পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : রোবটিক সার্জারি, বোন ব্যঙ্ক, নয়া প্রাইভেট কেবিন, পুলিশ হাসপাতালের সিসিইউ, ক্যানসার হাবের অভ্যন্তরীন মেসিন বসানোর কাজ শুরু সহ ১৮টি নয়া পরিষেবা চালু করছে এসএসকেএম। মঙ্গলবার এই পরিষেবার উদ্বোধন করতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এসএসকেএম হাসপাতালে চালু হচ্ছে ‘বোন ব্যাঙ্ক’। সরকারি পরিকাঠামোয় হাড়ের জন্য এমন ব্যাঙ্ক পূর্ব ভারতের মধ্যে বাংলাতেই প্রথম। এসএসকেএমের অ্যানেক্স শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে বোন ব্যাঙ্ক গড়ে উঠছে। স্বাস্থ্যভবনের তরফে জানানো হয়েছে, এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী হাড়ের ব্যাঙ্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
বোন ব্যাঙ্ক প্রসঙ্গে এক চিকিৎসকের বক্তব্য, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হাত-পা ও শরীরের হাড় ভেঙে যাওয়া রোগী কিংবা ক্যানসার সংক্রমণের কারণে যাঁদের হাড় কেটে বাদ দিতে হয়, তাঁদের জন্য হাড় প্রতিস্থাপন প্রায় জীবনদায়ী ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে বাংলাতেই বহু রোগীকে এই ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য বাইরের রাজ্য, বিশেষত দক্ষিণ ভারতে কিংবা বেসরকারি সংস্থার উপর নির্ভর করতে হয়। এবার সেই রোগীদের এসএসকেএম হাসপাতালেই সংরক্ষিত হাড় ব্যবহার করে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
এবার থেকে সরকারি হাসপাতালে হবে রোবটিক সার্জারি। রাজ্য তথা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএমে শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে রোবটিক সার্জারির পরিষেবা। ইতিমধ্যে, হাসপাতালে বসেছে প্রায় ছয় কোটি টাকার রোবটিক মেশিন।
স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, পূর্বাঞ্চলে এই প্রথম কোনও সরকারি মেডিক্যাল কলেজে রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হবে। রোবটিক সার্জারির যন্ত্রাংশ এসএসকেএম হাসপাতালের বহির্বিভাগের বিল্ডিংয়ের পাঁচতলার অপারেশন থিয়েটারে বসানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বছর পাঁচেক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে রোবটিক সার্জারির সেটআপ তৈরির অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই শুরু হয় প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে, কয়েকজন চিকিৎসককে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় উডবার্ণ কেবিনে মোট বেড থাকবে ১৫৮টি। কেবিন থাকবে ১১০টি। ৪৮টি বেড থাকবে জেনারেল। এই ৪৮টি বেডে স্বাস্থ্য সাথীর মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ থাকছে। ৮টি বেড থাকছে সুপার ডিলাক্স। ১০২টি বেড ডিলাক্স। এসএসকেএম এর এই কর্তা বলেন, এই বিল্ডিংয়ের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
এদিকে উডবার্ন কেবিনে মাত্র ৩৫টি বেড রয়েছে। বেডের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই বিল্ডিংয়ের নাম দেওয়া হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালের ‘প্রাইভেট কেবিন বিল্ডিং’।
এছাড়া এসএসকেএম-এর এমারজেন্সি গেটের বিপরীতে তৈরি হওয়া ক্যানসার হাবের বিল্ডিং পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে।






















