২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বহাল, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-এর রায় খারিজ করল হাইকোর্ট, তবে দুর্নীতি তদন্ত চালু থাকবে

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রাথমিক স্তরে ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিল নয়, স্বপদে বহাল থাকছেন প্রত্যেক শিক্ষক। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে এই মর্মে রায় দিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত চলবে বলেও আদালত জানায়।

রায়ে বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ— “দীর্ঘ ৯ বছর পরে চাকরি বাতিল করলে পরিবারগুলির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।”
এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে ২০১৪ সালের টেট–এর ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন: রাজ্যের সব বুথে ন্যূনতম পরিকাঠামো আছে কি? নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

এজলাস থেকে বেরিয়ে সরকারি আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে দুর্নীতির জন্য ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করা হয়েছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষের ভুল বা দুর্নীতির দায় নিরীহ চাকরিপ্রাপ্তদের উপর বর্তাতে পারে না। “যাঁরা সফল হননি, তাঁদের জন্য সবকিছু ধ্বংস হতে পারে না,” মন্তব্য তাঁর। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়— চাকরিপ্রাপ্তরা কোনও প্রভাবশালীর সঙ্গে যুক্ত নন, তাই তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: চন্দ্রকোনা কাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট, রিপোর্ট তলব

হাই কোর্টের রায় ঘোষণার পর X-এ প্রাথমিক শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু লেখেন, “সত্যের জয় হল।” ২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রায় ৪২,৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়। সেই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের মে মাসে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও তাঁদের কাজে বহাল রেখেই তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: আই-প্যাক ইস্যু: হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত চাইল ইডি, ‘আমরা প্রস্তুত’ বললেন কল্যাণ

বোর্ড সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। তখন অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হলেও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ বহাল থাকে। পরে রাজ্য ও পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টে যায়— অভিযোগ ছিল, সব পক্ষকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালত তা খতিয়ে দেখে মামলাটি ফের হাই কোর্টে পাঠায় এবং সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনতে বলে। ১২ নভেম্বর শুনানি শেষ হওয়ার পর বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় দেয়— চাকরি বহাল, দুর্নীতি তদন্ত অব্যাহত।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

সোশাল মিডিয়ায় কড়াকড়ি: পুলিশ কর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বহাল, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-এর রায় খারিজ করল হাইকোর্ট, তবে দুর্নীতি তদন্ত চালু থাকবে

আপডেট : ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রাথমিক স্তরে ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিল নয়, স্বপদে বহাল থাকছেন প্রত্যেক শিক্ষক। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে এই মর্মে রায় দিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত চলবে বলেও আদালত জানায়।

রায়ে বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ— “দীর্ঘ ৯ বছর পরে চাকরি বাতিল করলে পরিবারগুলির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।”
এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে ২০১৪ সালের টেট–এর ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন: রাজ্যের সব বুথে ন্যূনতম পরিকাঠামো আছে কি? নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

এজলাস থেকে বেরিয়ে সরকারি আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে দুর্নীতির জন্য ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করা হয়েছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষের ভুল বা দুর্নীতির দায় নিরীহ চাকরিপ্রাপ্তদের উপর বর্তাতে পারে না। “যাঁরা সফল হননি, তাঁদের জন্য সবকিছু ধ্বংস হতে পারে না,” মন্তব্য তাঁর। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়— চাকরিপ্রাপ্তরা কোনও প্রভাবশালীর সঙ্গে যুক্ত নন, তাই তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: চন্দ্রকোনা কাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট, রিপোর্ট তলব

হাই কোর্টের রায় ঘোষণার পর X-এ প্রাথমিক শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু লেখেন, “সত্যের জয় হল।” ২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রায় ৪২,৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়। সেই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের মে মাসে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও তাঁদের কাজে বহাল রেখেই তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: আই-প্যাক ইস্যু: হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত চাইল ইডি, ‘আমরা প্রস্তুত’ বললেন কল্যাণ

বোর্ড সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। তখন অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হলেও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ বহাল থাকে। পরে রাজ্য ও পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টে যায়— অভিযোগ ছিল, সব পক্ষকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালত তা খতিয়ে দেখে মামলাটি ফের হাই কোর্টে পাঠায় এবং সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনতে বলে। ১২ নভেম্বর শুনানি শেষ হওয়ার পর বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় দেয়— চাকরি বহাল, দুর্নীতি তদন্ত অব্যাহত।