পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প চালু থাকবে নাকি বাতিল হবে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বিস্তারিত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানিতে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষের বিস্তৃত যুক্তিতর্ক শোনার পর বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানায়, প্রয়োজনে পক্ষগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দিতে পারবে।
শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের কথা তুলে ধরে প্রকল্পের বিরোধিতা করা হয়। কেন্দ্রের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড’ চালুর ফলে যেকোনো রেশনগ্রাহক দেশের যেকোনো দোকান থেকে খাদ্যশস্য নিতে পারেন, কিন্তু দুয়ারে রেশন চালুর কারণে অনেক সময় দোকান বন্ধ থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ সময় বেঞ্চের তরফে প্রশ্ন ওঠে—গ্রাহকরা যদি বাড়িতে বসেই সুবিধা পান, তাহলে আপত্তি কোথায়? বিচারপতি সন্দীপ মেহতা মন্তব্য করেন, প্রকল্পের লক্ষ্য হওয়া উচিত গ্রাহকের কাছে খাদ্য পৌঁছানো, ডিলারদের সুবিধা নয়। বিচারপতি বিক্রম নাথও বলেন, প্রকৃত উপভোক্তারা সুবিধা পাচ্ছেন কি না সেটাই মূল বিষয়।
রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবী জানান, জাতীয় আইনের মধ্যেই রেশন ব্যবস্থায় সংস্কারের সুযোগ রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ডিলারদের অতিরিক্ত ভাতা ও সহায়তার কথাও তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে রেশন ডিলারদের একাংশের দাবি, পরিবহন, জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসে বিপুল ব্যয় হচ্ছে এবং ঝুঁকির দায়ও তাঁদের উপর পড়ছে, তাই প্রকল্প বন্ধ করা উচিত।
উল্লেখ্য, মমতা সরকার ২০২১ সালে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প চালু করে। পরে এর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং কলকাতা হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে যায়। সেই মামলারই চূড়ান্ত রায় এখন সংরক্ষিত।
চাইলে এটাকে আরও ছোট নিউজ কপি বা সম্পাদকীয় স্টাইলে সাজিয়ে দিতে পারি।




























