১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এবার কর্মী ছাঁটাই এর পথে হাঁটতে চলেছে ফোর্ড,  চাকরি হারাতে পারেন ৩২০০ জন

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক:করোনা মহামারির পর থেকে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলি ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করছে। এরই অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট, গুগল থেকে শুরু করে অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করার পথে হেঁটেছে তারসঙ্গে  কমেছে কর্মী-নিয়োগ প্রক্রিয়াও। এবার সেই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে  যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গাড়ি নির্মাতা সংস্থা ফোর্ড।

২০২২ এর প্রকাশিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ফোর্ডের বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ১ লাখ ৮২ হাজারের মতো কর্মী রয়েছে। তারমধ্যে ইউরোপের ৩২০০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন: গরিবদের কাজের নিশ্চয়তা বন্ধ করারই উদ্দেশ্য কেন্দ্রের: মনরেগা নিয়ে সুর চড়ালেন খাড়গে

সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি জারি করে সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে ২৫০০ জন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেণ্ট ও ৭০০ জন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পোস্টে আছেন। এত মানুষকে ছাঁটাই করার কারণ হিসেবে ফোর্ড জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি সামগ্রীর অত্যধিক দামও , আর্থিক মন্দার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গত বছরে ফোর্ড  জানিয়েছিল, তারা ২০২৬ পর্যন্ত ইলেকট্রিক গাড়ি বানাবার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। তারসঙ্গে  তারা বছরে ৩০০ কোটি টাকা খরচও কম করতে চায়।

আরও পড়ুন: ধ্বংস হবে কলকাতা, ৬১ হাজার কিমি বেগে ধেয়ে আসছে এই গ্রহাণু!

গত একশ বছর ধরে মূলত পোট্রোল-ডিজেলের গাড়ি  বিক্রি করেছে উৎপাদকরা। কিন্তু পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের সরকার এখন পেট্রোল-ডিজেল থেকে সিএনজি ও ইলেকট্রিকে গাড়ি চালানোর উপর জোর দিয়েছে। ফোর্ডও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদিত অর্ধেক গাড়িই ইলেকট্রিকে চলবে।

আরও পড়ুন: ৫ বছর আইনি লড়াই করার পর শিক্ষকতায় চাকরি পেলেন ১৫ জন

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টেক জায়ান্টে একাধিক কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। অন্তত ৮৫৩টি কোম্পানি বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ১,৩৭,৪৯২ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন। এখানেই শেষ নয়। আগামী দিনে আরও কর্মী ছাঁটাই হবে বলে জানানো হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার তরফে। যেসব সংস্থা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করেছে সেই তালিকায় নাম রয়েছে মেটা, ট্যুইটার, সেলস ফোর্স, নেটফ্লিক্স, সুইগি আমাজন সহ আরও অনেক পরিচিত সংস্থা। শোনা যাচ্ছে, গুগলের পেরেন্ট অর্গানাজেশন অ্যালফাবেটও প্রায় ১২  হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে এগোচ্ছে। মার্কিন মুলুকে মন্দার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি এই কর্মী ছাঁটাই করছে গুগল বলেই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে চলছে কর্মী ছাঁটাইয়ের  হাওয়া। বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। এই তালিকায় রয়েছে একাধিক মার্কিন কোম্পানি। সেই ফলে নাম লিখিয়েছে ভারতীয় সংস্থাও। সম্প্রতি ভারতীয় সংস্থা সুইগি। এখনও পর্যন্ত ৩৮০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে এই সংস্থা। খরচ নিয়ন্ত্রণের  পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই এই ছাঁটাই করা হচ্ছে। ভারতে আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই তালিকায় রয়েছে ডুনজো, শেয়ারচ্যাট, মিশো- এইসব জনপ্রিয় অ্যাপ। অর্থাৎ এইসব অ্যাপের যে পেরেন্ট অর্গানাইজেশন তারা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করেছে।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা: তারেক রহমান

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এবার কর্মী ছাঁটাই এর পথে হাঁটতে চলেছে ফোর্ড,  চাকরি হারাতে পারেন ৩২০০ জন

আপডেট : ২৪ জানুয়ারী ২০২৩, মঙ্গলবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক:করোনা মহামারির পর থেকে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলি ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করছে। এরই অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট, গুগল থেকে শুরু করে অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করার পথে হেঁটেছে তারসঙ্গে  কমেছে কর্মী-নিয়োগ প্রক্রিয়াও। এবার সেই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে  যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গাড়ি নির্মাতা সংস্থা ফোর্ড।

২০২২ এর প্রকাশিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ফোর্ডের বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ১ লাখ ৮২ হাজারের মতো কর্মী রয়েছে। তারমধ্যে ইউরোপের ৩২০০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন: গরিবদের কাজের নিশ্চয়তা বন্ধ করারই উদ্দেশ্য কেন্দ্রের: মনরেগা নিয়ে সুর চড়ালেন খাড়গে

সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি জারি করে সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে ২৫০০ জন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেণ্ট ও ৭০০ জন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পোস্টে আছেন। এত মানুষকে ছাঁটাই করার কারণ হিসেবে ফোর্ড জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি সামগ্রীর অত্যধিক দামও , আর্থিক মন্দার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গত বছরে ফোর্ড  জানিয়েছিল, তারা ২০২৬ পর্যন্ত ইলেকট্রিক গাড়ি বানাবার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। তারসঙ্গে  তারা বছরে ৩০০ কোটি টাকা খরচও কম করতে চায়।

আরও পড়ুন: ধ্বংস হবে কলকাতা, ৬১ হাজার কিমি বেগে ধেয়ে আসছে এই গ্রহাণু!

গত একশ বছর ধরে মূলত পোট্রোল-ডিজেলের গাড়ি  বিক্রি করেছে উৎপাদকরা। কিন্তু পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের সরকার এখন পেট্রোল-ডিজেল থেকে সিএনজি ও ইলেকট্রিকে গাড়ি চালানোর উপর জোর দিয়েছে। ফোর্ডও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদিত অর্ধেক গাড়িই ইলেকট্রিকে চলবে।

আরও পড়ুন: ৫ বছর আইনি লড়াই করার পর শিক্ষকতায় চাকরি পেলেন ১৫ জন

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টেক জায়ান্টে একাধিক কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। অন্তত ৮৫৩টি কোম্পানি বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ১,৩৭,৪৯২ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন। এখানেই শেষ নয়। আগামী দিনে আরও কর্মী ছাঁটাই হবে বলে জানানো হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার তরফে। যেসব সংস্থা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করেছে সেই তালিকায় নাম রয়েছে মেটা, ট্যুইটার, সেলস ফোর্স, নেটফ্লিক্স, সুইগি আমাজন সহ আরও অনেক পরিচিত সংস্থা। শোনা যাচ্ছে, গুগলের পেরেন্ট অর্গানাজেশন অ্যালফাবেটও প্রায় ১২  হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে এগোচ্ছে। মার্কিন মুলুকে মন্দার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি এই কর্মী ছাঁটাই করছে গুগল বলেই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে চলছে কর্মী ছাঁটাইয়ের  হাওয়া। বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। এই তালিকায় রয়েছে একাধিক মার্কিন কোম্পানি। সেই ফলে নাম লিখিয়েছে ভারতীয় সংস্থাও। সম্প্রতি ভারতীয় সংস্থা সুইগি। এখনও পর্যন্ত ৩৮০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে এই সংস্থা। খরচ নিয়ন্ত্রণের  পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই এই ছাঁটাই করা হচ্ছে। ভারতে আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই তালিকায় রয়েছে ডুনজো, শেয়ারচ্যাট, মিশো- এইসব জনপ্রিয় অ্যাপ। অর্থাৎ এইসব অ্যাপের যে পেরেন্ট অর্গানাইজেশন তারা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করেছে।