২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এপস্টাইন নথি ঘিরে বিতর্ক: কলম্বিয়ার ব্রেন ইনস্টিটিউটের পদ ছাড়লেন নোবেলজয়ী রিচার্ড অ্যাক্সেল

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দফতর প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টাইন–সংক্রান্ত লক্ষ লক্ষ নথিকে ঘিরে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন Richard Axel। এই প্রেক্ষিতে তিনি Columbia University–এর জুকারম্যান মাইন্ড ব্রেন বিহেভিয়ার ইনস্টিটিউটের সহ-পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি, Howard Hughes Medical Institute (HHMI)–এর ইনভেস্টিগেটর পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein–সংক্রান্ত নথিতে অ্যাক্সেলের নাম উঠে আসার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। যদিও The New York Times–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপস্টাইনের অপরাধে অ্যাক্সেলের সরাসরি জড়িত থাকার কোনও অভিযোগ নেই। তবে নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি ম্যানহাটনে এপস্টাইনের বাসভবনে একাধিকবার গিয়েছিলেন এবং কলম্বিয়ার ভর্তি ও দাতব্য কার্যক্রম–সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে এপস্টাইনের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেছিলেন।

আরও পড়ুন: ‘বিচার বিভাগ আজ রক্তাক্ত’: পাঠ্যবই বিতর্কে কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

এপস্টাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একটি আন্তর্জাতিক যৌন অপরাধ চক্র পরিচালনা করতেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করতেন। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই নিউইয়র্কের কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগী Ghislaine Maxwell বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এক বিবৃতিতে অ্যাক্সেল বলেন, গবেষণা ও পাঠদানে পূর্ণ মনোনিবেশের লক্ষ্যে তিনি প্রশাসনিক পদ ছাড়ছেন। এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্ককে তিনি “গুরুতর বিচারবুদ্ধির ভুল” বলে উল্লেখ করে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন। বন্ধু, ছাত্র ও সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, এপস্টাইনের জঘন্য কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর সেই সম্পর্ক আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: বন্দেমাতরম বিতর্কে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অ্যাক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি বা আইন ভঙ্গ করেছেন—এমন কোনও প্রমাণ তারা পায়নি। তবে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সহ-পরিচালক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করেছে। একই সঙ্গে স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় তাঁর অসামান্য অবদান ও দীর্ঘ ৫৩ বছরের শিক্ষকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, প্রকাশিত নথির জেরে আন্তর্জাতিক পরিসরেও নানা প্রভাব পড়েছে এবং একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অ্যাক্সেল স্পষ্ট করেছেন, কলম্বিয়ায় তাঁর গবেষণা ও পাঠদান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: নতুন ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নিয়ে বিতর্ক: অভিনেতা মনোজের বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ যোগীর

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

“বিহারে রাজত্ব করছে অপরাধীরা, স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী”: নীতীশ সরকারকে তীব্র আক্রমণ তেজস্বীর

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এপস্টাইন নথি ঘিরে বিতর্ক: কলম্বিয়ার ব্রেন ইনস্টিটিউটের পদ ছাড়লেন নোবেলজয়ী রিচার্ড অ্যাক্সেল

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দফতর প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টাইন–সংক্রান্ত লক্ষ লক্ষ নথিকে ঘিরে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন Richard Axel। এই প্রেক্ষিতে তিনি Columbia University–এর জুকারম্যান মাইন্ড ব্রেন বিহেভিয়ার ইনস্টিটিউটের সহ-পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি, Howard Hughes Medical Institute (HHMI)–এর ইনভেস্টিগেটর পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein–সংক্রান্ত নথিতে অ্যাক্সেলের নাম উঠে আসার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। যদিও The New York Times–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপস্টাইনের অপরাধে অ্যাক্সেলের সরাসরি জড়িত থাকার কোনও অভিযোগ নেই। তবে নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি ম্যানহাটনে এপস্টাইনের বাসভবনে একাধিকবার গিয়েছিলেন এবং কলম্বিয়ার ভর্তি ও দাতব্য কার্যক্রম–সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে এপস্টাইনের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেছিলেন।

আরও পড়ুন: ‘বিচার বিভাগ আজ রক্তাক্ত’: পাঠ্যবই বিতর্কে কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

এপস্টাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একটি আন্তর্জাতিক যৌন অপরাধ চক্র পরিচালনা করতেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করতেন। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই নিউইয়র্কের কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগী Ghislaine Maxwell বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এক বিবৃতিতে অ্যাক্সেল বলেন, গবেষণা ও পাঠদানে পূর্ণ মনোনিবেশের লক্ষ্যে তিনি প্রশাসনিক পদ ছাড়ছেন। এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্ককে তিনি “গুরুতর বিচারবুদ্ধির ভুল” বলে উল্লেখ করে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন। বন্ধু, ছাত্র ও সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, এপস্টাইনের জঘন্য কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর সেই সম্পর্ক আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: বন্দেমাতরম বিতর্কে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অ্যাক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি বা আইন ভঙ্গ করেছেন—এমন কোনও প্রমাণ তারা পায়নি। তবে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সহ-পরিচালক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করেছে। একই সঙ্গে স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় তাঁর অসামান্য অবদান ও দীর্ঘ ৫৩ বছরের শিক্ষকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, প্রকাশিত নথির জেরে আন্তর্জাতিক পরিসরেও নানা প্রভাব পড়েছে এবং একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অ্যাক্সেল স্পষ্ট করেছেন, কলম্বিয়ায় তাঁর গবেষণা ও পাঠদান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: নতুন ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নিয়ে বিতর্ক: অভিনেতা মনোজের বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ যোগীর