টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা: শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোর জলবন্দি পরিস্থিতি, দুর্ভোগে জনজীবন

- আপডেট : ৮ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার
- / 240
পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: কলকাতায় টানা বৃষ্টির কারণে শহর ও শহরতলির স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জল জমে যাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। পুলিশ এবং পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, লালবাজারের সামনের রাস্তায় জল জমতে শুরু করেছে। ফিয়ার্স লেন, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, সেন্ট্রাল এভিনিউ, নর্থ পোর্ট থানার লাগোয়া অঞ্চলেও জল জমেছে। কাঁকুড়গাছি, পাতিপুকুর এবং উল্টোডাঙা আন্ডারপাস এলাকাগুলিতে হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া, ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, বৌবাজার, বেহালা, গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ-সহ উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার বহু অঞ্চল জলমগ্ন। কলকাতা পুরসভা জল নিষ্কাশনের কাজ শুরু করলেও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ গঙ্গায় জোয়ার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই সময় কলকাতার নিকাশি লকগেটগুলি বন্ধ রাখা হবে, যার ফলে জল নামতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পুরসভা। এর ফলে শহরের নিচু এলাকাগুলি দীর্ঘক্ষণ জলমগ্ন থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে শিয়ালদহ মেইন শাখার কিছু লাইনে জল জমেছে। ফলে বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছে। অফিস টাইমে এমন পরিস্থিতিতে অফিসযাত্রীদের দুর্ভোগ দ্বিগুণ হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বর্ষার প্রবল সক্রিয়তা, সঙ্গে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং দুটি অক্ষরেখা থাকার কারণে এই অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবারও সারাদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জল জমে থাকায় শহরের রাস্তাগুলিতে যান চলাচল ধীরগতি হয়ে পড়েছে। বহু ফুটপাথেও জল জমে রয়েছে, যার ফলে পথচারীদের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অফিস টাইমে রাস্তাঘাটে যানজট দেখা গিয়েছে, অনেক জায়গায় বাস থেমে থাকছে, এমনকি অ্যাপ ক্যাব সার্ভিসেও দেরি হচ্ছে।
কলকাতায় টানা বৃষ্টির ফলে শহর কার্যত জলবন্দি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় বৃষ্টির গতি না কমলে জল জমা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।