দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার অন্তত ১২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটনাই বিজেপি শাসিত রাজ্যে ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোথাও গণপিটুনি, কোথাও একা ডেকে নিয়ে মারধর, আবার কোথাও রেললাইন থেকে দেহ উদ্ধার—বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে এই মৃত্যুগুলি ঘটেছে বলে দাবি। জোর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ওড়িশা থেকে অত্যাচারের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি এসেছে বলে পর্ষদের দাবি। অনেক ক্ষেত্রে বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে হেনস্তা বা এমনকি ‘পুশ ব্যাক’ করে সীমান্তে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি পুনে-তে পুরুলিয়ার শ্রমিক সুখেন মাহাতর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মোট ১২ জনের মধ্যে চার জনের মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এছাড়া ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, অসম, রাজস্থান, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু ও ঝাড়খণ্ড-এ বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। গত ডিসেম্বর মাসে ওড়িশার সম্বলপুরে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে গণপিটুনিতে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুয়েল রানার মৃত্যুর অভিযোগও ওঠে।
পর্ষদের তথ্য বলছে, সম্প্রতি ১১৪৭টি শ্রমিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে অত্যাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে। দিল্লি, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, বিহারসহ একাধিক রাজ্য থেকে অভিযোগ এসেছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশই ওড়িশার বলে দাবি।
এই প্রসঙ্গে পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, কেন পরিযায়ী শ্রমিকদের ভাষা বা পরিচয়ের কারণে হেনস্তা হতে হবে। একইসঙ্গে ভিন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আগেই বলেছেন, অন্য রাজ্যের বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গে কাজ করেন শান্তিপূর্ণভাবে, তাহলে বাংলার শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে কেন হেনস্তার শিকার হবেন—এই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।



























