০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গলদ ধরা পড়লেই ফর্ম ফেরত! নতুন নির্দেশে চাপে বিএলওরা

 

ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ বলেই স্বস্তি পাচ্ছিলেন বহু বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। কিন্তু সেই স্বস্তি আর থাকল না। কারণ, কোনো গলদ নজরে আসলে এবার অ্যাপ মারফত ফর্ম ফেরত পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই ফর্ম ফের যাচাই করে আবার ডিজিটাইজ করতেই নতুন করে সংকটে পড়েছেন বিএলওরা।

কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, দু’দিন আগে বিএলও অ্যাপে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্যাব— ‘Sent Back by ARO/ERO’। এই ট্যাবেই ডিজিটাইজ করা ফর্মগুলি ফেরত আসছে বিএলওদের কাছে। ফলে প্রত্যেক ফর্ম খতিয়ে দেখে পুনরায় মাঠে নেমে তথ্য যাচাই করতে হচ্ছে তাঁদের।

এর মধ্যেই রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী দপ্তর নতুন নির্দেশিকা পাঠিয়েছে জেলাশাসকদের কাছে। এতে আবারও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফের যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

১. ২০০২-এ বয়স ৬০+ — নিজেদের পরিবারপ্রধান দাবি করা ভোটারদের বয়স ২০০২ সালে ৬০ বা তার বেশি ছিল কি না।

২. ৫০ বছরের ভোটারদের নামহীনতা — ২০০২ সালের তালিকায় বাবা/মায়ের নাম থাকলেও নিজে নাম না থাকা ভোটারদের জিজ্ঞেস করতে হবে কেন তখন নাম ছিল না।

৩. ম্যাপিং-এ অসঙ্গতি — বিএলও ম্যাপ করা বাবা-মায়ের নাম ও ২০২৫ সালের তালিকার তথ্য না মিললে তা ঘরে গিয়ে বা ফোনে যাচাই করতে হবে।
উত্তর ২৪ পরগনার এক বিএলও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক মাস ধরে প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি। শুরুতেই যদি এই নির্দেশ দেওয়া হতো, তাহলে অনেক ঝামেলা কমত।”

তবে সিইও দপ্তরের দাবি, যোগ্য ভোটার বাদ পড়বে না, আর অযোগ্য কেউ তালিকাভুক্তও হবেন না— এটি নিশ্চিত করতেই ফের যাচাইয়ের নির্দেশ। সময় বাড়ানো হয়েছে বলেই অতিরিক্ত সতর্কতা— এমনটাই তাঁরা জানাচ্ছেন।

তবে সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, কমিশনের হিসেবেই মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারশূন্য বুথের সংখ্যা যেখানে ২২৮০ ছিল, তা হঠাৎ কমে মাত্র ২০-তে নেমে এসেছে। ফলে গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই উঠছে নতুন প্রশ্ন।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

৫০০ সদস্যের পার্লামেন্টে বড় জয়ের দাবি: থাইল্যান্ডের নির্বাচনে এগিয়ে রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

গলদ ধরা পড়লেই ফর্ম ফেরত! নতুন নির্দেশে চাপে বিএলওরা

আপডেট : ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার

 

ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ বলেই স্বস্তি পাচ্ছিলেন বহু বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। কিন্তু সেই স্বস্তি আর থাকল না। কারণ, কোনো গলদ নজরে আসলে এবার অ্যাপ মারফত ফর্ম ফেরত পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই ফর্ম ফের যাচাই করে আবার ডিজিটাইজ করতেই নতুন করে সংকটে পড়েছেন বিএলওরা।

কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, দু’দিন আগে বিএলও অ্যাপে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্যাব— ‘Sent Back by ARO/ERO’। এই ট্যাবেই ডিজিটাইজ করা ফর্মগুলি ফেরত আসছে বিএলওদের কাছে। ফলে প্রত্যেক ফর্ম খতিয়ে দেখে পুনরায় মাঠে নেমে তথ্য যাচাই করতে হচ্ছে তাঁদের।

এর মধ্যেই রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী দপ্তর নতুন নির্দেশিকা পাঠিয়েছে জেলাশাসকদের কাছে। এতে আবারও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফের যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

১. ২০০২-এ বয়স ৬০+ — নিজেদের পরিবারপ্রধান দাবি করা ভোটারদের বয়স ২০০২ সালে ৬০ বা তার বেশি ছিল কি না।

২. ৫০ বছরের ভোটারদের নামহীনতা — ২০০২ সালের তালিকায় বাবা/মায়ের নাম থাকলেও নিজে নাম না থাকা ভোটারদের জিজ্ঞেস করতে হবে কেন তখন নাম ছিল না।

৩. ম্যাপিং-এ অসঙ্গতি — বিএলও ম্যাপ করা বাবা-মায়ের নাম ও ২০২৫ সালের তালিকার তথ্য না মিললে তা ঘরে গিয়ে বা ফোনে যাচাই করতে হবে।
উত্তর ২৪ পরগনার এক বিএলও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক মাস ধরে প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি। শুরুতেই যদি এই নির্দেশ দেওয়া হতো, তাহলে অনেক ঝামেলা কমত।”

তবে সিইও দপ্তরের দাবি, যোগ্য ভোটার বাদ পড়বে না, আর অযোগ্য কেউ তালিকাভুক্তও হবেন না— এটি নিশ্চিত করতেই ফের যাচাইয়ের নির্দেশ। সময় বাড়ানো হয়েছে বলেই অতিরিক্ত সতর্কতা— এমনটাই তাঁরা জানাচ্ছেন।

তবে সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, কমিশনের হিসেবেই মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারশূন্য বুথের সংখ্যা যেখানে ২২৮০ ছিল, তা হঠাৎ কমে মাত্র ২০-তে নেমে এসেছে। ফলে গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই উঠছে নতুন প্রশ্ন।