১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চন্দ্রযানের সফল ল্যান্ডিং, বসিরহাটের ভূমিপুত্র বিজ্ঞানীকে নিয়ে উচ্ছ্বাস

ইনামুল হক, বসিরহাট: বুধবার ৬ টা বেজে ৪ মিনিটে অবতরণের সাথে সাথে  চন্দ্রযান-৩ মিশন সফল হওয়ার ছবি দেখে ইসরোর সঙ্গে যুক্ত বসিরহাটের বিজ্ঞানী মানস সরকারের পরিবারসহ বসিরহাটবাসী উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে। পরিবারের হর্ষ ধ্বনি, মিষ্টিমুখ শুরু হয়ে যায়। আনন্দে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে।

 

আরও পড়ুন: মহাকাশ গবেষণায় টক্কর, ফের চাঁদের দেশে পা রাখবে ভারত

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৪ জুলাই চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল ইসরোর চন্দ্রযান-৩। আর দীর্ঘ ৩৯ দিন পার করে অবশেষে চাঁদের মাটিতে পা রাখতে সক্ষম হয়েছে চন্দ্রযান-৩। উৎক্ষেপণের পর থেকে কখন চাঁদের মাটি স্পর্শ করবে চন্দ্রযান। এই দীর্ঘ সময় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে গোটা দেশ। ইসরোর সেই সমস্ত বিজ্ঞানীরা যারা এই মিশনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সেরকমই এক বিজ্ঞানী হলেন বসিরহাটের মানস সরকার। যিনি চন্দ্রযান-৩ মিশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মানস সরকার সহ তাঁর পরিবার  প্রহর গুনেছে কখন সফলভাবে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে চন্দ্রযান।

আরও পড়ুন: ‘চন্দ্রযান ৩’ সফল অভিযানের পর এবার মঙ্গলে পাড়ি দেবে ইসরোর ‘মঙ্গলায়ন-২’

 

আরও পড়ুন: আজ ভারতের সবচেয়ে ভারী স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ করবে ইসরো, শক্তিবৃদ্ধি হবে নৌবাহিনীর

বিজ্ঞানীর বাবা প্রাক্তন সেনা কর্মী শচীন্দ্রনাথ সরকার বলেন, “অধীর আগ্রহে বসে ছিলাম, চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযানের ল‍্যান্ডিং দেখার জন্য। আর তার সফলতা দেখে দেশের সঙ্গে গর্ব হচ্ছে নিজের ছেলের জন্যও।  চন্দ্রযান ৩ এর সফলতায় বসিরহাট সহ ভারতের নাম উজ্জ্বল করলো।”

 

এলাকাবাসী সুরেশ মন্ডল বলেন, “বসিরহাটের এই বিজ্ঞানীর কৃতিত্ব যথেষ্টই প্রশংসনীয়। আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে তার এই কৃতিত্ব যথেষ্টই অনুপ্রেরণাদায়ক।” অন্যদিকে বসিরহাটের এই বিজ্ঞানীকে সম্মান জানাতে পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ চাঁদের মাটিতে সফলভাবে ল্যান্ড করায় তার জন্য দুর্গাপূজায় নিজেদের থিম চন্দ্রযান ৩কে বেছে নিয়েছে বসিরহাটের নেতাজী ইউনিয়ন। উদ্যোক্তা শঙ্কর অধিকারী বলেন, “আমাদের গর্ব মানস সরকার। চন্দ্রযানের সঙ্গে যিনি  সরাসরি যুক্ত। তিনি বসিরহাটের নাম দেশের মধ্যে উজ্জ্বল করেছেন। তাই তাকে সম্মান জানাতে পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ এর ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে আমাদের শারদ  উৎসবের থিম চন্দ্রযান-৩।

 

বলা বাহুল্য, ২০০৮ সালে চন্দ্রযান-১, ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ সফলভাবে উৎক্ষেপণ হলেও শেষ মুহূর্তে গিয়ে চাঁদে পা রাখতে পারেনি। হতাশা গ্রাস করেছিল গোটা দেশের মানুষের। সেই সঙ্গে ইসরো বিজ্ঞানীদেরও। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নৈহাটির প্রাক্তন সেনা কর্মীর পরিবারের সন্তান মানস সরকার ২০০৬ সালে ইসরোতে গবেষক হিসেবে নিযুক্ত হন।সেখান থেকেই একের পর এক গবেষণায় যুক্ত থেকে চন্দ্রযানের উৎক্ষেপণ দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা চাঁদে সফলভাবে পৌঁছতে পারেনি। সেই আফশোষের কথা জানালেন গবেষক পরিবারের মা রঞ্জিতা সরকার, বাবা শচীন্দ্রনাথ সরকার।

 

বসিরহাটের ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের কলাপোতা গ্রামের সরকার পরিবারের বসবাস। সীমান্তের ইডিন্ডা ইউনিয়ান হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে যাদবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে পরে রাজাবাজার, হলদিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রফেসর পদ, রাজ্যপালের কাছ থেকে গোল্ড মেডেল পাওয়া সবটাই ছিল তার  ঝুলিতে।  সেই সময় আমেরিকা থেকে ডাক পেলেও তিনি যাননি দেশের হয়ে কাজ করবেন বলে। তারপর ২০০৬ সালে ইসরো গবেষণা কেন্দ্রে নিযুক্ত হন। ছেলের এই সাফল্যে  মা-বাবার চোখে মুখে একদিকে যেমন আনন্দ অশ্রু। অন্যদিকে চন্দ্রযান-৩ চাঁদের মাটিতে পা রাখায় মানসের পরিবারের সঙ্গে আনন্দধারা দেশবাসীর মধ্যেও।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

উত্তরপ্রদেশে মথুরায় একই পরিবারের ৫ সদস্যের রহস্যমৃত্যু, ঘর থেকে উদ্ধার সুইসাইড নোট

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

চন্দ্রযানের সফল ল্যান্ডিং, বসিরহাটের ভূমিপুত্র বিজ্ঞানীকে নিয়ে উচ্ছ্বাস

আপডেট : ২৩ অগাস্ট ২০২৩, বুধবার

ইনামুল হক, বসিরহাট: বুধবার ৬ টা বেজে ৪ মিনিটে অবতরণের সাথে সাথে  চন্দ্রযান-৩ মিশন সফল হওয়ার ছবি দেখে ইসরোর সঙ্গে যুক্ত বসিরহাটের বিজ্ঞানী মানস সরকারের পরিবারসহ বসিরহাটবাসী উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে। পরিবারের হর্ষ ধ্বনি, মিষ্টিমুখ শুরু হয়ে যায়। আনন্দে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে।

 

আরও পড়ুন: মহাকাশ গবেষণায় টক্কর, ফের চাঁদের দেশে পা রাখবে ভারত

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৪ জুলাই চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল ইসরোর চন্দ্রযান-৩। আর দীর্ঘ ৩৯ দিন পার করে অবশেষে চাঁদের মাটিতে পা রাখতে সক্ষম হয়েছে চন্দ্রযান-৩। উৎক্ষেপণের পর থেকে কখন চাঁদের মাটি স্পর্শ করবে চন্দ্রযান। এই দীর্ঘ সময় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে গোটা দেশ। ইসরোর সেই সমস্ত বিজ্ঞানীরা যারা এই মিশনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সেরকমই এক বিজ্ঞানী হলেন বসিরহাটের মানস সরকার। যিনি চন্দ্রযান-৩ মিশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মানস সরকার সহ তাঁর পরিবার  প্রহর গুনেছে কখন সফলভাবে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে চন্দ্রযান।

আরও পড়ুন: ‘চন্দ্রযান ৩’ সফল অভিযানের পর এবার মঙ্গলে পাড়ি দেবে ইসরোর ‘মঙ্গলায়ন-২’

 

আরও পড়ুন: আজ ভারতের সবচেয়ে ভারী স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ করবে ইসরো, শক্তিবৃদ্ধি হবে নৌবাহিনীর

বিজ্ঞানীর বাবা প্রাক্তন সেনা কর্মী শচীন্দ্রনাথ সরকার বলেন, “অধীর আগ্রহে বসে ছিলাম, চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযানের ল‍্যান্ডিং দেখার জন্য। আর তার সফলতা দেখে দেশের সঙ্গে গর্ব হচ্ছে নিজের ছেলের জন্যও।  চন্দ্রযান ৩ এর সফলতায় বসিরহাট সহ ভারতের নাম উজ্জ্বল করলো।”

 

এলাকাবাসী সুরেশ মন্ডল বলেন, “বসিরহাটের এই বিজ্ঞানীর কৃতিত্ব যথেষ্টই প্রশংসনীয়। আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে তার এই কৃতিত্ব যথেষ্টই অনুপ্রেরণাদায়ক।” অন্যদিকে বসিরহাটের এই বিজ্ঞানীকে সম্মান জানাতে পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ চাঁদের মাটিতে সফলভাবে ল্যান্ড করায় তার জন্য দুর্গাপূজায় নিজেদের থিম চন্দ্রযান ৩কে বেছে নিয়েছে বসিরহাটের নেতাজী ইউনিয়ন। উদ্যোক্তা শঙ্কর অধিকারী বলেন, “আমাদের গর্ব মানস সরকার। চন্দ্রযানের সঙ্গে যিনি  সরাসরি যুক্ত। তিনি বসিরহাটের নাম দেশের মধ্যে উজ্জ্বল করেছেন। তাই তাকে সম্মান জানাতে পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ এর ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে আমাদের শারদ  উৎসবের থিম চন্দ্রযান-৩।

 

বলা বাহুল্য, ২০০৮ সালে চন্দ্রযান-১, ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ সফলভাবে উৎক্ষেপণ হলেও শেষ মুহূর্তে গিয়ে চাঁদে পা রাখতে পারেনি। হতাশা গ্রাস করেছিল গোটা দেশের মানুষের। সেই সঙ্গে ইসরো বিজ্ঞানীদেরও। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নৈহাটির প্রাক্তন সেনা কর্মীর পরিবারের সন্তান মানস সরকার ২০০৬ সালে ইসরোতে গবেষক হিসেবে নিযুক্ত হন।সেখান থেকেই একের পর এক গবেষণায় যুক্ত থেকে চন্দ্রযানের উৎক্ষেপণ দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা চাঁদে সফলভাবে পৌঁছতে পারেনি। সেই আফশোষের কথা জানালেন গবেষক পরিবারের মা রঞ্জিতা সরকার, বাবা শচীন্দ্রনাথ সরকার।

 

বসিরহাটের ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের কলাপোতা গ্রামের সরকার পরিবারের বসবাস। সীমান্তের ইডিন্ডা ইউনিয়ান হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে যাদবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে পরে রাজাবাজার, হলদিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রফেসর পদ, রাজ্যপালের কাছ থেকে গোল্ড মেডেল পাওয়া সবটাই ছিল তার  ঝুলিতে।  সেই সময় আমেরিকা থেকে ডাক পেলেও তিনি যাননি দেশের হয়ে কাজ করবেন বলে। তারপর ২০০৬ সালে ইসরো গবেষণা কেন্দ্রে নিযুক্ত হন। ছেলের এই সাফল্যে  মা-বাবার চোখে মুখে একদিকে যেমন আনন্দ অশ্রু। অন্যদিকে চন্দ্রযান-৩ চাঁদের মাটিতে পা রাখায় মানসের পরিবারের সঙ্গে আনন্দধারা দেশবাসীর মধ্যেও।