পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ আজই ছিল হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার কথা। বলেছিলেন বাড়ি গিয়ে মন্দিরে পুজো দেবেন। ভাইফোঁটা নিয়েও উৎসাহী ছিলেন। বলেছিলেন, সুস্থ হয়ে গেছেন তিনি, বোনের কাছ নাড়ুর আবদারও রেখেছিলেন।
না হল না, কোনটাই। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯’টায় স্তব্ধ হয়ে গেল সব ইচ্ছে, আবদার, না ফেরার দেশে যাত্রা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। শেষ হল একটি অধ্যায়।
সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দলমত নির্বিশেষে সবপক্ষই। প্রায় সকলের কথা রাজনৈতিক জগতে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র ছিলেন তিনি। এক কথায় অভিভাবক বলা যায়।

শোকস্তব্ধ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, সুব্রতবাবু বাংলার রাজনীতির আইকন ছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়তো ৭৫ বছর বয়স হয়েছিল তবু মনে হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। ৫০-৬০ বছর ধরে রাজনীতি জীবনে অ্যাক্টিভ থেকেছেন সামাজিক জীবনে সকলের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল। দল বা বয়স কোনও কিছু উনি ভাবতেন না। ব্যক্তিগতভাবে অনেকের অভিভাবক ছিলেন। রাজনীতির ক্ষেত্রে তাদের মতো মানুষরা চলে যাওয়াটা একটা বড় গ্যাপ তৈরি করে দিল। বেশ কিছু নেতাকে আমরা ইদানিং হারিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় একটা গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। উনি যে পার্টির নেতা ছিলেন সে পার্টির যেমন ক্ষতি হল, নিঃসন্দেহে বাংলার রাজনীতির বড় ক্ষতি হল।’
বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের গলাতেও শোকের সুর। তিনি বলেন, ‘ সুব্রত মুখোপাধ্যায় আমার রাজনৈতিক জীবনের শিক্ষাগুরু ছিলেন। বাবার হাত ধরেই তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়। জীবনের প্রথম কাউন্সিলর টিকিট দলের মধ্যে বাধা থাকা সত্ত্বেও সুব্রত’দা আমাকে দিয়েছিলেন।’
শোকস্তব্ধ শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, ‘অভিভাবক সুলভ আচরণ ছিল, পিতৃতুল্য মানুষ ছিলেন তিনি। বর্তমান রাজনীতিতে এই ধরনের মানুষ দেখা যায় না’।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, “এটা বড় ক্ষতি। বাংলা তথা ভারতীয় রাজনীতির বড় ক্ষতি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি। ছাত্র পরিষদ করার সময় ওঁর নেতৃত্বে কাজ করেছি।”
‘রাজনৈতিক গুরুকে হারালাম’ বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
‘সুব্রত দা আমাদের উত্তম কুমার, ছোটবেলার হিরো’। ওঁনাকে দেখেই কাজ শিখেছি। সুব্রতা দার মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। প্রতিটা সহকর্মীর জন্য বড় ক্ষতি। এই ক্ষতি জীবনে পূরণ হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভেঙে পড়েছেন।”
‘সুব্রত নেই, বিশ্বাস করতে পারছি না’, মানস ভুইয়াঁ।
সাংসদ মালা রায় বলেন, “প্রিয় দা, সুব্রত দার হাত ধরে রাজনীতিতে আসি। ওঁনার নেতৃত্বে রাজনীতি করি। যখন মেয়র ছিলেন তখনও কাজ করেছি। তখন যে কাজ হয়েছে তার তুলনা হয় না। উনি যে দফতরে হাত দিয়েছেন, সেই দফতরই উন্নতি করেছে। মানসিক ভাবে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
রাজনীতিতে সিনিয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷ তিনি জানান শুধু বাংলা নয়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে ভারতীয় রাজনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল৷
সিঙ্গুর আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে শোকজ্ঞাপন করলেন বর্ষীয়ান নেতা রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।
‘সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বলে শোকজ্ঞাপন করলেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য।
রাজনীতির অঙ্গন ছাড়িয়ে টেলি সিরিয়ালেও অভিনয় করেছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর নায়িকা ছিলেন মুনমুন সেন৷ সেই ধারাবাহিক-এর নাম ছিল ‘চৌধুরী ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর নাম। আজ রবীন্দ্রসদনে এসে শ্রদ্ধা জানান মুনমুন সেন। অভিনেত্রী বলেন, ‘মনটা খুব খারাপ। কিছু বলার অবস্থায় নেই। খুব ভালো এক বন্ধুকে হারালাম’।




























