পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তারেক রহমান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি গোপনীয়তার শপথও নেন।
আরও পড়ুন:
বিকেল প্রায় ৪টার দিকে শুরু হওয়া শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, বিচারপতি, কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথসংক্রান্ত দুইটি নথিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা পর্যায়ক্রমে শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি নিজেই তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। সন্ধ্যার মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করছে (বিএনপি)।আরও পড়ুন:
সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি। উন্মুক্ত পরিবেশে শপথ গ্রহণকে নতুন সরকারের ‘জনমুখী প্রতীকী সূচনা’ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় এবং দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষেকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর এই সরকার গঠনকে দলটির নেতারা ‘গণতান্ত্রিক প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার, মন্ত্রিসভার বিন্যাস ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের দিকেই এখন দেশের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের নজর।