্গলবার একুশে জুলাইয়ের খুঁটি পুজোতে এসে এভাবেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপিকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। প্রতিবছরই একুশে জুলাই উপলক্ষ্যে খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিন থেকেই মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ শুরু করেন তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও সেইমতো খুঁটি পুজোর আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি থেকে শুরু করে, রাজ্যসহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ প্রমুখ।

বিজেপি বাংলা ভাষা এবং বাঙালিদের ঘৃণার ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে, খুঁটিপুজোয় এসে বিজেপিকে আক্রমণ সায়নীর

আর এই দিন এই অনুষ্ঠান থেকেই প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে আসাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি এই যুবনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ। একুশে জুলাই-এর দুদিন আগেই রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে আসা নিয়ে তৃণমূল সাংসদকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসতেই পারেন। ২৬ শে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন যত এগোবে। ট্রেনে, বাসে, প্লেনে, অটোতে করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের নেতাদের আসা-যাওয়া বাড়বে।
তিনি বলেন, বাংলার মানুষ জানে বিজেপি বাংলা ভাষা এবং বাঙালিদের ঘৃণা করে। এই অবস্থায় তারা যতই বাংলায় আসুক কোনও লাভ হবে না। বিজেপি শাসিত রাজ্যে যদি বাঙালিদের নিরাপত্তা দিতে পারে, বাংলায় কথা বলার জন্য তাদের যদি বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে না দেওয়া হয়, তাহলেই আমরা প্রকৃত বুঝতে পারব আপনারা বাংলা এবং বাঙালিকে ভালোবাসেন।

আরও পড়ুন: সোনম ওয়াংচুকের গ্রেফতারিতে ক্ষোভ, বিজেপিকে আক্রমণ উদ্ধব ঠাকরের

এ দিন খুঁটিপুজোতে বিজেপিকে বাংলা বিরোধী আখ্যা দিয়েছেন সায়নী ঘোষ। তিনি বলেন, এবার ২১ জুলাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রেকর্ড ভিড় এবার ধর্মতলায় হবে একুশে জুলাই। বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এর জবাব দেবে।

আরও পড়ুন: গ্রেফতার Sonam Wangchuk! ‘তৈরিই ছিলাম’ বললেন লাদাখের ‘র‍্যাঞ্চো’

একুশের মঞ্চ থেকেই জাতীয় ও রাজ্যস্তরে আগামী দিনে কোন পথে চলবে তৃণমূল কংগ্রেস তার দিশা দেবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও পর্যন্ত মঞ্চের মাপ যা ঠিক করা হয়েছে তা হল মূল মঞ্চ, যেখানে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষস্তরের নেতা, নেত্রী, বিধায়ক, মন্ত্রী, সাংসদ, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বসবেন সেই মঞ্চের মাপ ৫২/২৪ ফুট। দ্বিতীয় মঞ্চটি ৪৮ ফুট/২৪ ফুট। তৃতীয় মঞ্চটির আয়তন ৪০ ফুট/২৪ ফুট। উচ্চতায় ৩টি মঞ্চ যথাক্রমে ১০, ১১ ও ১২ ফুট।

আরও পড়ুন: বেশি অপরাধ বজরং, আরএসএস-এর, বলেও সিদ্ধারামাইয়া নির্দোষ কোর্টে

দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি একাধিকবার জানিয়েছেন, এই দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯৯৩ সালের পর থেকে আমরা শহিদ স্মরণ করে আসছি। নতুন করে আর এ নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে প্রতিবারের মতো এবারও একুশের সমাবেশকে সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। মঞ্চের কাজ শুরু হল।

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ দেখার জন্য শহর জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে থাকছে জায়ান্ট স্ক্রিন। সমাবেশ-চত্বর ঘিরে থাকছে বরাবরের মতোই আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা-ব্যবস্থা। মঞ্চ ও তার আশেপাশের এলাকা মুড়ে ফেলা হবে সিসিটিভিতে। প্রতিবারই ভিড়ের নিরিখে একুশে তার নিজেই নিজের রেকর্ড ছাপিয়ে দেয়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। লোকসভা ও একাধিক বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল জয়ের পর দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভিড় আছড়ে পড়বে একুশের সমাবেশে। ১৮ জুলাই থেকে দলের কর্মী-সমর্থকরা শহরে আসতে শুরু করবেন।

প্রতিবারের মতন এবারও বিধাননগরে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক, রাজাহাট নিউ টাউনের ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকা, দক্ষিণে গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম, উত্তীর্ণ, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এ-ছাড়াও বড়বাজারের একাধিক ধর্মশালা বুক হয়ে গিয়েছে। এসব জায়গায় থাকবেন নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। থাকবে তাঁদের খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত। বিধানসভা ভোটের আগে এবারের একুশের শহিদ স্মরণকে সামনে রেখে শহিদ সমাবেশ সবদিক থেকেই রেকর্ড গড়তে চলেছে। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরের জ্যাম নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ। পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও থাকছে আলাদা বন্দোবস্ত। সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখছে কলকাতা পুলিশ।