০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ প্রকাশিত হচ্ছে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা, নতুন ভোটারের জন্য আধার তথ্য কার্যত বাধ্যতামূলক

 

আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত হতে চলেছে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা। এর সঙ্গেই শুরু হচ্ছে নতুন ভোটারদের আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে নতুন ভোটাররা ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে আবেদন জানাতে পারবেন। তবে এবছর এই ফর্মেই এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদল।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—৬ নম্বর ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীকে আধার সংক্রান্ত তথ্য জানাতেই হবে। আবেদনকারীর আধার নম্বর থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে, আর না থাকলেও সেই তথ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি জমা দিতে হবে একটি ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম, যেখানে আবেদনকারীর কোনও আত্মীয়ের নাম উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কোনও আত্মীয়ের নাম থাকলেও বর্তমানে তা বাদ পড়ে থাকলে, সেই তথ্যও ডিক্লারেশন ফর্মে জানাতে হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীর পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের স্বার্থেই আধার তথ্য চাওয়া হচ্ছে। নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন করার সময় আধার সংক্রান্ত তথ্য (থাকুক বা না থাকুক) না দিলে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে পরে শুনানির মুখোমুখি হতে হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ভারতীয় নাগরিক এবং ভোটার হওয়ার যোগ্য। ফলে অফলাইন কিংবা অনলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই ৬ নম্বর ফর্মে আধার তথ্য দেওয়া কার্যত বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়াও ভোটার হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বয়স প্রমাণ করাও আবশ্যিক। আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি—এটি প্রমাণের জন্য ফর্মে জন্মতারিখ উল্লেখ করতে হবে। জন্মতারিখ প্রমাণের জন্য যে ছ’টি নথি গ্রহণযোগ্য, তার মধ্যে রয়েছে জন্ম সনদ, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সরকার অনুমোদিত বোর্ডের মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক শংসাপত্র, পাসপোর্ট এবং আধার কার্ড। অর্থাৎ, জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবেও আধার কার্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে কমিশন।

তবে অনলাইন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কড়া। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর আধারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। আধারের সঙ্গে ফোন নম্বর সংযুক্ত না থাকলে অনলাইনে নতুন ভোটার হিসেবে আবেদনই করা যাবে না।

এই প্রেক্ষিতে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে আধার তথ্যকে কার্যত বাধ্যতামূলক করা হলেও, এসআইআরের ক্ষেত্রে কেন আধারকে নির্ধারিত নথি হিসেবে গ্রহণ করা হল না—তা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পরও এই বিষয়ে কমিশনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও কমিশনের তরফে ১২ নম্বর নথি হিসেবে আধার যুক্ত করা হলেও, তার সঙ্গে আগের ১১টি নথির মধ্যে অন্তত একটি দাখিল করার নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে।

এদিকে কমিশন সূত্রে খবর, আজ দুপুরের মধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। ভোটাররা অফলাইন ও অনলাইন—দু’ভাবেই দেখতে পারবেন তাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে কি না। যাঁদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের তালিকা প্রতিটি বুথে টাঙানো থাকবে। সোমবারই বুথ লেভেল অফিসারদের কাছে খসড়া তালিকার প্রাথমিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করার পরও যদি কারও নাম খসড়া তালিকায় না থাকে, তবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে। তবে এই সবের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ও কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলার প্রায় ১ কোটি ৮৬ লক্ষ ভোটার—যাঁরা শুনানির ডাক পেতে চলেছেন এবং যাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

ভুয়ো ভোটারে ছেয়েছে মোদির বারাণসী! ৯২০০ জনের তালিকা প্রকাশ করে এবার SIR নিয়ে তোপ বিজেপি মন্ত্রীরই

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আজ প্রকাশিত হচ্ছে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা, নতুন ভোটারের জন্য আধার তথ্য কার্যত বাধ্যতামূলক

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার

 

আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত হতে চলেছে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা। এর সঙ্গেই শুরু হচ্ছে নতুন ভোটারদের আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে নতুন ভোটাররা ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে আবেদন জানাতে পারবেন। তবে এবছর এই ফর্মেই এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদল।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—৬ নম্বর ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীকে আধার সংক্রান্ত তথ্য জানাতেই হবে। আবেদনকারীর আধার নম্বর থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে, আর না থাকলেও সেই তথ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি জমা দিতে হবে একটি ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম, যেখানে আবেদনকারীর কোনও আত্মীয়ের নাম উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কোনও আত্মীয়ের নাম থাকলেও বর্তমানে তা বাদ পড়ে থাকলে, সেই তথ্যও ডিক্লারেশন ফর্মে জানাতে হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীর পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের স্বার্থেই আধার তথ্য চাওয়া হচ্ছে। নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন করার সময় আধার সংক্রান্ত তথ্য (থাকুক বা না থাকুক) না দিলে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে পরে শুনানির মুখোমুখি হতে হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ভারতীয় নাগরিক এবং ভোটার হওয়ার যোগ্য। ফলে অফলাইন কিংবা অনলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই ৬ নম্বর ফর্মে আধার তথ্য দেওয়া কার্যত বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়াও ভোটার হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বয়স প্রমাণ করাও আবশ্যিক। আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি—এটি প্রমাণের জন্য ফর্মে জন্মতারিখ উল্লেখ করতে হবে। জন্মতারিখ প্রমাণের জন্য যে ছ’টি নথি গ্রহণযোগ্য, তার মধ্যে রয়েছে জন্ম সনদ, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সরকার অনুমোদিত বোর্ডের মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক শংসাপত্র, পাসপোর্ট এবং আধার কার্ড। অর্থাৎ, জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবেও আধার কার্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে কমিশন।

তবে অনলাইন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কড়া। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর আধারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। আধারের সঙ্গে ফোন নম্বর সংযুক্ত না থাকলে অনলাইনে নতুন ভোটার হিসেবে আবেদনই করা যাবে না।

এই প্রেক্ষিতে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে আধার তথ্যকে কার্যত বাধ্যতামূলক করা হলেও, এসআইআরের ক্ষেত্রে কেন আধারকে নির্ধারিত নথি হিসেবে গ্রহণ করা হল না—তা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পরও এই বিষয়ে কমিশনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও কমিশনের তরফে ১২ নম্বর নথি হিসেবে আধার যুক্ত করা হলেও, তার সঙ্গে আগের ১১টি নথির মধ্যে অন্তত একটি দাখিল করার নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে।

এদিকে কমিশন সূত্রে খবর, আজ দুপুরের মধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। ভোটাররা অফলাইন ও অনলাইন—দু’ভাবেই দেখতে পারবেন তাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে কি না। যাঁদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের তালিকা প্রতিটি বুথে টাঙানো থাকবে। সোমবারই বুথ লেভেল অফিসারদের কাছে খসড়া তালিকার প্রাথমিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করার পরও যদি কারও নাম খসড়া তালিকায় না থাকে, তবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে। তবে এই সবের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ও কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলার প্রায় ১ কোটি ৮৬ লক্ষ ভোটার—যাঁরা শুনানির ডাক পেতে চলেছেন এবং যাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।