০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় নিরস্ত্রীকরণ ও বিদেশি শাসন মানতে নারাজ হামাস নেতা

 

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের এক শীর্ষ নেতা স্পষ্টভাবে গাজায় অস্ত্র সমর্পণ বা বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। চলমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবির বিরুদ্ধে তিনি কড়া অবস্থান নেন।
রবিবার দোহায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে হামাসের প্রাক্তন প্রধান ও বর্তমানে সংগঠনটির প্রবাসী দপ্তরের প্রধান খালেদ মাশাল এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব চলতে থাকলে সশস্ত্র প্রতিরোধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা ‘অগ্রহণযোগ্য’।
মাশাল বলেন, “প্রতিরোধ, তার অস্ত্র এবং যারা এই লড়াই চালিয়েছে, তাদের অপরাধী বানানো আমরা কখনও মেনে নিতে পারি না। যতদিন দখলদারিত্ব থাকবে, ততদিন প্রতিরোধ থাকবে। প্রতিরোধ দখলাধীন জনগণের অধিকার— যা জাতিগুলির গর্ব।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, গাজায় যে কোনও ধরনের বিদেশি শাসন হামাস কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।
হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কখনও অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে সম্মতি দেয়নি সংগঠনটি। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের জাতীয় নীতিতে অটল এবং কোনও ধরনের অভিভাবকত্ব, বাইরের হস্তক্ষেপ বা ম্যান্ডেট শাসনের প্রত্যাবর্তন প্রত্যাখ্যান করি। ফিলিস্তিনিদের শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই। গাজা গাজার মানুষের এবং ফিলিস্তিনের অংশ।”
মাশাল তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-কে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে গাজার পুনর্গঠন ও প্রায় ২২ লক্ষ বাসিন্দার জন্য ত্রাণ সহায়তা সহজ হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যার আওতায় গাজার সব সীমান্তপথ খুলে দেওয়ার কথা ছিল। যদিও হামাস চুক্তি মানলেও ইসরায়েল এখনও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং অধিকাংশ সীমান্ত বন্ধ রেখে ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লক্ষ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসেবে পুনর্গঠনে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর শুনানির আগে নবান্নের বড় পদক্ষেপ, ৮,৫০৫ গ্রুপ-বি আধিকারিক দেওয়ার ঘোষণা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

গাজায় নিরস্ত্রীকরণ ও বিদেশি শাসন মানতে নারাজ হামাস নেতা

আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার

 

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের এক শীর্ষ নেতা স্পষ্টভাবে গাজায় অস্ত্র সমর্পণ বা বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। চলমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবির বিরুদ্ধে তিনি কড়া অবস্থান নেন।
রবিবার দোহায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে হামাসের প্রাক্তন প্রধান ও বর্তমানে সংগঠনটির প্রবাসী দপ্তরের প্রধান খালেদ মাশাল এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব চলতে থাকলে সশস্ত্র প্রতিরোধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা ‘অগ্রহণযোগ্য’।
মাশাল বলেন, “প্রতিরোধ, তার অস্ত্র এবং যারা এই লড়াই চালিয়েছে, তাদের অপরাধী বানানো আমরা কখনও মেনে নিতে পারি না। যতদিন দখলদারিত্ব থাকবে, ততদিন প্রতিরোধ থাকবে। প্রতিরোধ দখলাধীন জনগণের অধিকার— যা জাতিগুলির গর্ব।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, গাজায় যে কোনও ধরনের বিদেশি শাসন হামাস কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।
হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কখনও অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে সম্মতি দেয়নি সংগঠনটি। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের জাতীয় নীতিতে অটল এবং কোনও ধরনের অভিভাবকত্ব, বাইরের হস্তক্ষেপ বা ম্যান্ডেট শাসনের প্রত্যাবর্তন প্রত্যাখ্যান করি। ফিলিস্তিনিদের শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই। গাজা গাজার মানুষের এবং ফিলিস্তিনের অংশ।”
মাশাল তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-কে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে গাজার পুনর্গঠন ও প্রায় ২২ লক্ষ বাসিন্দার জন্য ত্রাণ সহায়তা সহজ হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যার আওতায় গাজার সব সীমান্তপথ খুলে দেওয়ার কথা ছিল। যদিও হামাস চুক্তি মানলেও ইসরায়েল এখনও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং অধিকাংশ সীমান্ত বন্ধ রেখে ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লক্ষ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসেবে পুনর্গঠনে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।