মধ্যরাতের উত্তপ্ত অধিবেশনে রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল বিতর্কিত ‘জি রাম জি’ বিল। তার পরই প্রতিবাদে ওয়াকআউট করে সংসদের বাইরে ধরনায় বসে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ, মহাত্মা গান্ধীর নামে নামাঙ্কিত ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম মুছে কৌশলে ‘রাম’ শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় পাশ হয় বিলটি। বিরোধীদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করেই রাতে দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে সবুজ সংকেত পায় নতুন আইন। প্রতিবাদে পুরনো সংসদ ভবনের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদরা ধরনায় বসেন।
এ দিন রাজ্যসভায় ‘দ্য বিকশিত ভারত—গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ), ভিবি–জি রাম জি বিল ২০২৫’-এর জবাবি ভাষণ শুরু করেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী Shivraj Singh Chouhan। সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। হাতে গান্ধীজির ‘গ্রাম স্বরাজ’-এর ছবি নিয়ে তাঁরা ওয়েলে নেমে আসেন। স্লোগান ওঠে—
“উই ওয়ান্ট নারেগা”, “রামজি বিল ওয়াপস নাও”, “মোদি সরকার হায় হায়”।
বিলের কপি ছিঁড়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, আরজেডি ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা। প্রবল হট্টগোলের মধ্যেই মাঝরাতে রাজ্যসভায় বিল পাশ হওয়ায় ওয়াকআউট করে বাইরে ধরনায় বসে পড়েন বিরোধীরা। লোকসভা ও রাজ্যসভা—দু’কক্ষেই তৃণমূলের পক্ষে তীব্র প্রতিবাদ জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে বিলটি পেশ করেন শিবরাজ চৌহান। মনরেগা বা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA)-এর নাম বদলে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’, সংক্ষেপে ভিবি–জি রাম জি করার প্রস্তাব করা হয়।
নতুন বিলে ১০০ দিনের কাজ বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার কথা বলা হলেও, কেন্দ্রের বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে রাজ্যগুলির আর্থিক চাপ বহুগুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা। পাশাপাশি, আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ হলেও এখন থেকে কোন রাজ্য কত টাকা পাবে, তা কেন্দ্রই নির্ধারণ করবে। বিরোধীদের দাবি, এর ফলে সাধারণ শ্রমিকদের কাজের নিশ্চয়তা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়বে—যেখানে আগে আইনি গ্যারান্টি ছিল, সেখানে এখন সেই নিশ্চয়তা আর থাকছে না।
বিরোধী শিবিরের মতে, এটি শুধু নাম বদল নয়,মনরেগার মূল দর্শন ও অধিকারভিত্তিক কাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত।



























