২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৎ মায়েরা অত্যচার থেকে বাঁচতে থানার দ্বারস্থ ছাত্রী

কুতুব উদ্দিন মোল্লা, ক্যানিং : মা মারা গিয়েছে। বাবা আবার বিয়ে করেছে। সেই সৎ মায়ের লাগামছাড়া অত্যাচারে জর্জরিত ক্যানিংয়ের থুমকাঠি জুনিয়র হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী।শনিবার স্কুল শেষে বাড়িতে না ফিরে সোজা ক্যানিং থানায় হাজির হয় ওই নাবালিকা ছাত্রী।কর্তব্যরত পুলিশ কাকুদের কাছে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে রীতিমতো ভেঙে পড়ে কান্নায়। সৎ মায়ের অত্যাচারে নাজেহাল ওই ছাত্রী। পরিত্রাণ পেতে ক্যানিং থানায় অভিযোগ জানায়।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, সৎ মায়ের অত্যাচার সে আর সহ্য করতে পারছে না।মাত্র দু’বছর বয়সে মা মারা গিয়েছে। সেই থেকে সে অসহায় হয়ে পড়ে।ওই ছাত্রীর দাবী, তার সৎ মা মামনি বিবি সারাদিন সংসারের সমস্ত কাজ করতে বাধ্য করায়।সমস্ত দিন হাড়ভাঙা খাটুনির সাথে চলে অকথ্য গালিগালাজ, মারধর। আরো অভিযোগ, কোন কাজে ভুল হলেই জুটত বেধড়ক মারধর।সমস্ত ঘটনার কথা পুলিশ কর্মীদের জানায় ওই ছাত্রী।

উল্লেখ্য এমন যন্ত্রণার পরও সহ্য করে চলছিল ওই ছাত্রী। কিন্তু শুক্রবার রাতেও নাবালিকা ছাত্রীকে প্রচন্ড মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারের চোটে গায়ে হাতে পায়ে যন্ত্রণায় ঘুমোতে পর্যন্ত পারেনি।অগত্যা এমন নির্মম যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে শনিবার সাহস করে স্কুল থেকে ফেরার পথে সোজা ক্যানিং থানায় গিয়ে হাজির হয় সে।এমনকি সৎ মায়ের অত্যাচার প্রসঙ্গে বাবা কে জানালে কখনই কিছু করেননি তার বাবা। বরং সৎ মায়ের বিরুদ্ধে নালিশ করলে কপালে জুটতো বেধড়ক মারধর।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে তার বাবা নজরুল মোল্লা ও সৎ মা মামনি বিবিকে। পাশাপাশি ওই ছাত্রীকে নাবালিকা ছাত্রীয়ের ব্যবস্থা করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় টহল ভ্যান দুমড়ে মুচড়ে ৫ পুলিশকর্মীর মৃত্যু; আশঙ্কাজনক ২

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সৎ মায়েরা অত্যচার থেকে বাঁচতে থানার দ্বারস্থ ছাত্রী

আপডেট : ৩ অগাস্ট ২০২৫, রবিবার

কুতুব উদ্দিন মোল্লা, ক্যানিং : মা মারা গিয়েছে। বাবা আবার বিয়ে করেছে। সেই সৎ মায়ের লাগামছাড়া অত্যাচারে জর্জরিত ক্যানিংয়ের থুমকাঠি জুনিয়র হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী।শনিবার স্কুল শেষে বাড়িতে না ফিরে সোজা ক্যানিং থানায় হাজির হয় ওই নাবালিকা ছাত্রী।কর্তব্যরত পুলিশ কাকুদের কাছে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে রীতিমতো ভেঙে পড়ে কান্নায়। সৎ মায়ের অত্যাচারে নাজেহাল ওই ছাত্রী। পরিত্রাণ পেতে ক্যানিং থানায় অভিযোগ জানায়।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, সৎ মায়ের অত্যাচার সে আর সহ্য করতে পারছে না।মাত্র দু’বছর বয়সে মা মারা গিয়েছে। সেই থেকে সে অসহায় হয়ে পড়ে।ওই ছাত্রীর দাবী, তার সৎ মা মামনি বিবি সারাদিন সংসারের সমস্ত কাজ করতে বাধ্য করায়।সমস্ত দিন হাড়ভাঙা খাটুনির সাথে চলে অকথ্য গালিগালাজ, মারধর। আরো অভিযোগ, কোন কাজে ভুল হলেই জুটত বেধড়ক মারধর।সমস্ত ঘটনার কথা পুলিশ কর্মীদের জানায় ওই ছাত্রী।

উল্লেখ্য এমন যন্ত্রণার পরও সহ্য করে চলছিল ওই ছাত্রী। কিন্তু শুক্রবার রাতেও নাবালিকা ছাত্রীকে প্রচন্ড মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারের চোটে গায়ে হাতে পায়ে যন্ত্রণায় ঘুমোতে পর্যন্ত পারেনি।অগত্যা এমন নির্মম যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে শনিবার সাহস করে স্কুল থেকে ফেরার পথে সোজা ক্যানিং থানায় গিয়ে হাজির হয় সে।এমনকি সৎ মায়ের অত্যাচার প্রসঙ্গে বাবা কে জানালে কখনই কিছু করেননি তার বাবা। বরং সৎ মায়ের বিরুদ্ধে নালিশ করলে কপালে জুটতো বেধড়ক মারধর।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে তার বাবা নজরুল মোল্লা ও সৎ মা মামনি বিবিকে। পাশাপাশি ওই ছাত্রীকে নাবালিকা ছাত্রীয়ের ব্যবস্থা করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।