১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে আপাতত শান্তিপূর্ণভাবে চলছে ভোট: সকাল থেকেই বুথমুখী মানুষের ঢল

 

নির্ধারিত সময়েই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় (বাংলাদেশের স্থানীয় সময়) শুরু হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এখনও পর্যন্ত বড় কোনও অশান্তির খবর না থাকায় মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। উৎসাহের সঙ্গে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিজেদের ভোট দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বও।
ঢাকার বেরাইদ এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি ঢাকার একটি কেন্দ্রে ভোট দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান শফিকুর রহমানও।
তবে সামান্য কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র খবর অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চার জনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার একটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোটও। গত নভেম্বরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তার ভিত্তিতেই চারটি বিষয়ের উপর একটি প্রশ্নে গণভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন। গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এবারের নির্বাচনে দেশের মোট ৫০টি নথিভুক্ত ও স্বীকৃত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। প্রার্থী সংখ্যা ২,০২৮ জন, যার মধ্যে মহিলা প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
আওয়ামী লীগ ‘নিষিদ্ধ’ থাকায় এবারের নির্বাচনে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও প্রবাসী, প্রবীণ-সহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

বাংলাদেশে আপাতত শান্তিপূর্ণভাবে চলছে ভোট: সকাল থেকেই বুথমুখী মানুষের ঢল

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাংলাদেশে আপাতত শান্তিপূর্ণভাবে চলছে ভোট: সকাল থেকেই বুথমুখী মানুষের ঢল

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার

 

নির্ধারিত সময়েই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় (বাংলাদেশের স্থানীয় সময়) শুরু হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এখনও পর্যন্ত বড় কোনও অশান্তির খবর না থাকায় মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। উৎসাহের সঙ্গে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিজেদের ভোট দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বও।
ঢাকার বেরাইদ এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি ঢাকার একটি কেন্দ্রে ভোট দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান শফিকুর রহমানও।
তবে সামান্য কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র খবর অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চার জনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার একটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোটও। গত নভেম্বরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তার ভিত্তিতেই চারটি বিষয়ের উপর একটি প্রশ্নে গণভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন। গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এবারের নির্বাচনে দেশের মোট ৫০টি নথিভুক্ত ও স্বীকৃত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। প্রার্থী সংখ্যা ২,০২৮ জন, যার মধ্যে মহিলা প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
আওয়ামী লীগ ‘নিষিদ্ধ’ থাকায় এবারের নির্বাচনে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও প্রবাসী, প্রবীণ-সহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।