দেবশ্রী মজুমদার,  বীরভূম: যেকোনও সন্তানের প্রথম শিক্ষিকা তাঁর মা।  এখানেও তার অন্যথা হয়নি।  নলহাটির থানার লোহাপুর চারুবালা বালিকা বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক মেধা তালিকায় সম্ভাব‍্য পঞ্চম স্থানাধিকারী জেনিফারের আসল গাইড স্কুল শিক্ষিকা মা ওয়াহিদা খানম।

মাধ্যমিকে পঞ্চম জেনিফার রাণা, কৃতী ছাত্রীর চলার পথে প্রধান গাইড ছিলেন মা

শুক্রবার ফল প্রকাশের পর মা ওয়াহিদা বলেন, "মেয়েকে নিজের হাতে গড়ে তুলেছি। কিন্তু কোনদিন কিছু চাপিয়ে দিতে চাইনি।

আমি বলিনি তুমি চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার হবে। তোমাকে ডব্লিউ বি সি এস অফিসার বা আইপিএস হতে হবে। এসব কোনও দিন বলি নি। আমি বলেছি,  তুমি মানুষের মতো মানুষ হও"।

মাধ্যমিকে পঞ্চম জেনিফার রাণা, কৃতী ছাত্রীর চলার পথে প্রধান গাইড ছিলেন মা

জেনিফার সেই লক্ষ‍্যেই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মানুষ হতে চায়।

মানুষের পাশে দাঁড়াতে চিকিৎসক হতে চায় সে।

জেনিফার জানায়,   জীবন নিট দিয়ে চিকিৎসক হতে চায় সে। ৬৮৯ পেয়ে মাধ্যমিকে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে সে। তবে কোনও ধরা বাঁধা নিয়ম মেনে পড়াশোনা করেনি সে। যখন মন চাইতো তখনই পড়তে বসে যেত।

মাধ্যমিকে পঞ্চম জেনিফার রাণা, কৃতী ছাত্রীর চলার পথে প্রধান গাইড ছিলেন মা

তবে বই তার প্রিয়। আর প্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত। মা বিশ্বভারতীতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন সে। মায়ের কাছেই তালিম তার। সর্বমোট পাঁচ জন গৃহশিক্ষক ছিল তাঁর।

জেনিফার সর্বমোট মার্কস ৬৮৯। বাংলায় ৯৯, ইংরেজিতে ৯৬, গণিতে ১০০, পদার্থ বিদ‍্যায় ৯৯, জীবন বিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৮, ভূগোলে ১০০।