২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশু নির্যাতন: ৫ বছরে ৫০ হাজারের বেশি, অভিযোগ শিশু সুরক্ষা কমিশনে

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক;  দেশে শিশুদের অধিকার, তাদের স্বার্থ ও শিশু সুরক্ষার স্বার্থে কাজ করে ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস’ (এনসিপিসিআর) বা জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। তারা জানিওয়েনয়েছে, গত ৫ বছরে অর্থাৎ ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত তারা ৫০ হাজার ৮৫৭টি শিশু নির্যাতন, শিশুদের যৌন হেনস্থার মতো অভিযোগ পেয়েছে।

তারা আরও জানিয়েছে, গত ৫ বছরে শুধুমাত্র মধ্যপ্রদেশ থেকে এই ধরনের সর্বাধিক ৯ হাজার ৫৭২টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে পাওয়া গিয়েছে ৫ হাজার ৩৪০টি অভিযোগ। এছাড়াও ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলি থেকে যথাক্রমে ৪ হাজার ২৭৬টি, ৩ হাজার ২০৫টি ও ৪ হাজার ৬৮৫টি অভিযোগ এসেছে তাদের কাছে।

আরও পড়ুন: মন্দিরের পাশে মিলল শিশুর গলা কাটা দেহ, ভয়ঙ্কর ‘নরবলি’ গুজরাটে!

উল্লেখ্য, শিশু নির্যাতন, হেনস্থা, বঞ্চনা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ এলে কমিশন সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাও করে। শিশুর মৌলিক অধিকারের পথে বাধা তৈরি করে এমন ইস্যুগুলি যাচাই করে। শিশুদের জন্য বিদ্যমান আইন ও নীতি পর্যালোচনা করে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান করে। শিশুর অধিকার বঞ্চনার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি পর্যালোচনা করে।

আরও পড়ুন: কিভাবে বুঝবেন শিশু অবসাদে ভুগছে

১৯০৮ এর অধীনে দেওয়ানী আদালতের ক্ষমতা রয়েছে। এটি ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে এনসিপিসিআর দেওয়ানি আদালতের সমান ক্ষমতা ভোগ করে। সম্প্রতি রাজস্থানের ভিলওয়াড়ায় নাবালিকাদের অবাধে নিলামে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করে এনসিপিসিআরের চেয়ারম্যান পি কানুনগো শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। শিশু অধিকার যাতে সুরক্ষিত থাকে তা সুনিশ্চিত করা হবে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ৭ নভেম্বর এনসিপিসিআরের একটি টিম ভিলওয়াড়া পরিদর্শনে যাবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবে। এই প্রসঙ্গে এনসিপিসিআরের তরফে বলা হয়েছে, ‘আমরা চাই শিশুদেব স্বার্থ সম্পর্কিত প্রতিটি ঘটনা রিপোর্ট করা হোক।

আরও পড়ুন: চাকরির খবরঃ ২১ হাজার গ্রামীণ ডাক সেবক নিয়োগ করবে ডাকবিভাগ

এজন্য সম্প্রতি আমরা সমস্ত রাজ্যের জেলাগুলিতে জুভেনাইল পুলিশ ইউনিট এবং তাদের সাথে যুক্ত অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সমস্যাগুলি জানার চেষ্টা করেছি। একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও, আমরা আইনজীবী এবং পসকো আদালতের বিচারকদের সাথেও আলোচনা করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের ন্যায়বিচার প্রদানের সাথে জড়িত সকল পক্ষকে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। পসকো একটি কার্যকরী আইন। যদি এটি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় তবে শিশুদের সাথে ঘটা অপরাধ বন্ধ করা যাবে। মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের মতে, এনসিপিসিআর এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষা এবং সুরক্ষা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্কুলে শিশুদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ম্যানুয়াল তৈরি করেছে। সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা, আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য হস্টেলের নির্দেশিকা, সাইবার নিরাপত্তা ও শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে ওয়েবিনার পরিচালনার গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

একই নথি জমা দিয়ে ভাইয়ের নাম এপ্রুভ, ডিলিট বোনের নাম: ক্ষোভ বংশীহারী ব্লকে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

শিশু নির্যাতন: ৫ বছরে ৫০ হাজারের বেশি, অভিযোগ শিশু সুরক্ষা কমিশনে

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, সোমবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক;  দেশে শিশুদের অধিকার, তাদের স্বার্থ ও শিশু সুরক্ষার স্বার্থে কাজ করে ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস’ (এনসিপিসিআর) বা জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। তারা জানিওয়েনয়েছে, গত ৫ বছরে অর্থাৎ ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত তারা ৫০ হাজার ৮৫৭টি শিশু নির্যাতন, শিশুদের যৌন হেনস্থার মতো অভিযোগ পেয়েছে।

তারা আরও জানিয়েছে, গত ৫ বছরে শুধুমাত্র মধ্যপ্রদেশ থেকে এই ধরনের সর্বাধিক ৯ হাজার ৫৭২টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে পাওয়া গিয়েছে ৫ হাজার ৩৪০টি অভিযোগ। এছাড়াও ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলি থেকে যথাক্রমে ৪ হাজার ২৭৬টি, ৩ হাজার ২০৫টি ও ৪ হাজার ৬৮৫টি অভিযোগ এসেছে তাদের কাছে।

আরও পড়ুন: মন্দিরের পাশে মিলল শিশুর গলা কাটা দেহ, ভয়ঙ্কর ‘নরবলি’ গুজরাটে!

উল্লেখ্য, শিশু নির্যাতন, হেনস্থা, বঞ্চনা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ এলে কমিশন সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাও করে। শিশুর মৌলিক অধিকারের পথে বাধা তৈরি করে এমন ইস্যুগুলি যাচাই করে। শিশুদের জন্য বিদ্যমান আইন ও নীতি পর্যালোচনা করে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান করে। শিশুর অধিকার বঞ্চনার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি পর্যালোচনা করে।

আরও পড়ুন: কিভাবে বুঝবেন শিশু অবসাদে ভুগছে

১৯০৮ এর অধীনে দেওয়ানী আদালতের ক্ষমতা রয়েছে। এটি ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে এনসিপিসিআর দেওয়ানি আদালতের সমান ক্ষমতা ভোগ করে। সম্প্রতি রাজস্থানের ভিলওয়াড়ায় নাবালিকাদের অবাধে নিলামে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করে এনসিপিসিআরের চেয়ারম্যান পি কানুনগো শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। শিশু অধিকার যাতে সুরক্ষিত থাকে তা সুনিশ্চিত করা হবে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ৭ নভেম্বর এনসিপিসিআরের একটি টিম ভিলওয়াড়া পরিদর্শনে যাবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবে। এই প্রসঙ্গে এনসিপিসিআরের তরফে বলা হয়েছে, ‘আমরা চাই শিশুদেব স্বার্থ সম্পর্কিত প্রতিটি ঘটনা রিপোর্ট করা হোক।

আরও পড়ুন: চাকরির খবরঃ ২১ হাজার গ্রামীণ ডাক সেবক নিয়োগ করবে ডাকবিভাগ

এজন্য সম্প্রতি আমরা সমস্ত রাজ্যের জেলাগুলিতে জুভেনাইল পুলিশ ইউনিট এবং তাদের সাথে যুক্ত অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সমস্যাগুলি জানার চেষ্টা করেছি। একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও, আমরা আইনজীবী এবং পসকো আদালতের বিচারকদের সাথেও আলোচনা করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের ন্যায়বিচার প্রদানের সাথে জড়িত সকল পক্ষকে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। পসকো একটি কার্যকরী আইন। যদি এটি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় তবে শিশুদের সাথে ঘটা অপরাধ বন্ধ করা যাবে। মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের মতে, এনসিপিসিআর এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষা এবং সুরক্ষা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্কুলে শিশুদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ম্যানুয়াল তৈরি করেছে। সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা, আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য হস্টেলের নির্দেশিকা, সাইবার নিরাপত্তা ও শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে ওয়েবিনার পরিচালনার গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে।