১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হিজাব খুলে মহিলাকে অপমান, নীতীশের নিন্দায় সরব বিরোধী নেতারা

পুবের কলম, শ্রীনগর: মুসলিম মহিলা চিকিৎসকের হিজাব টেনে খুলে দেওয়ায় ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারা। মহিলার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত ও অপমান করায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন উপত্যকার নেতারা। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি বলেছেন, নীতীশ কুমারের আচরণে তিনি হতবাক। একইসঙ্গে তিনি লেখেন, “ব্যক্তিগতভাবে নীতীশজিকে জানার এবং তাকে শ্রদ্ধা করার সুবাদে, একজন মুসলিম মহিলার হিজাব খুলে ফেলতে দেখে আমি হতবাক হয়েছি। এর কারণ কি বার্ধক্য, নাকি প্রকাশ্যে মুসলমানদের অপমান করার চেষ্টা? ঘটনার সময় মঞ্চের অন্যান্য মন্ত্রী-আমলাদের হাঁসিঠাট্টা সম্পূর্ণ বিনোদন হিসেবে দেখা গিয়েছে, এটি অত্যান্ত উদ্বেগজনক।” বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে মেহবুবার সাফ বক্তব্য, “নীতিশজি আপনার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে?”

শ্রীনগরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সাংসদ আগা রুহুল্লাহ মুখ্যমন্ত্রীর আচরণকে অযৌক্তিক এবং বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। এনসি সাংসদ বলেন, “বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রকাশ্যে এক মুসলিম মহিলার হিজাব টেনে খুলে দেওয়ার যে আচরণ তা অযৌক্তিক এবং গভীরভাবে বিরক্তিকর। তাঁর এই আচরণ উদ্বেগজনক। তিনি সাংবিধানিক পদে থাকার যোগ্যতা রাখেন না।” রুহুল্লাহ দাবি করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ওই মহিলা এবং জনগণের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।”

আরও পড়ুন: রাহুলের বিদেশি যোগ দেখছে দুবে, বিরোধী দলনেতার সাংসদ পদ খারিজের দাবি বিজেপির

এই ঘটনার নিন্দা করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পিপলস কনফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক ও শিয়া নেতা ইমরান আনসারি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অগ্রহণযোগ্য। মহিলাকে অপমান গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের আচরণ কোনও উচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত নয়। দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এটি হুমকি।” বিহারে প্রায় ১৭ শতাংশ মুসলিম। অথার্ৎ ২ কোটিরও বেশি মুসলিম বসবাস করেন। সম্প্রতি বিহার নির্বাচনে নীতীশ কুমারকে ঢেলে ভোট দিয়েছে সংখ্যালঘুরা। ইমরান আনসারির সাফ বক্তব্য, “জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার মুখ্যমন্ত্রী তিনি (নীতীশ কুমার)। প্রত্যেকের নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর নিঃশর্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন পিপলস কনফারেন্সের নেতা।

আরও পড়ুন: বিরোধী দলনেতার কনভয় মামলায় রাজ্য ও কেন্দ্রের রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

উল্লেখ্য, ধর্মীয় রীতি মেনে হিজাব পরে বিহারের এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র নিতে যান এক মুসলিম মহিলা চিকিৎসক। ওই চিকিৎসকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পরই মুসলিম মহিলার মুখে থাকা হিজাব টেনে খুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে উপস্থিত মন্ত্রী-আমলাদের হাঁসির রোল দেখা যায়। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপে কার্যত বিব্রত হন ওই মহিলা চিকিৎসক। ভিডিয়োতে দেখা যায়, মহিলার হিজাব খুলে দেওয়ার পর তিনি অস্বস্তিবোধ করছেন। মঞ্চজুড়ে হাঁসিঠাট্টা দেখে নিজেকে অপমানিতবোধ করছেন মহিলা। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয় স্তবক বাধ্যতামূলক করা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত: তীব্র প্রতিবাদ জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হিজাব খুলে মহিলাকে অপমান, নীতীশের নিন্দায় সরব বিরোধী নেতারা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম, শ্রীনগর: মুসলিম মহিলা চিকিৎসকের হিজাব টেনে খুলে দেওয়ায় ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারা। মহিলার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত ও অপমান করায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন উপত্যকার নেতারা। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি বলেছেন, নীতীশ কুমারের আচরণে তিনি হতবাক। একইসঙ্গে তিনি লেখেন, “ব্যক্তিগতভাবে নীতীশজিকে জানার এবং তাকে শ্রদ্ধা করার সুবাদে, একজন মুসলিম মহিলার হিজাব খুলে ফেলতে দেখে আমি হতবাক হয়েছি। এর কারণ কি বার্ধক্য, নাকি প্রকাশ্যে মুসলমানদের অপমান করার চেষ্টা? ঘটনার সময় মঞ্চের অন্যান্য মন্ত্রী-আমলাদের হাঁসিঠাট্টা সম্পূর্ণ বিনোদন হিসেবে দেখা গিয়েছে, এটি অত্যান্ত উদ্বেগজনক।” বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে মেহবুবার সাফ বক্তব্য, “নীতিশজি আপনার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে?”

শ্রীনগরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সাংসদ আগা রুহুল্লাহ মুখ্যমন্ত্রীর আচরণকে অযৌক্তিক এবং বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। এনসি সাংসদ বলেন, “বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রকাশ্যে এক মুসলিম মহিলার হিজাব টেনে খুলে দেওয়ার যে আচরণ তা অযৌক্তিক এবং গভীরভাবে বিরক্তিকর। তাঁর এই আচরণ উদ্বেগজনক। তিনি সাংবিধানিক পদে থাকার যোগ্যতা রাখেন না।” রুহুল্লাহ দাবি করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ওই মহিলা এবং জনগণের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।”

আরও পড়ুন: রাহুলের বিদেশি যোগ দেখছে দুবে, বিরোধী দলনেতার সাংসদ পদ খারিজের দাবি বিজেপির

এই ঘটনার নিন্দা করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পিপলস কনফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক ও শিয়া নেতা ইমরান আনসারি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অগ্রহণযোগ্য। মহিলাকে অপমান গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের আচরণ কোনও উচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত নয়। দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এটি হুমকি।” বিহারে প্রায় ১৭ শতাংশ মুসলিম। অথার্ৎ ২ কোটিরও বেশি মুসলিম বসবাস করেন। সম্প্রতি বিহার নির্বাচনে নীতীশ কুমারকে ঢেলে ভোট দিয়েছে সংখ্যালঘুরা। ইমরান আনসারির সাফ বক্তব্য, “জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার মুখ্যমন্ত্রী তিনি (নীতীশ কুমার)। প্রত্যেকের নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর নিঃশর্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন পিপলস কনফারেন্সের নেতা।

আরও পড়ুন: বিরোধী দলনেতার কনভয় মামলায় রাজ্য ও কেন্দ্রের রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

উল্লেখ্য, ধর্মীয় রীতি মেনে হিজাব পরে বিহারের এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র নিতে যান এক মুসলিম মহিলা চিকিৎসক। ওই চিকিৎসকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পরই মুসলিম মহিলার মুখে থাকা হিজাব টেনে খুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে উপস্থিত মন্ত্রী-আমলাদের হাঁসির রোল দেখা যায়। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপে কার্যত বিব্রত হন ওই মহিলা চিকিৎসক। ভিডিয়োতে দেখা যায়, মহিলার হিজাব খুলে দেওয়ার পর তিনি অস্বস্তিবোধ করছেন। মঞ্চজুড়ে হাঁসিঠাট্টা দেখে নিজেকে অপমানিতবোধ করছেন মহিলা। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।