পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: পূর্ব বসনিয়ার এক আশ্চর্য মসজিদ, যা প্রায় ৬০০ বছর ধরে সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘আকাশের মসজিদ’ (‘Mosque in the sky’) নামে পরিচিত। এর নাম কুসলাত মসজিদ। অটোমান তথা ওসমানিয় সুলতান দ্বিতীয় মেহমেতের সময় এটি নির্মিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
বসনিয়ার ড্রিনিয়াকা নদীর প্রায় ৫০০ মিটার উঁচুতে এক খাড়া পাহাড়ের চূড়ায় এই কুসলাত মসজিদের অবস্থান। এখানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো পায়ে হেঁটে জঙ্গলের সরু পথ পাড়ি দেওয়া। যারা এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন, তারা পুরস্কার হিসেবে পান চারপাশের পাহাড় ও নদীর এক অসাধারণ দৃশ্য। ঐতিহাসিকদের মতে, পঞ্চদশ শতকে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের আমলে এই মসজিদটি তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু এই জায়গার ইতিহাস আরও পুরোনো। অটোমানদের আসার আগে এটি একটি সুরক্ষিত দুর্গ ছিল যা ভ্রমণকারী এবং বণিকদের রক্ষা করত।আরও পড়ুন:
মোদির বজ্রকন্ঠ কেড়ে নিয়েছেন Donald Trump: জয়রাম রমেশ
আরও পড়ুন:
মসজিদটির ‘কুসলাত’ (‘Mosque in the sky’) নামটি তুর্কি শব্দটি ‘কুস’ থেকে এসেছে, যার অর্থ পাখি। বহু শতাদ্বী ধরে এটি শুধু একটি প্রার্থনার স্থানই ছিল না, বরং স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দুও ছিল।
খরার সময় গ্রামের লোকেরা এখানে বৃষ্টির জন্য বিশেষ প্রার্থনা (দোয়া) করতে আসতেন। অনেকে আবার অসুখ থেকে মুক্তির আশায় এখানে আসতেন। দুঃখজনকভাবে, ১৯৯৩ সালে বসনিয়ার ভয়াবহ যুদ্ধের সময় মসজিদটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যুদ্ধের প্রায় দুই দশক পর, স্থানীয় মুসলিমদের উদ্যোগে এটিকে পুরনো নকশাতেই আবার তৈরি করা হয়।আরও পড়ুন:
আজ কুসলাত মসজিদ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি বসনিয়ার মানুষের আস্থা, ঐতিহ্য এবং শত প্রতিকূলতার মাঝেও টিকে থাকার এক জীবন্ত প্রতীক (‘Mosque in the sky’ remains a beacon of Bosnia’s spiritual heritage)। প্রতি বছর আগস্ট মাসের শেষ শুক্রবার এবং রমযান মাসে এখানে বিশেষ নামাযের আয়োজন করা হয়, যা এই জায়গার গুরুত্বকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে।