০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব: কড়া বার্তা ইরান সেনাবাহিনীর, চরম উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক সামরিক হামলার হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে এবার পাল্টা কড়া সতর্কবার্তা দিল ইরানের সেনাবাহিনী। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে কোনও আক্রমণ হলে তার তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। শুক্রবার ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।
ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তাদের সামরিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। গত বুধবারই ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শত্রুপক্ষের সামান্য উসকানিও উপেক্ষা করা হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“শত্রুপক্ষ যদি নতুন করে কোনও বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় এবং আবার ভুল হিসাব করে, তবে আমরা মুহূর্তের মধ্যেই তার জবাব দেব।”
আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরীগুলি অত্যন্ত দুর্বল। তাঁর এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পরিকাঠামোয় হামলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, ইরানে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তাদের বিশ্বাস ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে।

সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন–তেহরান টানাপোড়েন নতুন করে চরমে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, গোটা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

যুদ্ধের দামামা: ইরানকে সহায়তায় এগিয়ে এল হাজার হাজার ইরাকি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব: কড়া বার্তা ইরান সেনাবাহিনীর, চরম উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

আপডেট : ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক সামরিক হামলার হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে এবার পাল্টা কড়া সতর্কবার্তা দিল ইরানের সেনাবাহিনী। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে কোনও আক্রমণ হলে তার তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। শুক্রবার ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।
ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তাদের সামরিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। গত বুধবারই ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শত্রুপক্ষের সামান্য উসকানিও উপেক্ষা করা হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“শত্রুপক্ষ যদি নতুন করে কোনও বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় এবং আবার ভুল হিসাব করে, তবে আমরা মুহূর্তের মধ্যেই তার জবাব দেব।”
আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরীগুলি অত্যন্ত দুর্বল। তাঁর এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পরিকাঠামোয় হামলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, ইরানে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তাদের বিশ্বাস ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে।

সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন–তেহরান টানাপোড়েন নতুন করে চরমে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, গোটা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।