ইনামুল হক, বসিরহাট: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থল বন্দর বসিরহাটের ভারত-বাংলাদেশে সীমান্তের ঘোজাডাঙ্গায় এদেশের আমদানি রফতানি সংস্থা এবং ওপার বাংলার ভোমরা সীমান্তের আমদানি রফতানি সংস্থার বর্ষপূর্তি উদযাপনে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আলোর দিশা দেখছেন সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে চালক ও শ্রমিকরা।
আরও পড়ুন:
এদিন বসিরহাট সীমান্তের আমদানি রফতানি সংস্থার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এসে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশের ভোমরা আমদানি রপ্তানি সংস্থার সম্পাদক ও সভাপতিরা। তারা বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় ঘোজাডাঙ্গার সীমান্ত থেকে ঢাকা দূরত্ব প্রায় ২২০ কিলোমিটার কমে গেল। যার ফলে যেখানে প্রতিদিন সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ পণ্যবাহী ট্রাক ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করত সেখানে আরও দুই থেকে তিনগুণ বাড়বে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী মহলের কর্তারা।
আরও পড়ুন:

সীমান্তের আমদানি রফতানি সংস্থার সম্পাদক সঞ্জীব মন্ডল ও সহ-সভাপতি অচিন্ত্য ঘোষ বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আজকে যে মিলন উৎসব হল তার মধ্য দিয়ে আমরা একদিকে দু'দেশের ব্যবসায়ীদের নতুন আলো দেখতে পাচ্ছি।
পাশাপাশি বর্ষপূর্ত উদযাপনে আমরা দুই দেশের পর্যটকরা যাতে অসুস্থ হলে বিনামূল্য অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পায় সেই দিকে নজর। যেমন একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সীমান্তের মানুষের জন্য দেওয়া হল। পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরসভা এলাকার মানুষেরাও এর সুবিধা পাবে। এছাড়াও অনেক দুস্থ মানুষ আছে যারা মারা গেলে শববাহি গাড়িটুকু জোগাড় করতে পারে না। তাদের জন্য নতুন গাড়ি দেওয়া হল প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি সবার জন্য পরিষেবা দেবে।আরও পড়ুন:
এই শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর সূচনা করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী বারিক বিশ্বাস, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের তৃণমূলের সদস্য শাহানুর মন্ডল, বসিরহাট ১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির পুর্তের কর্মাধ্যক্ষ শফিকুল দফাদার, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, সদস্য সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ী জানান, স্বপ্নের পদ্মা সেতু হওয়ায় দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য আরও বেশি সুদৃঢ় বা অটুট ও মজবুত হল। বাংলাদেশের ভোমরা আমদানি রফতানি সংস্থার সভাপতি কাজী নওশাদ বিল্লা রাজু সহ ১০ জনের প্রতিনিধি দল এ দিন ভারতে ভোজাডাঙ্গা আমদায় রফতানি সংস্থার বর্ষপূর্তিতে যোগদান করে বলেন আগামী দিনে সীমান্ত দিয়ে ইলিশ মাছও ভারতে পাঠানো হবে। এর জন্য যে পরিকাঠামো দরকার সেই পরিকাঠামোর বাস্তবায়ন হলেই সেই পরিষেবা শুরু হবে বলে আশাবাদী দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পণ্যবাহী গাড়ির আনাগোনা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা আগামী দিন এই ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে যাতে পদ্মার ইলিশ এদেশে ঢুকে তার সব রকম চেষ্টা চালাবো।
আরও পড়ুন:
এই সীমান্তে কিছু পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে সেইটা তৈরি হলে আগামীদিনে ব্যবসার ক্ষেত্রে আরও সুবিধা হবে বলে মনে করছেন তারা।