পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-কে দেওয়ার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। এই তদন্তের বিরোধিতা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেও বুধবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আপাতত এনআইএ-র তদন্ত চলবে। তবে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রযোজ্য কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাই কোর্ট।
শুনানিতে আদালত জানায়, ইতিমধ্যেই এনআইএ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। ফলে এই মুহূর্তে তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে ইউএপিএ-র কঠোর ধারা প্রয়োগের আগে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। তাই এনআইএ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হাই কোর্টে মুখবন্ধ খামে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে, যেখানে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—এই ঘটনায় ইউএপিএ প্রযোজ্য করার মতো উপাদান আদৌ রয়েছে কি না।
এদিনের শুনানিতে এনআইএ দাবি করে, হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ প্রয়োজনীয় নথি হস্তান্তর করেনি। রাজ্যের তরফে পাল্টা জানানো হয়, ইতিমধ্যেই ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্তে গাফিলতি হয়নি। তবে কেন্দ্রের যুক্তি, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া সংবেদনশীল এলাকায় এমন হিংসার ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগজনক, তাই এনআইএ-র স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত মাসে বেলডাঙায় দফায় দফায় অশান্তি ছড়ায়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রেল ও সড়ক অবরোধ এবং সাংবাদিক নিগ্রহের মতো ঘটনা ঘটে। সেই প্রেক্ষিতেই মামলার তদন্ত এনআইএ-র হাতে তুলে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট হল—তদন্ত চলবে, তবে ইউএপিএ প্রয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হাই কোর্টই।





























