০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জয়নগরের মোয়া তৈরী করে স্বনির্ভর হচ্ছে জয়নগর বহড়ুর গৃহবধূরা

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : জয়নগরের মোয়া তৈরীর কাজে হাত লাগিয়ে স্বনির্ভর হচ্ছে জয়নগর বহড়ুর গৃহবধূরা।
জয়নগরের মোয়ার খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে।জিআই তকমা পাওয়ার পর কদর আরও বেড়েছে।শীত শুরু হতেই মোয়া বানানো শুরু হয়েছে জয়নগর ও বহডুতে। মোয়া বানাতে দক্ষ অনেক গৃহবধূ। তাঁদের মোয়া তৈরির কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।এর ফলে এই এলাকার মহিলারা স্বনির্ভর হচ্ছেন। রোজগার বাড়ছে তাঁদের।এখন নিজেদের সংসার সামলে সকালবেলা মোয়ার দোকানে যাচ্ছেন এই এলাকার গৃহবধূরা। তাঁদের বয়স ৩৫ থেকে ৬৫ বছর। বহডু ও জয়নগর এলাকার বাসিন্দা তারা।বহড়ুর অভিজ্ঞ মোয়া ব্যবসায়ী গণেশ দাস,রঞ্জিত ঘোষ বলেন, পুরুষদের তুলনায় মোয়ার পাক মহিলারা ভাল দিতে পারেন। দ্রুত তৈরি করতে পারেন।ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোয়ার সিজন। পরিণীতা দাস নামে এক গৃহবধূ বলেন, এ সময় আমাদের কিছু বাড়তি আয় হয়।পুরুষরা প্যাকেজিংয়ের কাজ করেন। আমরা মোয়া তৈরি করি।একটি কড়াতে প্রায় ১৬-১৭ কিলো কনকচূড় ধানের খই ও মুড়কি থাকে। তাতে নানা উপাদান দিয়ে মোয়া তৈরি হয়।প্রতি প্যাকে ৪০ টাকা করে দেওয়া হয় আমাদের। যে পরিমাণ তৈরি করতে পারি সেই অনুযায়ী টাকা পাই আমরা।আর এক গৃহবধূ শ্যামলী মিস্ত্রি বলেন, সকাল আটটার পর কাজ শুরু করি আমরা। চলে দুপুর ১ পর্যন্ত। এই কাজ করে নিজেদের আয়বাড়াতে পারছি।আরতি দাস বলেন,এই কাজ করায় সংসারে উপকার হচ্ছে। ঘরের কাজ সেরে চলে আসতে হয় দোকানে। স্বাস্থ্যসম্মত বিধি মেনে মাথায় ক্যাপ বেঁধে আমরা কাজ করি। এ প্রসঙ্গে আরও এক গৃহবধূ জানান,এই কাজ করে ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছি। আগে মজুরি কম ছিল। এখন মোয়ার বাজার ভাল হওয়ায় আমাদের মজুরিও বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।আর এই জয়নগরের মোয়ার হাত ধরে স্বনির্ভর হচ্ছে জয়নগর বহড়ুর গৃহবধূরা।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

ভুয়ো ভোটারে ছেয়েছে মোদির বারাণসী! ৯২০০ জনের তালিকা প্রকাশ করে এবার SIR নিয়ে তোপ বিজেপি মন্ত্রীরই

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

জয়নগরের মোয়া তৈরী করে স্বনির্ভর হচ্ছে জয়নগর বহড়ুর গৃহবধূরা

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : জয়নগরের মোয়া তৈরীর কাজে হাত লাগিয়ে স্বনির্ভর হচ্ছে জয়নগর বহড়ুর গৃহবধূরা।
জয়নগরের মোয়ার খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে।জিআই তকমা পাওয়ার পর কদর আরও বেড়েছে।শীত শুরু হতেই মোয়া বানানো শুরু হয়েছে জয়নগর ও বহডুতে। মোয়া বানাতে দক্ষ অনেক গৃহবধূ। তাঁদের মোয়া তৈরির কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।এর ফলে এই এলাকার মহিলারা স্বনির্ভর হচ্ছেন। রোজগার বাড়ছে তাঁদের।এখন নিজেদের সংসার সামলে সকালবেলা মোয়ার দোকানে যাচ্ছেন এই এলাকার গৃহবধূরা। তাঁদের বয়স ৩৫ থেকে ৬৫ বছর। বহডু ও জয়নগর এলাকার বাসিন্দা তারা।বহড়ুর অভিজ্ঞ মোয়া ব্যবসায়ী গণেশ দাস,রঞ্জিত ঘোষ বলেন, পুরুষদের তুলনায় মোয়ার পাক মহিলারা ভাল দিতে পারেন। দ্রুত তৈরি করতে পারেন।ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোয়ার সিজন। পরিণীতা দাস নামে এক গৃহবধূ বলেন, এ সময় আমাদের কিছু বাড়তি আয় হয়।পুরুষরা প্যাকেজিংয়ের কাজ করেন। আমরা মোয়া তৈরি করি।একটি কড়াতে প্রায় ১৬-১৭ কিলো কনকচূড় ধানের খই ও মুড়কি থাকে। তাতে নানা উপাদান দিয়ে মোয়া তৈরি হয়।প্রতি প্যাকে ৪০ টাকা করে দেওয়া হয় আমাদের। যে পরিমাণ তৈরি করতে পারি সেই অনুযায়ী টাকা পাই আমরা।আর এক গৃহবধূ শ্যামলী মিস্ত্রি বলেন, সকাল আটটার পর কাজ শুরু করি আমরা। চলে দুপুর ১ পর্যন্ত। এই কাজ করে নিজেদের আয়বাড়াতে পারছি।আরতি দাস বলেন,এই কাজ করায় সংসারে উপকার হচ্ছে। ঘরের কাজ সেরে চলে আসতে হয় দোকানে। স্বাস্থ্যসম্মত বিধি মেনে মাথায় ক্যাপ বেঁধে আমরা কাজ করি। এ প্রসঙ্গে আরও এক গৃহবধূ জানান,এই কাজ করে ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছি। আগে মজুরি কম ছিল। এখন মোয়ার বাজার ভাল হওয়ায় আমাদের মজুরিও বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।আর এই জয়নগরের মোয়ার হাত ধরে স্বনির্ভর হচ্ছে জয়নগর বহড়ুর গৃহবধূরা।