১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক হলে স্কুল বয়কট করুন: অভিভাবকদের মুসলিম নেতা

পুবের কলম, মুম্বাই: উত্তরপ্রদেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক। সোমবার এমনই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গোরক্ষপুরে ‘একতা যাত্রা’ এবং বন্দে মাতরম গাওয়ার অনুষ্ঠানে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, যে এই পদক্ষেপের লক্ষ্য তরুণ নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং ঐক্য জাগ্রত করা। তাঁর এই মন্তব্যের পরই নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যোগীর এই মন্তব্য নিয়ে বেশ কয়েকজন মুসলিম নেতা ও পণ্ডিতদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বন্দে মাতরমকে বাধ্যতামূলক করা নিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসাবে দেখছেন তাঁরা। জমিয়তে উলামা-ই-মহারাষ্ট্রের সভাপতি মাওলানা হালিম উল্লাহ কাসমি যোগীর মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। তিনি মুসলিম অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন, “যদি এই ধরনের প্রথা প্রয়োগ করা হয়, তবে তাদের সন্তানদের জেনো স্কুলে না পাঠান।” জমিয়তের সভাপতি স্পষ্ট করে জানান, “ভারতের সংবিধান আমাদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালণ ও বিশ্বাসের অধিকার দেয়। আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু মেনে নেওয়া যায় না। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, একমাত্র আল্লাহই ইবাদতের যোগ্য। গান গাওয়া বা অন্য কিছু পূজা করা আমাদের বিশ্বাসের বিরোধী।” তিনি অভিযোগ করেছেন, যে এই জাতীয় নির্দেশনা জাতীয় ঐক্য প্রচারের জন্য নয়, বরং মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘চাপ এবং উস্কানি’ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা বন্দে মাতরম গাইবে না। সরকার জোর দিলে আমরা তাদের স্কুল থেকে প্রত্যাহার করে নেব। মুসলমানরা সব সময় জাতির প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। এই ইস্যুটি কেবল আমাদের টার্গেট করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।” প্রসঙ্গত, এর আগে যখন উত্তরপ্রদেশ সরকার স্কুলে সূর্য নমস্কার বাধ্যতামূলক করেছিল, সেই সময় মাওলানা আলী মিয়া নদভী মুসলিমদের কাছে তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিন তিনি সাফ জানান, “আমি এখনও একই আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করছি, তাদের বিশ্বাস হারানোর চেয়ে অশিক্ষিত থাকাই ভাল।” এদিকে বন্দে মাতরম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। অনেক মুসলিম ধর্মীয় নেতা কিছু ব্যাখ্যায় মূর্তি পূজার সাথে যুক্ত থাকার কারণে এটি গাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তাঁদের যুক্তি, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গান হিসাবে স্বীকৃত, জাতীয় সংগীত হিসাবে নয়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, যে নাগরিকদের তাদের বিবেকের বিরুদ্ধে দেশাত্মবোধক গান গাইতে বাধ্য করা যায় না। রাজনৈতিক নেতারা প্রায়শই জাতীয়তাবাদের অভিব্যক্তি পরীক্ষা করার জন্য এসব করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক: ঘোষণা যোগীর
প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক হলে স্কুল বয়কট করুন: অভিভাবকদের মুসলিম নেতা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫, রবিবার

পুবের কলম, মুম্বাই: উত্তরপ্রদেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক। সোমবার এমনই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গোরক্ষপুরে ‘একতা যাত্রা’ এবং বন্দে মাতরম গাওয়ার অনুষ্ঠানে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, যে এই পদক্ষেপের লক্ষ্য তরুণ নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং ঐক্য জাগ্রত করা। তাঁর এই মন্তব্যের পরই নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যোগীর এই মন্তব্য নিয়ে বেশ কয়েকজন মুসলিম নেতা ও পণ্ডিতদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বন্দে মাতরমকে বাধ্যতামূলক করা নিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসাবে দেখছেন তাঁরা। জমিয়তে উলামা-ই-মহারাষ্ট্রের সভাপতি মাওলানা হালিম উল্লাহ কাসমি যোগীর মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। তিনি মুসলিম অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন, “যদি এই ধরনের প্রথা প্রয়োগ করা হয়, তবে তাদের সন্তানদের জেনো স্কুলে না পাঠান।” জমিয়তের সভাপতি স্পষ্ট করে জানান, “ভারতের সংবিধান আমাদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালণ ও বিশ্বাসের অধিকার দেয়। আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু মেনে নেওয়া যায় না। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, একমাত্র আল্লাহই ইবাদতের যোগ্য। গান গাওয়া বা অন্য কিছু পূজা করা আমাদের বিশ্বাসের বিরোধী।” তিনি অভিযোগ করেছেন, যে এই জাতীয় নির্দেশনা জাতীয় ঐক্য প্রচারের জন্য নয়, বরং মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘চাপ এবং উস্কানি’ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা বন্দে মাতরম গাইবে না। সরকার জোর দিলে আমরা তাদের স্কুল থেকে প্রত্যাহার করে নেব। মুসলমানরা সব সময় জাতির প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। এই ইস্যুটি কেবল আমাদের টার্গেট করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।” প্রসঙ্গত, এর আগে যখন উত্তরপ্রদেশ সরকার স্কুলে সূর্য নমস্কার বাধ্যতামূলক করেছিল, সেই সময় মাওলানা আলী মিয়া নদভী মুসলিমদের কাছে তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিন তিনি সাফ জানান, “আমি এখনও একই আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করছি, তাদের বিশ্বাস হারানোর চেয়ে অশিক্ষিত থাকাই ভাল।” এদিকে বন্দে মাতরম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। অনেক মুসলিম ধর্মীয় নেতা কিছু ব্যাখ্যায় মূর্তি পূজার সাথে যুক্ত থাকার কারণে এটি গাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তাঁদের যুক্তি, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গান হিসাবে স্বীকৃত, জাতীয় সংগীত হিসাবে নয়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, যে নাগরিকদের তাদের বিবেকের বিরুদ্ধে দেশাত্মবোধক গান গাইতে বাধ্য করা যায় না। রাজনৈতিক নেতারা প্রায়শই জাতীয়তাবাদের অভিব্যক্তি পরীক্ষা করার জন্য এসব করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক: ঘোষণা যোগীর