পুবের, কলম ওয়েবডেস্ক: ভারতের নিন্দা না করে শুধু পাকিস্তান জিন্দাবাদ (Pakistan Zindabad) বললেই বা অন্য কোনও দেশের প্রশংসা করলেই তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা যায় না। কারণ এর মাধ্যমে কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সন্ত্রাসবাদী মনোভাব প্রকাশ পায় না। সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের হাইকোর্টের বিচারপতি রাকেশ কৈন্থালি এই কারণ দেখিয়ে এক নির্দেশে সুলেমান নামে জেলবন্দি অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
সুলেমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সির সাহায্যে সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি ছবি দিয়ে তার সঙ্গে পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধ্বনি সেট করে দেন। এই পোস্ট প্রচারিত হতেই সিরমৌর জেলার পাওন্টা সাহিব থানার পুলিশ গত মে মাসে সুলেমানকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৫২ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
পুলিশ অভিযোগ করে, সুলেমানের পোস্ট উত্তেজনাকর এবং দেশবিরোধী। এরপর সুলেমান ৮ জুলাই আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদালতে মামলা উঠতে সুলেমানের কৌসুলি অনুভব চোপড়া বলেন, তাঁর মক্কেলকে বিনা দোষে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার চার্জশিট যখন পেশ করা হয়ে গিয়েছে তখন অনর্থক সুলেমানকে গ্রেফতার করে রাখার কোনও মানে হয় না।
সরকারি কৌঁসুলি মুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, পোস্ট যখন করা হয়েছিল তখন ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক খুব অস্থির ছিল। ওইসময় পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধ্বনি তোলা দেশবিরোধী কাজ হয়েছিল। কিন্তু আদালত বলে, অভিযুক্তকে যে অপরাধে দোষী বানানোর চেষ্টা হচ্ছে তা প্রমাণের উপযুক্ত তথ্য বা নথি পুলিশের কাছে নেই। পুলিশ সুলেমানের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
কিন্তু অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখার কোনও যুক্তি নেই। কারণ চার্জশিট পেশ হয়ে যাওয়ার পর আর কিছু জিজ্ঞেস করার থাকে না। তাই অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হল।




























