১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, স্পর্শকাতর এলাকায় নজর নির্বাচন কমিশনের

 

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও ঠিক কত কোম্পানি আধাসেনা পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের সব জেলাকে স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথ এবং এলাকা চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে। ভোটে অতীত হিংসার ইতিহাস, স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রিপোর্ট এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেক্টর অফিসারদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক বুথ ঘুরে পরিস্থিতি যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এই রিপোর্ট রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরের মাধ্যমে দিল্লিতে পাঠানো হবে।
প্রথম পর্যায়ে মূলত অতি স্পর্শকাতর এলাকায় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের আগে ‘এরিয়া ডমিনেশন’ চালিয়ে ঝামেলাপ্রবণ এলাকায় মানুষের আস্থা বাড়ানোই লক্ষ্য বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে।
এদিকে সদ্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকের মতামতের উপরও নির্ভর করছে বাহিনীর চূড়ান্ত সংখ্যা। কমিশন ইতিমধ্যে সাতটি জেলাকে বেশি উত্তেজনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে— কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূম। অতীতে এই জেলাগুলিতে ভোটকে ঘিরে তুলনামূলক বেশি অশান্তির ঘটনা ঘটেছে।
একই সঙ্গে চলছে এসআইআর সংক্রান্ত নথি যাচাই বা স্ক্রুটিনির কাজ। মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভাররা বিধানসভাভিত্তিক নথি পরীক্ষা করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের নথি পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভোটারদের কিছুটা ভোগান্তি বাড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

শেষ আটে জিম্বাবোয়ে, বিদায় অস্ট্রেলিয়া, টি-২০ বিশ্বকাপে চমক, ইতিহাস নেপালের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, স্পর্শকাতর এলাকায় নজর নির্বাচন কমিশনের

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার

 

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও ঠিক কত কোম্পানি আধাসেনা পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের সব জেলাকে স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথ এবং এলাকা চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে। ভোটে অতীত হিংসার ইতিহাস, স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রিপোর্ট এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেক্টর অফিসারদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক বুথ ঘুরে পরিস্থিতি যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এই রিপোর্ট রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরের মাধ্যমে দিল্লিতে পাঠানো হবে।
প্রথম পর্যায়ে মূলত অতি স্পর্শকাতর এলাকায় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের আগে ‘এরিয়া ডমিনেশন’ চালিয়ে ঝামেলাপ্রবণ এলাকায় মানুষের আস্থা বাড়ানোই লক্ষ্য বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে।
এদিকে সদ্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকের মতামতের উপরও নির্ভর করছে বাহিনীর চূড়ান্ত সংখ্যা। কমিশন ইতিমধ্যে সাতটি জেলাকে বেশি উত্তেজনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে— কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূম। অতীতে এই জেলাগুলিতে ভোটকে ঘিরে তুলনামূলক বেশি অশান্তির ঘটনা ঘটেছে।
একই সঙ্গে চলছে এসআইআর সংক্রান্ত নথি যাচাই বা স্ক্রুটিনির কাজ। মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভাররা বিধানসভাভিত্তিক নথি পরীক্ষা করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের নথি পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভোটারদের কিছুটা ভোগান্তি বাড়তে পারে।