২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মারকাযের চাবি ফিরিয়ে দেওয়া হবে মাওলানা সাদকে- রায় দিল্লি আদালতের

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মারকায থেকে করোনা রোগ ছড়িয়েছে এই অজুহাতে ২০২০ সালের ৩ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় নিজামুদ্দিন মারকায ও মসজিদ। দেশব্যাপী করোনার বিধিনিষেধ উঠে গেলেও, নিজামউদ্দিন মারকাযের ওপর সেই বিধিনিষেধ বহাল রাখার আর্জি জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ।দিল্লি পুলিশের সেই আর্জিকে নাকচ করে নিজামুদ্দিন মারকাযের চাবি মাওলানা সাদকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিল দিল্লি আদালত। মামলার পর্যবেক্ষণে সোমবার এই রায় দেয় আদালত।

উল্লেখ্য, এই মামলায় মূল অভিযুক্ত বানানো হয়েছিল মাওলানা সাদকে ।তাঁর বিরুদ্ধে ২০২০ সালের মার্চ মাসে দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। অভিযোগ ছিল যে, তিনি করোনা বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে জমায়েত করেছিলেন।

আরও পড়ুন: ২৬ হাজার চাকরি বাতিলঃ শুনানি শেষ, রায় স্থগিত সুপ্রিম কোর্টে

চলতি বছরের মার্চ মাসে মূলত রমযানে নিজামুদ্দিন মারকাযে ৫০ জনকে নামায পড়ার অনুমোদন দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট।২০২০ সালের মার্চে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযে তবলিগ জামাতের সমাবেশ নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল দেশে৷ ওখান থেকেই দেশে করোনা ছড়িয়েছে, এমন ভুয়ো দাবিও করেছিল একশ্রেণির মানুষ৷ যাদের অধিকাংশই ছিল গেরুয়ায় মনস্ক বিদ্বেষী।

আরও পড়ুন: কুস্তিগিরদের আন্দোলন থেকে সরলেন সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়া! ফিরলেন রেলের চাকরিতে

দিল্লি পুলিশের কাউন্সিল রজত নাইয়ার এদিন আদালতকে জানান মওলানা সাদ এখনও পলাতক। তবে মারকাযের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী বলেছেন, এই তথ্য যথাযথ নয়। নির্ধারিত বন্ড মিটিয়ে দিলেই মাওলানা সাদকে চাবি হস্তান্তরে তাদের কোনও অসুবিধা নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী এদিন এই মামলাটিকে অহেতুক আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ।

আরও পড়ুন: Breaking: কুন্তল ঘোষ চিঠি মামলায় হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন অভিষেক

উল্লেখ্য, করোনা রোগ ছড়ানোর অভিযোগে ২০২০ সালে মারকাযকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলতি বছরে মসজিদটিকে শর্তসাপেক্ষ খোলা হয়। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে পুনরায় চালু করার জন্য দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড দিল্লি কোর্টে একটা মামলা দায়ের করেছিল।ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র অ্যাডভোকেট সঞ্জয় ঘোষ এদিন আদালতকে জানিয়েছেন, মারকায ভবনের কিছু অংশ খোলা হলেও বেশ কিছু অংশ এখনও তালাবদ্ধ রয়েছে এবং তার চাবি দিল্লি পুলিশের কাছে আছে। তবে বিপক্ষ আইনজীবীদের সওয়াল জবাবে নাইয়ার জানিয়েছেন, তারা চাবিগুলি মোতাওয়াল্লী কাছ থেকে নিয়েছিলেন এবং তাদের কাছেই হস্তান্তর করবেন। এদিন কোর্টের সওয়ালে নাইয়ার আরও জানান যে মাওলানা সাদ’ই তাদের চাবি দিয়েছিলেন।

মামলার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে বিচারপতি সিং পুলিশকে প্রশ্ন করেন যে , মহামারী রোগ আইন, ১৮৯৭ এর অধীনে নথিভুক্ত একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই জাতীয় সম্পত্তির হেফাজতে থাকতে পারে কিনা। এরপর তিনি পুলিশের জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

আরএসএস মানহানি মামলা: নতুন জামিনদার দিতে থানে আদালতে সশরীরে হাজিরা দিলেন রাহুল গান্ধী

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মারকাযের চাবি ফিরিয়ে দেওয়া হবে মাওলানা সাদকে- রায় দিল্লি আদালতের

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মারকায থেকে করোনা রোগ ছড়িয়েছে এই অজুহাতে ২০২০ সালের ৩ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় নিজামুদ্দিন মারকায ও মসজিদ। দেশব্যাপী করোনার বিধিনিষেধ উঠে গেলেও, নিজামউদ্দিন মারকাযের ওপর সেই বিধিনিষেধ বহাল রাখার আর্জি জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ।দিল্লি পুলিশের সেই আর্জিকে নাকচ করে নিজামুদ্দিন মারকাযের চাবি মাওলানা সাদকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিল দিল্লি আদালত। মামলার পর্যবেক্ষণে সোমবার এই রায় দেয় আদালত।

উল্লেখ্য, এই মামলায় মূল অভিযুক্ত বানানো হয়েছিল মাওলানা সাদকে ।তাঁর বিরুদ্ধে ২০২০ সালের মার্চ মাসে দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। অভিযোগ ছিল যে, তিনি করোনা বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে জমায়েত করেছিলেন।

আরও পড়ুন: ২৬ হাজার চাকরি বাতিলঃ শুনানি শেষ, রায় স্থগিত সুপ্রিম কোর্টে

চলতি বছরের মার্চ মাসে মূলত রমযানে নিজামুদ্দিন মারকাযে ৫০ জনকে নামায পড়ার অনুমোদন দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট।২০২০ সালের মার্চে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযে তবলিগ জামাতের সমাবেশ নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল দেশে৷ ওখান থেকেই দেশে করোনা ছড়িয়েছে, এমন ভুয়ো দাবিও করেছিল একশ্রেণির মানুষ৷ যাদের অধিকাংশই ছিল গেরুয়ায় মনস্ক বিদ্বেষী।

আরও পড়ুন: কুস্তিগিরদের আন্দোলন থেকে সরলেন সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়া! ফিরলেন রেলের চাকরিতে

দিল্লি পুলিশের কাউন্সিল রজত নাইয়ার এদিন আদালতকে জানান মওলানা সাদ এখনও পলাতক। তবে মারকাযের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী বলেছেন, এই তথ্য যথাযথ নয়। নির্ধারিত বন্ড মিটিয়ে দিলেই মাওলানা সাদকে চাবি হস্তান্তরে তাদের কোনও অসুবিধা নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী এদিন এই মামলাটিকে অহেতুক আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ।

আরও পড়ুন: Breaking: কুন্তল ঘোষ চিঠি মামলায় হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন অভিষেক

উল্লেখ্য, করোনা রোগ ছড়ানোর অভিযোগে ২০২০ সালে মারকাযকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলতি বছরে মসজিদটিকে শর্তসাপেক্ষ খোলা হয়। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে পুনরায় চালু করার জন্য দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড দিল্লি কোর্টে একটা মামলা দায়ের করেছিল।ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র অ্যাডভোকেট সঞ্জয় ঘোষ এদিন আদালতকে জানিয়েছেন, মারকায ভবনের কিছু অংশ খোলা হলেও বেশ কিছু অংশ এখনও তালাবদ্ধ রয়েছে এবং তার চাবি দিল্লি পুলিশের কাছে আছে। তবে বিপক্ষ আইনজীবীদের সওয়াল জবাবে নাইয়ার জানিয়েছেন, তারা চাবিগুলি মোতাওয়াল্লী কাছ থেকে নিয়েছিলেন এবং তাদের কাছেই হস্তান্তর করবেন। এদিন কোর্টের সওয়ালে নাইয়ার আরও জানান যে মাওলানা সাদ’ই তাদের চাবি দিয়েছিলেন।

মামলার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে বিচারপতি সিং পুলিশকে প্রশ্ন করেন যে , মহামারী রোগ আইন, ১৮৯৭ এর অধীনে নথিভুক্ত একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই জাতীয় সম্পত্তির হেফাজতে থাকতে পারে কিনা। এরপর তিনি পুলিশের জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।