০৩ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায় শুরু, গ্রাহকদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে চলেছে? জেনে নিন বিস্তারিত

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যাঙ্ক আইডিবিআই (IDBI Bank) এবার হাতবদল হতে চলেছে। সরকারি সূত্রে খবর, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেস্টমেন্ট (Strategic Disinvestment) প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। যার ফলে শিগগিরই শুরু হবে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া (Bidding Process)। এমন সময় লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের মনে প্রশ্ন, এই পরিবর্তনের ফলে তাঁদের উপর কী প্রভাব পড়বে?

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই বিক্রি হতে চলেছে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের একটি বড় অংশীদারিত্ব। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার ও এলআইসি (LIC) মিলিয়ে ব্যাঙ্কটির ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে থেকে ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই এই শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এখন ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল গ্রুপ (Inter-Ministerial Group) থেকে শেয়ার পারচেস এগ্রিমেন্ট (Share Purchase Agreement বা SPA)-এর ক্লিয়ারেন্সও পাওয়া গিয়েছে। এই SPA হল এমন একটি আইনি চুক্তি যা কোনও কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচার সব নিয়ম ও শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে।

আরও পড়ুন: আদানি-এলআইসি ইস্যুতে বিরোধীদের তোপে কেন্দ্র

মানি কন্ট্রোলের (Moneycontrol) রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাইয়ের এমিরেটস এনবিডি ব্যাঙ্ক (Emirates NBD Bank) আইডিবিআই ব্যাঙ্ক কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই শেয়ার বিক্রির ডিলের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে।

আরও পড়ুন: ক্রেতাদের ডিজিটাল অভিযোগ সহজতর করতে চালু ‘ই জাগৃতি’ পোর্টাল, বিধানসভায় জানালেন মন্ত্রী

অনেকেই চিন্তিত যে ব্যাঙ্কের মালিকানা বদল হলে তাঁদের অ্যাকাউন্ট বা লেনদেনের উপর কোনও প্রভাব পড়বে কি না। জানিয়ে রাখি, ব্যাঙ্কের অংশীদারিত্ব বদলালেও সাধারণ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হবে না। তবে ব্যাঙ্কের নীতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে সুদের হার, লোন প্রসেসিং, পরিষেবার ধরন বা ফি-এর উপর।

আরও পড়ুন: আদানির সংস্থার ৫০০০ কোটির ডিবেঞ্চার কিনল এলআইসি

যেমন সুদের হার বাড়লে EMI-এর খরচ বেড়ে যেতে পারে বা নতুন নিয়মে কিছু লেনদেনের খরচ বেড়ে যেতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহক পরিষেবার মানও উন্নত হতে পারে, যদি নতুন মালিক সংস্থাটি আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিষেবা চালু করে।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। তার আগে SPA চুক্তির সব দিক চূড়ান্ত হবে। তারপরই প্রকাশ্যে আসবে দরপত্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

আইডিবিআই ব্যাঙ্কের এই বড় ধরনের মালিকানা পরিবর্তন ভারতের ব্যাঙ্কিং খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে। যদিও গ্রাহকদের জন্য কোনও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই, তবুও পরিবর্তনের ফলে কিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। সেই দিকেই এখন নজর দেশের লক্ষ লক্ষ আইডিবিআই গ্রাহকদের।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

দেশীয় বাজারে এখনও ২.৮৩ কোটি ২০০০ টাকার নোট, জানাল আরবিআই

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায় শুরু, গ্রাহকদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে চলেছে? জেনে নিন বিস্তারিত

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, শনিবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যাঙ্ক আইডিবিআই (IDBI Bank) এবার হাতবদল হতে চলেছে। সরকারি সূত্রে খবর, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেস্টমেন্ট (Strategic Disinvestment) প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। যার ফলে শিগগিরই শুরু হবে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া (Bidding Process)। এমন সময় লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের মনে প্রশ্ন, এই পরিবর্তনের ফলে তাঁদের উপর কী প্রভাব পড়বে?

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই বিক্রি হতে চলেছে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের একটি বড় অংশীদারিত্ব। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার ও এলআইসি (LIC) মিলিয়ে ব্যাঙ্কটির ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে থেকে ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই এই শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এখন ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল গ্রুপ (Inter-Ministerial Group) থেকে শেয়ার পারচেস এগ্রিমেন্ট (Share Purchase Agreement বা SPA)-এর ক্লিয়ারেন্সও পাওয়া গিয়েছে। এই SPA হল এমন একটি আইনি চুক্তি যা কোনও কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচার সব নিয়ম ও শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে।

আরও পড়ুন: আদানি-এলআইসি ইস্যুতে বিরোধীদের তোপে কেন্দ্র

মানি কন্ট্রোলের (Moneycontrol) রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাইয়ের এমিরেটস এনবিডি ব্যাঙ্ক (Emirates NBD Bank) আইডিবিআই ব্যাঙ্ক কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই শেয়ার বিক্রির ডিলের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে।

আরও পড়ুন: ক্রেতাদের ডিজিটাল অভিযোগ সহজতর করতে চালু ‘ই জাগৃতি’ পোর্টাল, বিধানসভায় জানালেন মন্ত্রী

অনেকেই চিন্তিত যে ব্যাঙ্কের মালিকানা বদল হলে তাঁদের অ্যাকাউন্ট বা লেনদেনের উপর কোনও প্রভাব পড়বে কি না। জানিয়ে রাখি, ব্যাঙ্কের অংশীদারিত্ব বদলালেও সাধারণ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হবে না। তবে ব্যাঙ্কের নীতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে সুদের হার, লোন প্রসেসিং, পরিষেবার ধরন বা ফি-এর উপর।

আরও পড়ুন: আদানির সংস্থার ৫০০০ কোটির ডিবেঞ্চার কিনল এলআইসি

যেমন সুদের হার বাড়লে EMI-এর খরচ বেড়ে যেতে পারে বা নতুন নিয়মে কিছু লেনদেনের খরচ বেড়ে যেতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহক পরিষেবার মানও উন্নত হতে পারে, যদি নতুন মালিক সংস্থাটি আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিষেবা চালু করে।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। তার আগে SPA চুক্তির সব দিক চূড়ান্ত হবে। তারপরই প্রকাশ্যে আসবে দরপত্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

আইডিবিআই ব্যাঙ্কের এই বড় ধরনের মালিকানা পরিবর্তন ভারতের ব্যাঙ্কিং খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে। যদিও গ্রাহকদের জন্য কোনও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই, তবুও পরিবর্তনের ফলে কিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। সেই দিকেই এখন নজর দেশের লক্ষ লক্ষ আইডিবিআই গ্রাহকদের।