পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম্’-এর সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া নির্দেশিকাকে “ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত” বলে অভিহিত করল দেশের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ। সংগঠনের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক আদেশে সরকারি অনুষ্ঠান এবং স্কুলে জাতীয় সংগীতের আগে বন্দে মাতরম্-এর ছয়টি স্তবকই গাইবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৌলানা আরশাদ মাদানি ‘এক্স’ পোস্টে জানান, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরম্-এর কিছু স্তবক এমন বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা যা মাতৃভূমিকে দেবীরূপে চিত্রিত করে। যেহেতু মুসলমানরা শুধুমাত্র একশ্বরবাদী (একেশ্বরবাদী) এবং তারা শুধুমাত্র আল্লাহ্র ইবাদত করেন, তাই এই গানটি গাইতে বাধ্য করা ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানে। মাদানি বলেন, “একজন মুসলমান শুধুমাত্র আল্লাহ্র উপাসনা করেন। তারা সবকিছু সহ্য করতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরিক করা (অংশীদার করা) তারা মেনে নিতে পারেন না।”
বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপকে “একতরফা এবং জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত” বলে তোপ দেগেছেন জমিয়ত সভাপতি। তিনি দাবি করেন, এটি শুধুমাত্র ভারতের সংবিধানের গ্যারান্টিযুক্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ নয়, বরং সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার একটি সুশৃঙ্খল প্রচেষ্টাও বটে। মাদানির বক্তব্য, “দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত পরিমাপ স্লোগানে নয়, বরং চরিত্র এবং ত্যাগের মধ্যে নিহিত থাকে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মুসলমানদের ঐতিহাসিক সংগ্রাম এবং জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের কার্যকলাপে দেখা যায়।” এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের শান্তি, ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে এবং সংবিধানের চেতনাকে খর্ব করে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ।




























