২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ নথি

​পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হাসিনা আমলের বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা সচিব

বসিরহাট, পশ্চিমবঙ্গ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে এবার বড়সড় সাফল্য পেলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার সন্ধ্যায় ( পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার অধীনে হাকিমপুর চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিএসএফের হাতে পাকড়াও হলেন বাংলাদেশের পূর্ববর্তী হাসিনা সরকারের এক উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিক।

​গ্রেফতার হওয়া ওই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম আফরুজ্জামান। জানা গেছে, তিনি পূর্ববর্তী সরকারে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সচিব পদে কর্মরত ছিলেন এবং একসময় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি-র দায়িত্বও সামলেছেন।

​ঝড়ের সুযোগে অনুপ্রবেশ: সূত্রের খবর, ২০২৪এর ৫ আগস্ট বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আত্মগোপন করেছিলেন আফরুজ্জামান। সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায় তিনি বেশ কয়েক মাস লুকিয়ে ছিলেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়-বৃষ্টি) চলছে, তারই সুযোগ নিয়ে তিনি গত শনিবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন।

​বিএসএফের তৎপরতায় পাকড়াওঃ কিন্তু ভারতের মাটিতে পা রাখতেই ১৪৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁকে আটক করার পর রাতেই স্বরূপনগর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

​আফরুজ্জামানের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে, যা বর্তমানে ভারতীয় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিএসএফ এবং পুলিশ যৌথভাবে রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের লিখিতভাবে অবহিত করেছে।

​কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ

​ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যেই ভারতের হাই কমিশনারের তরফে বাংলাদেশ হাই কমিশনারকে জানানো হয়েছে। দুই দেশের হাই কমিশনারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানও শুরু হয়েছে বলে খবর। বর্তমানে বাংলাদেশের ওই প্রাক্তন সচিবকে স্বরূপনগর থানায় রাখা হয়েছে।

​প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সদ্য ক্ষমতা দখল করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে তিনি দীর্ঘ কয়েক মাস আত্মগোপন করেছিলেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে সীমান্তে বিএসএফের তৎপরতার কারণে তাঁর সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে দুদিন আগেই বসিরহাট মহকুমা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ধৃত এই বাংলাদেশের পুলিশ অফিসার ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন রেহানার সিকিউরিটির অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

এসআইআর কাজের সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ, ‘এত কম সময়ে শেষ হবে তো?’ প্রধান বিচারপতি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ নথি

​পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হাসিনা আমলের বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা সচিব

আপডেট : ২৪ অগাস্ট ২০২৫, রবিবার

বসিরহাট, পশ্চিমবঙ্গ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে এবার বড়সড় সাফল্য পেলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার সন্ধ্যায় ( পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার অধীনে হাকিমপুর চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিএসএফের হাতে পাকড়াও হলেন বাংলাদেশের পূর্ববর্তী হাসিনা সরকারের এক উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিক।

​গ্রেফতার হওয়া ওই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম আফরুজ্জামান। জানা গেছে, তিনি পূর্ববর্তী সরকারে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সচিব পদে কর্মরত ছিলেন এবং একসময় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি-র দায়িত্বও সামলেছেন।

​ঝড়ের সুযোগে অনুপ্রবেশ: সূত্রের খবর, ২০২৪এর ৫ আগস্ট বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আত্মগোপন করেছিলেন আফরুজ্জামান। সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায় তিনি বেশ কয়েক মাস লুকিয়ে ছিলেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়-বৃষ্টি) চলছে, তারই সুযোগ নিয়ে তিনি গত শনিবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন।

​বিএসএফের তৎপরতায় পাকড়াওঃ কিন্তু ভারতের মাটিতে পা রাখতেই ১৪৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁকে আটক করার পর রাতেই স্বরূপনগর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

​আফরুজ্জামানের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে, যা বর্তমানে ভারতীয় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিএসএফ এবং পুলিশ যৌথভাবে রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের লিখিতভাবে অবহিত করেছে।

​কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ

​ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যেই ভারতের হাই কমিশনারের তরফে বাংলাদেশ হাই কমিশনারকে জানানো হয়েছে। দুই দেশের হাই কমিশনারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানও শুরু হয়েছে বলে খবর। বর্তমানে বাংলাদেশের ওই প্রাক্তন সচিবকে স্বরূপনগর থানায় রাখা হয়েছে।

​প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সদ্য ক্ষমতা দখল করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে তিনি দীর্ঘ কয়েক মাস আত্মগোপন করেছিলেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে সীমান্তে বিএসএফের তৎপরতার কারণে তাঁর সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে দুদিন আগেই বসিরহাট মহকুমা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ধৃত এই বাংলাদেশের পুলিশ অফিসার ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন রেহানার সিকিউরিটির অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন।