আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে এসআইআর-এর ইনিউমারেশন পর্ব। ঠিক চার দিন পর, ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। অথচ বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বহুদিনের দাবি—‘পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে কোটি কোটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’, ইনিউমারেশনের শেষ দিকে এসে তার কোনো প্রমাণই মিলছে না।
কমিশনের হিসাব বলছে, রাজ্যে এখন পর্যন্ত বাদ যাওয়া নামের সংখ্যা ৫৭ লক্ষের মতো—যার অধিকাংশই মৃত, স্থানান্তরিত বা ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকা ভোটার। সন্দেহভাজন ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের শুনানিতে হাজির হয়ে নথিপত্র দেখানোর সুযোগও থাকবে। কিন্তু কোটি কোটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর দাবি—তা কোথায়?
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে তাই নতুন উদ্বেগ—এসআইআর সম্পূর্ণ হলে অনুপ্রবেশ ইস্যু যে রাজনৈতিকভাবে আর কাজে লাগানো যাবে না! কারণ আগে থেকেই বলা হয়েছিল, এসআইআর হলেই সব অনুপ্রবেশকারীকে আলাদা করে ‘পুশব্যাক’ করা হবে। সে ক্ষেত্রে যদি তালিকা প্রকাশের পর এমন কোনও বিপুল সংখ্যা বাদ না যায়, তাহলে নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রধান ইস্যুই কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে।
ইনিউমারেশন যত এগিয়েছে, বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের আগের অতিরঞ্জিত দাবি—এক কোটি, দেড় কোটি বা দুই কোটি রোহিঙ্গা—ততটাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ফলে এখন দলের একাংশ অভিযোগ তুলছে, এসআইআর নাকি ঠিকমতো হয়নি, বিএলওরা সরকারের চাপে কাজ করেছে।
তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছে—দেশের সব সময়ে ভোটের কাজই রাজ্য সরকারি কর্মী বা শিক্ষকেরাই করেন।
এমন পরিস্থিতিতেও কেন্দ্রীয় সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এসআইআর-এর পক্ষেই জোর প্রচার চালিয়েছে। বুধবার লোকসভায় অমিত শাহ বলেন, “এসআইআরের বিরোধিতা করলে বিহারের মতো বাংলাতেও হারতে হবে।”
রাজ্যসভায় ডেরেক ও’ ব্রায়েন পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, যে ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচন হয়েছে, সেটিই যদি এখন ভুল বলে ধরা হয়, তাহলে কি কেন্দ্র পুনরায় লোকসভা ভোট নিতে রাজি?
এসআইআরের প্রথম পর্ব শেষ হতেই তাই সারা দেশের নজর এখন একটাই প্রশ্নে—বিজেপির ‘কোটি কোটি অনুপ্রবেশকারী’-র দাবি কতটা বাস্তব, আর কতটা রাজনৈতিক প্রচার!



























