১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলায় ভোটের প্রস্তুতি জোরদার: আধাসেনার হিসাব কষছে কমিশন, স্পর্শকাতর বুথের তালিকা চাইলেন জ্ঞানেশ কুমার

পশ্চিমবঙ্গে এক দফায় বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর। সেই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে রাজ্যে কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যাবে, তার উপর। ফলে দিল্লিতে কমিশনের অন্দরে এখন পুরোদমে চলছে বাহিনীর হিসাব-নিকাশ।
এই প্রেক্ষিতেই অবিলম্বে রাজ্যের সব স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকার তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের খবর, এই তালিকা হাতে পাওয়ার পরই ভোটের দফা এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।
নির্বাচনের সময়ে প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অশান্তি এড়াতে অতিরিক্ত বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে। তাই কোন জেলায় কতগুলি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে, তা দ্রুত চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু জেলা প্রশাসন নয়, ভোটে নজরদারির দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন এজেন্সির কাছেও এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।
সাধারণত ভোটের অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয় এবং চার মাস আগে সেক্টর অফিসার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরে এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে সেই কাজ সময়মতো শুরু করা যায়নি। বর্তমানে এসআইআরের কাজ প্রায় শেষের দিকে পৌঁছনোয় কমিশন এবার দ্রুত ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। অবিলম্বে সেক্টর অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেক্টর অফিসারকে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২টি বুথ ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কোথাও ‘অতি স্পর্শকাতর’ বুথ থাকলে, সেটিও আলাদাভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে তিন দফায় ভোট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গে এক দফায় এবং দক্ষিণবঙ্গে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হতে পারে। নির্বাচনি হিংসার অতীত রেকর্ড বিচার করে কমিশনের নজরে রয়েছে মোট সাতটি জেলা—উত্তরবঙ্গে কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণবঙ্গে দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম।
এছাড়া, ভোটের অন্তত এক মাস আগে থেকেই প্রতিটি জেলাকে সপ্তাহভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী, জেলাগুলি নিয়মিতভাবে দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠাচ্ছে। স্পর্শকাতর বুথের তালিকা হাতে পাওয়ার পর এই রিপোর্টগুলির সঙ্গে তুলনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারও প্রায় সেই হিসাব ধরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে বাহিনী সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেছেন জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর দল। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে রাজ্যে নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

বাংলাদেশে আপাতত শান্তিপূর্ণভাবে চলছে ভোট: সকাল থেকেই বুথমুখী মানুষের ঢল

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাংলায় ভোটের প্রস্তুতি জোরদার: আধাসেনার হিসাব কষছে কমিশন, স্পর্শকাতর বুথের তালিকা চাইলেন জ্ঞানেশ কুমার

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার

পশ্চিমবঙ্গে এক দফায় বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর। সেই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে রাজ্যে কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যাবে, তার উপর। ফলে দিল্লিতে কমিশনের অন্দরে এখন পুরোদমে চলছে বাহিনীর হিসাব-নিকাশ।
এই প্রেক্ষিতেই অবিলম্বে রাজ্যের সব স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকার তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের খবর, এই তালিকা হাতে পাওয়ার পরই ভোটের দফা এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।
নির্বাচনের সময়ে প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অশান্তি এড়াতে অতিরিক্ত বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে। তাই কোন জেলায় কতগুলি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে, তা দ্রুত চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু জেলা প্রশাসন নয়, ভোটে নজরদারির দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন এজেন্সির কাছেও এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।
সাধারণত ভোটের অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয় এবং চার মাস আগে সেক্টর অফিসার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরে এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে সেই কাজ সময়মতো শুরু করা যায়নি। বর্তমানে এসআইআরের কাজ প্রায় শেষের দিকে পৌঁছনোয় কমিশন এবার দ্রুত ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। অবিলম্বে সেক্টর অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেক্টর অফিসারকে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২টি বুথ ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কোথাও ‘অতি স্পর্শকাতর’ বুথ থাকলে, সেটিও আলাদাভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে তিন দফায় ভোট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গে এক দফায় এবং দক্ষিণবঙ্গে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হতে পারে। নির্বাচনি হিংসার অতীত রেকর্ড বিচার করে কমিশনের নজরে রয়েছে মোট সাতটি জেলা—উত্তরবঙ্গে কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণবঙ্গে দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম।
এছাড়া, ভোটের অন্তত এক মাস আগে থেকেই প্রতিটি জেলাকে সপ্তাহভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী, জেলাগুলি নিয়মিতভাবে দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠাচ্ছে। স্পর্শকাতর বুথের তালিকা হাতে পাওয়ার পর এই রিপোর্টগুলির সঙ্গে তুলনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারও প্রায় সেই হিসাব ধরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে বাহিনী সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেছেন জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর দল। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে রাজ্যে নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন।