পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রায় এক বছর জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন সরফরাজ খান। ফর্ম হারানোর জন্য নয়, বিভিন্ন কারণে তিনিই দীর্ঘদিন জাতীয় দলে ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন। তবে অনেকেই মনে করেছিলেন ইংল্যান্ড সিরিজ কিংবা সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারতের হয়ে খেলার জন্য ডাক পাবেন সরফরাজ।
যার জন্য অতীতে তাকে বার বার অপদস্ত হতে হয়েছিল, সেই বাড়তি ওজন কমিয়ে সম্প্রতি বেশ ঝরঝরে হয়ে উঠেছিলেন। দিনের শেষে তবুও বিসিসিআইয়ের নির্বাচক প্রধানের নজর টানতে পারেননি সরফরাজ।দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নভেম্বরে শুরু হতে চলা টেস্ট সিরিজের আগে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ভারতের ‘এ’ দল।
ক্রিকেটপ্রেমীরা ভেবেছিলেন, কমপক্ষে ওই দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে সরফরাজকে সুযোগ দিয়ে তার ভক্তদের মুখ বন্ধ করে দেবেন নির্বাচকরা। কিন্তু, সেটাও হল না। যা নিয়ে নির্বাচক প্রধান আগরকর এবং কোচ গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনা। ভালো খেলার পরেও তাকে কেন জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, এ নিয়ে এরইমধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। এবার সেই প্রশ্ন নিয়ে সরাসরি মাঠে নেমে পড়লেন এআইএলআইএম-এ প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিসহ দেশের তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদরাও।
গত বছরের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে সরফরাজ শূন্য রানে আউট হলেও, পরের ইনিংসে ১৫০ রানের ইনিংস খেলে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেন। তবে বাকি দুই টেস্টে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে না পারায় মুম্বইয়ের এই প্রতিভাবান ব্যাটারকে জাতীয় দলে আর দ্বিতীয় সুযোগ দেননি নির্বাচকরা। এর মাঝে কড়া পরিশ্রমে শুরুতে ১০ কেজি, পরবর্তীতে আরও ১৭ কেজি ওজন কমিয়ে একেবারে ভিন্ন চেহারায় আর্বিভূত হন। নতুন চেহারায় বুচিবাবু ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ১১৪ বলে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেন। পরের ম্যাচে হরিয়ানার বিপক্ষে ১১২ বলে ১১১ রানের আরও একটি চমকপ্রদ ইনিংস খেলেন এই মুম্বইকর।
মে-জুনে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে মাত্র একটি ম্যাচ খেলে ৯২ রানের চমকপ্রদ ইনিংস খেলে দেন। সম্প্রতি রঞ্জিতে মরশুমের প্রথম ম্যাচে ৭৪ রান (দুই ইনিংসে) করে সরফরাজ আবারও নিজের ব্যাটিং জাত চেনালেন। অথচ তাতেও তিনি আগরকর, গম্ভীরের মন জিততে পারলেন না।
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম সফল সরফরাজ খান। তিনি ৫৬টি ম্যাচে ৬৫.১৯ গড়ে ব্যাটিং করেছেন। গতবছরই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে তার অভিষেক হয়। যেখানে তিনি ৬ ম্যাচে ৩৭১ রান করেছিলেন। যার মধ্যে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরি ছিল।
অথচ সেই মানের একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দলের বাইরে রাখা হয়। এ ব্যাপারে সম্প্রতি এক বোর্ডকর্তা জানিয়েছেন, ঋষভ পন্থকে ভারতের ‘এ’ দলে সুযোগ দিতেই সরফরাজের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি। এতে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, সদ্য চোট কাটিয়ে দলে ফেরা পন্থকে খেলিয়ে নির্বাচকরা তাকে তৈরি করে নিতে চাইলেও, ফর্মে থাকা সরফরাজকে সুযোগ দিতে রাজি নন।
বিসিসিআইয়ের ওই কর্তা আরও বলেন, ‘পন্থ খেলেন টেস্ট দলের পাঁচ নম্বর পজিশনে। ঘরোয়া ক্রিকেটে সেই একই পজিশনে খেলেন সরফরাজও। কোনও ম্যাচে পন্থকে পাওয়া না গেলে ওই জায়গায় ধ্রুব জুরেল কিংবা কেএল রাহুলকে দিয়ে খেলাতে চান গম্ভীর। প্রয়োজনে ওই পজিশনে রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংন্টন সুন্দর কিংবা নীতিশ রেড্ডিকেও খেলিয়ে দিতে পারেন তিনি। তাই সরফরাজকে টেস্ট দলে ফিরতে হলে ব্যাটিং পজিশন পালটাতে হবে। নইলে থাকতে হবে বাদের তালিকায়।
আর এতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এক পোস্টে লেখেন, ‘কেন সরফরাজকে ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে না?’ এদিন আর এক ধাপ এগিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র শামা মুহাম্মদ বলেন, ‘শুধুমাত্র পদবীর জন্যই কি সরফরাজ খানকে বাদ দেওয়া হচ্ছে? আমরা জানি, এ ব্যাপারে আমাদের কোচ গৌতম গম্ভীরের অবস্থান কী।’ এর মাধ্যমে শামা মুহাম্মদ পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সরফরাজ খানকে দলে সুযোগ দেবেন না, সেটাই স্বাভাবিক।




























