নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ সরকার। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এই নীতিমালায় নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান (রিটেইনার) নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, দুই ধরনের ব্যক্তি এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন—এক, সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং দুই, সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে যাঁদের প্রার্থিতা গৃহীত হয়েছে। লাইসেন্স পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, সেগুলিও মানতে হবে।
তবে এই বিশেষ ক্ষেত্রে পিস্তল, রিভলভার বা রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লক্ষ টাকা আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা থাকে, তা শিথিল করা হয়েছে। লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার জন্য সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্র বা স্বয়ংক্রিয় ও সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হবে না।
এই লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত। এরপর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। যদিও অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক চাইলে এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারে। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কেউ আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীতিমালায় গানম্যান বা রিটেইনার নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত শর্ত রাখা হয়েছে। লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তি যদি নিজে অস্ত্র কিনতে অনিচ্ছুক বা অসমর্থ হন, সে ক্ষেত্রে বৈধ লাইসেন্সধারী ও অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত একজন ব্যক্তিকে গানম্যান হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন। রিটেইনারকে অবশ্যই ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে, অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও সরকারি হাসপাতালের ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকতে হবে। অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার রাখতে পারবেন এবং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে তাঁর মেয়াদও শেষ হবে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন দূতাবাস। নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে তারা জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশও সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে মার্কিন নাগরিকদের ভিড় ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা, চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



























