পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ‘বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি’ শিরোনামের একটি অধ্যায় ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র তিরস্কার করল Supreme Court of India। জাতীয় শিক্ষানীতি ও গবেষণা পরিষদের (National Council of Educational Research and Training) প্রকাশিত সমাজবিজ্ঞান বইয়ে বিচার বিভাগের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির উল্লেখ নিয়ে আপত্তি ওঠে।
বৃহস্পতিবার আদালতের কাছে কেন্দ্র নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার কথা জানায়। কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল Tushar Mehta আশ্বাস দেন, যাঁরা এই অধ্যায় তৈরির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের কোনও শিক্ষা কমিশন বা মন্ত্রকের সঙ্গে কাজ করতে দেওয়া হবে না। তবে এতে সন্তুষ্ট হয়নি সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি Surya Kant কড়া ভাষায় বলেন, “গুলি বন্দুক থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। বিচার বিভাগ আজ রক্তাক্ত।” তাঁর নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ বইটির পুনর্মুদ্রণ ও ডিজিটাল সংস্করণে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাশাপাশি স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সচিব ও পরিষদের প্রধান দীনেশ প্রসাদ সাকলানিকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।
আদালতে কেন্দ্র জানায়, বইটির ৩২টি কপি বিক্রি হয়েছিল, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, বইটি এখনও বাজারে ও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। তাঁর কথায়, “শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের যদি শেখানো হয় যে বিচার বিভাগ দুর্নীতিগ্রস্ত, তবে কী বার্তা যাবে? এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।” আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, অধ্যায়ের শিরোনাম বদল বা অন্যভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা ইচ্ছাকৃতভাবে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব, বিচারকের অভাব, জটিল আইনি কাঠামো এবং আদালতে জমে থাকা বিপুল মামলার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল। বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ ও জনআস্থা নষ্টের আশঙ্কা দেখিয়ে সর্বোচ্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলার শুনানি শুরু করে।
বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের বিষয় নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হতে পারে।





























