পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক : দেশের সমস্ত ধর্মস্থানে লাউডস্পিকার (Ban loudspeakers) এবং ঘন্টাধ্বনির ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ডাক দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রোহিংটন নরিম্যান। তিনি মনে করেন, এতে জনস্বাস্থ্য প্রচণ্ড প্রভাবিত হয়, একথা মনে রেখে এসব বন্ধ করা উচিত।
তিনি বলেছেন, দেখছি প্রতিটি ধর্মই নিজের প্রকাশে বড় বেশি উচ্চস্বরযুক্ত হয়ে যাচ্ছে। হয় কেউ মসজিদ থেকে মাইকে চেঁচিয়ে কিছু বলছেন। অথবা মন্দিরে তারস্বরে ঘন্টা বাজানো হচ্ছে। এতে শব্দদূষণ হয়। তাই অবিলম্বে এসব বন্ধ করা উচিত। শব্দদূষণ মানে তা মানুষের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে। আমার মতে প্রত্যেক রাজ্যে আগে ধর্মস্থানে মাইক এবং ঘন্টাধ্বনি বন্ধ করা উচিত।
সকাল থেকে এসব চালু হয় । মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হয়। অডিটোরিয়ামে লাউডস্পিকার (Ban loudspeakers) থাকুক। সেখানে একটা প্রেক্ষাগৃহে এই শব্দ সীমিত থাকে, তা বাইরে যায় না। তিরু অনন্তপুরমে কে এম বসির স্মারক ভাষণে নরিম্যান এই কথা বলেন। তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় প্রথমেই বলা হয়েছে, উই দ্য পিপল অফ ইণ্ডিয়া …। তার অর্থ সব ভারতীয়, সব নাগরিক।
শুধু সংখ্যাগুরুরা নন বা একটি সম্প্রদায়ের কথা বলা হয় নি। ভ্রাতৃত্বের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল ধর্মনিরপেক্ষতা। তাই সংবিধানে তিনটি কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনও রাষ্ট্রীয় ধর্ম থাকবে না। ধর্মীয় ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের তরফে কোনও বৈষম্য থাকবে না। প্রতিটি ধর্মের অনুশীলন করার প্রত্যেক নাগরিকের সমানাধিকার থাকবে। সংবিধানের ২৫ ধারায় বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৭ সালে একটি মামলায় রায় দেওয়ার সময়ে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরকেও বাদ দিয়ে ধর্মীয় প্রচারের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টের পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ধর্মীয় স্বাধীনতার ৫ টি সাংবিধানিক সীমারেখা রয়েছে।
সরকারি নির্দেশ, নৈতিকতা, স্বাস্থ্য, ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ধর্মনিরপেক্ষ কাজ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক কল্যাণ বা সংস্কার। তিনি ভ্রাতৃত্বে গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, দেশের সংহতি, ঐক্য এবং ব্যক্তিমর্যাদা রক্ষায় ভ্রাতৃত্বের কোনও বিকল্প নেই। ইদানীং স্কুল পাঠ্যবইতে বিকৃত ইতিহাস যুক্ত করে এই ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় পতাকার বিবর্তন এবং রংয়ের ব্যবহার খুবই প্রতীকী। সাদা রং শান্তি এবং সম্প্রীতির প্রতীক।
অশোক চক্র ধর্ম এবং নৈতিক আইনের প্রতীক।যখনই জাতীয় পতাকার দিকে তাকাবেন ভ্রাতৃত্বের কথা ভাববেন। সরকার এবং রাজনীতির ঊর্ধ্বে এই ভ্রাতৃত্বকে জীবিত সাংবিধানিক মূল্যবোধ হিসেবে গণ্য করতে তিনি উপস্থিত মানুষজনকে পরামর্শ দেন।





























