২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমজানে ‘জাকাত’ সংগ্রহে সরকারি নিয়ন্ত্রণ: উপত্যকায় শাসক ও বিরোধী চাপানউতোর

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতিওয়ার জেলায় রমজান মাসে দান বা ‘জাকাত’ সংগ্রহের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তবে এই ইস্যুতে দেখা গেল শাসক ও বিরোধী চাপানউতোর। দলের নেতা ও মিত্রদের সমালোচনার মুখে পড়েও জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকাকে সমর্থন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। একইসঙ্গে তাঁর সুর শোনা গেল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মার কণ্ঠেও।

কিশতিওয়ারের জেলাশাসক পঙ্কজ কুমার শর্মা সম্প্রতি ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’র (BNSS) ১৬৩ ধারার অধীনে একটি নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে জানানো হয়, রমজান মাসে জাকাত বা সাদাকাহ-এর মতো যে কোনও ধরনের দাতব্য অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়ম মানতে হবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা শুরু করে শাসক জোটের মন্ত্রী-বিধায়ক থেকে শুরু করে কংগ্রেস ও পিডিপি-র মতো দলগুলো। তাঁদের অভিযোগ, ধর্মীয় বিষয়ে প্রশাসনের এই হস্তক্ষেপ অনভিপ্রেত।

আরও পড়ুন: পবিত্র রমজানে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ, মোতায়েন বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি পুলিশ

নিজের দলের নেতা ও শরিকদের সমালোচনাকে কার্যত খারিজ করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানান, এই নির্দেশ জেলাশাসক নিজে থেকে নেননি। রমজানের আগে আয়োজিত এক সমন্বয় বৈঠকে সমস্ত জেলাশাসককে স্থানীয় স্তরে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে মেশাবেন না।” তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রমযানের খাতিরে বন্দিরের মুক্তি দিলেন শারজাহ, আজমান ও রাস আল খাইমাহর শাসকরা

মজার বিষয় হলো, এই ইস্যুতে ওমরের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা জেলাশাসকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে দাবি করেন, অনেক সময় এই ধরনের দাতব্য তহবিলের অর্থ দেশবিরোধী কাজে অপব্যবহার করা হয়। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বর্তমানে কিশতিওয়ারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপত্যকার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রশাসনিক নিরাপত্তার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা একই মেরুতে অবস্থান করছেন।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

আরএসএস মানহানি মামলা: নতুন জামিনদার দিতে থানে আদালতে সশরীরে হাজিরা দিলেন রাহুল গান্ধী

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

রমজানে ‘জাকাত’ সংগ্রহে সরকারি নিয়ন্ত্রণ: উপত্যকায় শাসক ও বিরোধী চাপানউতোর

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতিওয়ার জেলায় রমজান মাসে দান বা ‘জাকাত’ সংগ্রহের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তবে এই ইস্যুতে দেখা গেল শাসক ও বিরোধী চাপানউতোর। দলের নেতা ও মিত্রদের সমালোচনার মুখে পড়েও জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকাকে সমর্থন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। একইসঙ্গে তাঁর সুর শোনা গেল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মার কণ্ঠেও।

কিশতিওয়ারের জেলাশাসক পঙ্কজ কুমার শর্মা সম্প্রতি ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’র (BNSS) ১৬৩ ধারার অধীনে একটি নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে জানানো হয়, রমজান মাসে জাকাত বা সাদাকাহ-এর মতো যে কোনও ধরনের দাতব্য অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়ম মানতে হবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা শুরু করে শাসক জোটের মন্ত্রী-বিধায়ক থেকে শুরু করে কংগ্রেস ও পিডিপি-র মতো দলগুলো। তাঁদের অভিযোগ, ধর্মীয় বিষয়ে প্রশাসনের এই হস্তক্ষেপ অনভিপ্রেত।

আরও পড়ুন: পবিত্র রমজানে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ, মোতায়েন বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি পুলিশ

নিজের দলের নেতা ও শরিকদের সমালোচনাকে কার্যত খারিজ করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানান, এই নির্দেশ জেলাশাসক নিজে থেকে নেননি। রমজানের আগে আয়োজিত এক সমন্বয় বৈঠকে সমস্ত জেলাশাসককে স্থানীয় স্তরে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে মেশাবেন না।” তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রমযানের খাতিরে বন্দিরের মুক্তি দিলেন শারজাহ, আজমান ও রাস আল খাইমাহর শাসকরা

মজার বিষয় হলো, এই ইস্যুতে ওমরের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা জেলাশাসকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে দাবি করেন, অনেক সময় এই ধরনের দাতব্য তহবিলের অর্থ দেশবিরোধী কাজে অপব্যবহার করা হয়। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বর্তমানে কিশতিওয়ারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপত্যকার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রশাসনিক নিরাপত্তার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা একই মেরুতে অবস্থান করছেন।