২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে ‘ফ্রিডম মার্চ’

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: কেটে গেছে ৫ টি বসন্ত ! এখনও অন্ধকার কুঠুরিতে তপ্ত শ্বাস ফেলছে উমর খালিদ, শারজিল ইমাম , তাসলিম আহমদ সহ  বাকি ‘অভিযুক্তরা’।  জেল-মুক্তি দূর অস্ত, সামান্য জামিন চাইতে গেলেও সহ্য করতে হয় একরাশ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য। এক সময়ের মেধা পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ এখন জেলের ‘অন্ধকার কুঠুরি’। এই আবহে জেলবন্দি উমরদের মুক্তির দাবিতে ‘ফ্রিডম- মার্চের’ আয়োজন করল জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র ইউনিয়ন।  শনিবার সিএএ বিরোধী কর্মীদের জন্য সংহতি প্রকাশ করে  “স্বাধীনতা মার্চ” আয়োজন করেন তারা।

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে 'ফ্রিডম মার্চ'

উমর খালিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড উপলক্ষে আয়োজিত এই পদযাত্রাটি গঙ্গা ধাবা থেকে শুরু হয়ে সবরমতী ধাবায় শেষ হয় এবং এতে কারাবন্দী কর্মীদের পরিবার – তাসলিম আহমদের ছোট মেয়ে থেকে শুরু করে গুলফিশা ফাতিমা এবং শাদাব আহমেদের বৃদ্ধ বাবা-মা পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। তবে নজরকাড়া উপস্থিতি ছিল ছোট্ট সারার। বাবার মুক্তির দাবিতে চোখে জল ফেলতে দেখা যায় তাঁকে। রিনঝিন কণ্ঠে গেঁয়ে ওঠে ‘আমার বাবার মুক্তি দাও, আমার বাবার মুক্তি দাও’।

শুধু তাই নয়, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে ‘রিহা-কারও, রিহা কারও’ (মুক্তি দাও, মুক্তি দাও ) স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। এদিনের বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুনরায় সিএএ, ইএপিএ-বিরুদ্ধে সরব হন সকলে। বন্দীদের মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে 'ফ্রিডম মার্চ'

চোখ ভর্তি নোনাজল ও একবুক আশা নিয়ে মাঠে নামে কারাবন্দী শিক্ষার্থীদের পরিবার। সন্তানের হাহাকারে কেঁদে ওঠে গুলাফশা ফাতিমার আব্বা-মা। ন্যায়বিচার এবং তাদের প্রিয়জনদের মুক্তি দাবিতে চাতকের ন্যায় প্রহর গুনছেন তারা। বলা বাহুল্য, সম্প্রতি দিল্লি ২০২০ সালের হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত জেএনইউ-র প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামদের জামিন মামলার শুনানি পিছিয়েছে শীর্ষ আদালত।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির কথা ছিল। তবে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জামিন মামলা শুনানি পিছিয়ে দেয়। উমর, শারজিল ছাড়াও দিল্লির হিংসা মামলায় অভিযুক্ত মিরান হায়দার, গুলাফশা ফাতিমাও জামিনের আবেদন করেছিলেন। একসঙ্গে সব আবেদন শুনবে বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে 'ফ্রিডম মার্চ'

এই প্রেক্ষিতে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন জানান, আর কত দিন কারাবন্দি থাকবেন উমররা। জীবনের মুল্যবান ৫ টি বছর বিনা বিচারে জেলে ধুকছেন ওনারা। এর শেষ কোথায়? ভারতের বিচার-ব্যবস্থা এত ঠুনকোতো নয়। ছোট্ট সারাকে দেখুন, শুধু বাবার স্নেহের পরশ ফিরে পেতে মাঠে নেমেছে সে। সে তো রাজনৈতিক এই মার-প্যাঁচ কিছুই বোঝে না। বাবা জেলবন্দি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উজ্বল জীবনটাও ‘অন্ধকারে’ আছন্ন হয়ে যাচ্ছে।

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে 'ফ্রিডম মার্চ'

 

 

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

আরএসএস মানহানি মামলা: নতুন জামিনদার দিতে থানে আদালতে সশরীরে হাজিরা দিলেন রাহুল গান্ধী

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে ‘ফ্রিডম মার্চ’

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: কেটে গেছে ৫ টি বসন্ত ! এখনও অন্ধকার কুঠুরিতে তপ্ত শ্বাস ফেলছে উমর খালিদ, শারজিল ইমাম , তাসলিম আহমদ সহ  বাকি ‘অভিযুক্তরা’।  জেল-মুক্তি দূর অস্ত, সামান্য জামিন চাইতে গেলেও সহ্য করতে হয় একরাশ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য। এক সময়ের মেধা পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ এখন জেলের ‘অন্ধকার কুঠুরি’। এই আবহে জেলবন্দি উমরদের মুক্তির দাবিতে ‘ফ্রিডম- মার্চের’ আয়োজন করল জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র ইউনিয়ন।  শনিবার সিএএ বিরোধী কর্মীদের জন্য সংহতি প্রকাশ করে  “স্বাধীনতা মার্চ” আয়োজন করেন তারা।

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে 'ফ্রিডম মার্চ'

উমর খালিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড উপলক্ষে আয়োজিত এই পদযাত্রাটি গঙ্গা ধাবা থেকে শুরু হয়ে সবরমতী ধাবায় শেষ হয় এবং এতে কারাবন্দী কর্মীদের পরিবার – তাসলিম আহমদের ছোট মেয়ে থেকে শুরু করে গুলফিশা ফাতিমা এবং শাদাব আহমেদের বৃদ্ধ বাবা-মা পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। তবে নজরকাড়া উপস্থিতি ছিল ছোট্ট সারার। বাবার মুক্তির দাবিতে চোখে জল ফেলতে দেখা যায় তাঁকে। রিনঝিন কণ্ঠে গেঁয়ে ওঠে ‘আমার বাবার মুক্তি দাও, আমার বাবার মুক্তি দাও’।

শুধু তাই নয়, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে ‘রিহা-কারও, রিহা কারও’ (মুক্তি দাও, মুক্তি দাও ) স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। এদিনের বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুনরায় সিএএ, ইএপিএ-বিরুদ্ধে সরব হন সকলে। বন্দীদের মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে 'ফ্রিডম মার্চ'

চোখ ভর্তি নোনাজল ও একবুক আশা নিয়ে মাঠে নামে কারাবন্দী শিক্ষার্থীদের পরিবার। সন্তানের হাহাকারে কেঁদে ওঠে গুলাফশা ফাতিমার আব্বা-মা। ন্যায়বিচার এবং তাদের প্রিয়জনদের মুক্তি দাবিতে চাতকের ন্যায় প্রহর গুনছেন তারা। বলা বাহুল্য, সম্প্রতি দিল্লি ২০২০ সালের হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত জেএনইউ-র প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামদের জামিন মামলার শুনানি পিছিয়েছে শীর্ষ আদালত।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির কথা ছিল। তবে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জামিন মামলা শুনানি পিছিয়ে দেয়। উমর, শারজিল ছাড়াও দিল্লির হিংসা মামলায় অভিযুক্ত মিরান হায়দার, গুলাফশা ফাতিমাও জামিনের আবেদন করেছিলেন। একসঙ্গে সব আবেদন শুনবে বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে 'ফ্রিডম মার্চ'

এই প্রেক্ষিতে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন জানান, আর কত দিন কারাবন্দি থাকবেন উমররা। জীবনের মুল্যবান ৫ টি বছর বিনা বিচারে জেলে ধুকছেন ওনারা। এর শেষ কোথায়? ভারতের বিচার-ব্যবস্থা এত ঠুনকোতো নয়। ছোট্ট সারাকে দেখুন, শুধু বাবার স্নেহের পরশ ফিরে পেতে মাঠে নেমেছে সে। সে তো রাজনৈতিক এই মার-প্যাঁচ কিছুই বোঝে না। বাবা জেলবন্দি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উজ্বল জীবনটাও ‘অন্ধকারে’ আছন্ন হয়ে যাচ্ছে।

৫ বছর পরও জেলবন্দি! দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে 'ফ্রিডম মার্চ'