০৮ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছত্রিশগড়ে পুরুলিয়ার আট বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর, মুসলিম হওয়ায় নিশানা বজরং দলের!

দীপক মাহান্তি: আবার হেনস্তা পরিযায়ী শ্রমিকদের। বাংলা বলার অপরাধে হেনস্তা কিছুতেই কমছে না। বিশেষ করে বাংলার যেসব পরিযায়ী শ্রমিক ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যে কাজ করছেন তারা গভীর আতঙ্কে রয়েছেন। বাংলা কথা বলায় বাংলাদেশী তকমা দিয়ে ছত্তিশগড়ে পুরুলিয়ার ৮ সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল এলাকার বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ছত্তিশগড়ের রাইপুর জেলার কোতয়ালি থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই শ্রমিকদের উদ্ধার করে। পরে তারা পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সব নথি যাচাই করে চার জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় । বাকি চার জন নাবালক হওয়ায় তাদের স্থানীয় হোমে রাখা হয় । আজ চারজন পরিযায়ী শ্রমিক ফিরলেন নিজের গ্রামে । আতঙ্কে আর বাইরের রাজ্যে কাজ করতে যেতে নারাজ শ্রমিকরা ।

পুরুলিয়া আড়ষা থানার ভুরসু গ্রামের শেখ মিনাল ও শেখ ইসলমাইল এবং পুরুলিয়া মফস্বল থানার চেপড়ি গ্রামের শেখ আসলম, শেখ ববি, শেখ জুলফিকার, শেখ সাহিল, শেখ জসিম আরবাজ কাজী মাসখানেক আগে ছত্রিশগড়ের কোতোয়ালিতে একটি পাউরুটি কারখানায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে এই পাউরুটি কারখানার মালিক খুব একটা কাজ না থাকায় তাদেরকে ফিরে যেতে বলে। তাদের কিছু পাওনা ছিল সেটা আদায় করতেই তারা রবিবার দিন কারখানা চত্বরে বসে ছিল এই পাওনা টাকা আদায় করতে কিছু ঝামেলাও হয়। শেখ ববি শেখ আসলাম জানালেন সেই সময় হঠাৎ করে বজরং দলের কিছু ছেলে এসে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে বাংলাদেশি পাকিস্তানি বিভিন্ন রকম নামে অভিহিত করে তাদেরকে মারধর করা হয়। তারা যখন বারবার বলে যে পুরুলিয়া থেকে তারা এসেছে এবং কাজের জন্যই তারা এসেছে সেসব কথায় কর্ণপাত করেনি। স্থানীয় থানার পুলিশ খবর পেয়ে ওখানে এসে ওদের উদ্ধার করে। পুলিশ সমস্ত নথিপত্র দেখার পর এবং পুরুলিয়া পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলার পর চারজন নাবালকে হোমে পাঠিয়ে বাকিদের গাড়িতে তুলে দেয়।

আরও পড়ুন: মাও-সেনা গুলির লড়াই, ছত্তিশগড়ে দু’টি পৃথক অভিযানে নিহত ১৪ মাওবাদী

পুরুলিয়া জেলার তৃণমূলের সভাপতি সাদ্দাম হুসেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন হতদরিদ্র এই মানুষগুলি নিজেদের পরিবারকে সুস্থ রাখতে বাইরে তারা কাজে গেছিলেন শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে তাদেরকে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কতদিন এভাবে চলতে পারে? শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে কেন মারধর করা হবে? শেখ জসিম শেখ আসলামরা পুরুলিয়া পুলিশ প্রশাসনকে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন। এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য বারবার প্রশাসনকে অনুরোধ করছেন। তারা চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তাদের এখানেই কিছু কাজ দেন, তারা আর কোনভাবেই বাইরে কাজ করতে যাবেন না।

আরও পড়ুন: ছত্তিসগড়ে আত্মসমর্পণ ৩৭ মাওবাদীর, ২৭ জনের মাথার দাম ছিল ৬৫ লক্ষ টাকা

আরও পড়ুন: ফের ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পন ৫১ জন মাওবাদীর, মাথার দাম ছিল ৬৬ লক্ষ টাকা
প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

বাংলায় কোথায় রোহিঙ্গা, ঘুষপাটিয়া: বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ছত্রিশগড়ে পুরুলিয়ার আট বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর, মুসলিম হওয়ায় নিশানা বজরং দলের!

আপডেট : ৬ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার

দীপক মাহান্তি: আবার হেনস্তা পরিযায়ী শ্রমিকদের। বাংলা বলার অপরাধে হেনস্তা কিছুতেই কমছে না। বিশেষ করে বাংলার যেসব পরিযায়ী শ্রমিক ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যে কাজ করছেন তারা গভীর আতঙ্কে রয়েছেন। বাংলা কথা বলায় বাংলাদেশী তকমা দিয়ে ছত্তিশগড়ে পুরুলিয়ার ৮ সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল এলাকার বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ছত্তিশগড়ের রাইপুর জেলার কোতয়ালি থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই শ্রমিকদের উদ্ধার করে। পরে তারা পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সব নথি যাচাই করে চার জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় । বাকি চার জন নাবালক হওয়ায় তাদের স্থানীয় হোমে রাখা হয় । আজ চারজন পরিযায়ী শ্রমিক ফিরলেন নিজের গ্রামে । আতঙ্কে আর বাইরের রাজ্যে কাজ করতে যেতে নারাজ শ্রমিকরা ।

পুরুলিয়া আড়ষা থানার ভুরসু গ্রামের শেখ মিনাল ও শেখ ইসলমাইল এবং পুরুলিয়া মফস্বল থানার চেপড়ি গ্রামের শেখ আসলম, শেখ ববি, শেখ জুলফিকার, শেখ সাহিল, শেখ জসিম আরবাজ কাজী মাসখানেক আগে ছত্রিশগড়ের কোতোয়ালিতে একটি পাউরুটি কারখানায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে এই পাউরুটি কারখানার মালিক খুব একটা কাজ না থাকায় তাদেরকে ফিরে যেতে বলে। তাদের কিছু পাওনা ছিল সেটা আদায় করতেই তারা রবিবার দিন কারখানা চত্বরে বসে ছিল এই পাওনা টাকা আদায় করতে কিছু ঝামেলাও হয়। শেখ ববি শেখ আসলাম জানালেন সেই সময় হঠাৎ করে বজরং দলের কিছু ছেলে এসে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে বাংলাদেশি পাকিস্তানি বিভিন্ন রকম নামে অভিহিত করে তাদেরকে মারধর করা হয়। তারা যখন বারবার বলে যে পুরুলিয়া থেকে তারা এসেছে এবং কাজের জন্যই তারা এসেছে সেসব কথায় কর্ণপাত করেনি। স্থানীয় থানার পুলিশ খবর পেয়ে ওখানে এসে ওদের উদ্ধার করে। পুলিশ সমস্ত নথিপত্র দেখার পর এবং পুরুলিয়া পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলার পর চারজন নাবালকে হোমে পাঠিয়ে বাকিদের গাড়িতে তুলে দেয়।

আরও পড়ুন: মাও-সেনা গুলির লড়াই, ছত্তিশগড়ে দু’টি পৃথক অভিযানে নিহত ১৪ মাওবাদী

পুরুলিয়া জেলার তৃণমূলের সভাপতি সাদ্দাম হুসেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন হতদরিদ্র এই মানুষগুলি নিজেদের পরিবারকে সুস্থ রাখতে বাইরে তারা কাজে গেছিলেন শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে তাদেরকে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কতদিন এভাবে চলতে পারে? শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে কেন মারধর করা হবে? শেখ জসিম শেখ আসলামরা পুরুলিয়া পুলিশ প্রশাসনকে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন। এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য বারবার প্রশাসনকে অনুরোধ করছেন। তারা চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তাদের এখানেই কিছু কাজ দেন, তারা আর কোনভাবেই বাইরে কাজ করতে যাবেন না।

আরও পড়ুন: ছত্তিসগড়ে আত্মসমর্পণ ৩৭ মাওবাদীর, ২৭ জনের মাথার দাম ছিল ৬৫ লক্ষ টাকা

আরও পড়ুন: ফের ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পন ৫১ জন মাওবাদীর, মাথার দাম ছিল ৬৬ লক্ষ টাকা