০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির নতুন বিস্ফোরণ: প্রকাশ্যে লক্ষ লক্ষ নথি, আবারও উঠে এল ট্রাম্প, গেটস, মাস্কদের নাম

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কুখ্যাত প্রয়াত যৌন অপরাধী ও ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন করে তোলপাড় আমেরিকা। মার্কিন বিচার বিভাগ শুক্রবার একসঙ্গে ৩০ লক্ষের বেশি নথি, প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজারেরও বেশি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এই বিপুল তথ্যভাণ্ডার উন্মোচনের পর ফের আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি—সঙ্গে উঠে এসেছে বিশ্বের প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম।

মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, এপস্টেইন একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নথি প্রকাশ ও পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউস কোনও ধরনের প্রভাব খাটায়নি। ব্লাঞ্চের বক্তব্য, “কোন তথ্য প্রকাশ হবে, কোন অংশ গোপন রাখা হবে—এই বিষয়ে বিচার বিভাগকে কোনও নির্দেশ দেয়নি হোয়াইট হাউস।” যদিও গুঞ্জন উঠেছিল, ট্রাম্প সংক্রান্ত বিব্রতকর অংশ নথি থেকে কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দেন ব্লাঞ্চ। উল্লেখ্য, তিনি একসময় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন।

আরও পড়ুন: অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিতে হাইতির লক্ষাধিক শিশু

বিচার বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন নথিগুলিতে ট্রাম্পকে নিয়ে কিছু ‘মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ’ রয়েছে, যা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এফবিআই-এর কাছে জমা পড়েছিল। এসব অভিযোগের অনেকগুলির উৎস যাচাইযোগ্য নয় বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: কর্ণাটকের ভোটার তালিকা থেকে বাদ লক্ষ লক্ষ মুসলিম নাম

নতুন নথিতে যেসব প্রভাবশালী নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট)
ইলন মাস্ক (টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান)
বিল গেটস (মাইক্রোসফটের সহ–প্রতিষ্ঠাতা)
রিচার্ড ব্র্যানসন (ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা)
প্রিন্স অ্যান্ড্রু (ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য)
হাওয়ার্ড লুটনিক (মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী)
নথিতে কী রয়েছে?

আরও পড়ুন: তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ!

ডোনাল্ড ট্রাম্প:

এফবিআইয়ের একটি তালিকায় ট্রাম্পকে ঘিরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। বহু অভিযোগ ফোন ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জমা পড়ে, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগকারীরা নাম প্রকাশ করেননি। তদন্তকারীরা কিছু অভিযোগ যাচাই করলেও বহু অভিযোগকে অবিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করা হয়েছে। ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের সঙ্গে কোনও অপরাধমূলক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

বিল গেটস:

নথিতে থাকা একটি খসড়া ইমেইলে এপস্টেইনের দাবি, বিল গেটসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মধ্যস্থতা করেছিলেন। যদিও এগুলির সত্যতা বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেনি।

ইলন মাস্ক:

এপস্টেইনের সঙ্গে মাস্কের একাধিক ইমেইল আদান–প্রদানের তথ্য মিলেছে। একটি ইমেইলে এপস্টেইন দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাস্ককে বার্তা দেন, যার উত্তরে মাস্ক ‘পার্টি’র কথাও উল্লেখ করেন।

রিচার্ড ব্র্যানসন:

নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইমেইল পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও সফরের কথাবার্তা রয়েছে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু:

নতুন নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২০১০ সালে লন্ডন সফরের সময় এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। দু’জনের মধ্যে একাধিক ব্যক্তিগত ইমেইল আদান–প্রদানের তথ্যও রয়েছে।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

তুরস্কের মধ্যস্থতায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে বৈঠকে বসছে ইরান ও আমেরিকা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির নতুন বিস্ফোরণ: প্রকাশ্যে লক্ষ লক্ষ নথি, আবারও উঠে এল ট্রাম্প, গেটস, মাস্কদের নাম

আপডেট : ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কুখ্যাত প্রয়াত যৌন অপরাধী ও ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন করে তোলপাড় আমেরিকা। মার্কিন বিচার বিভাগ শুক্রবার একসঙ্গে ৩০ লক্ষের বেশি নথি, প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজারেরও বেশি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এই বিপুল তথ্যভাণ্ডার উন্মোচনের পর ফের আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি—সঙ্গে উঠে এসেছে বিশ্বের প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম।

মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, এপস্টেইন একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নথি প্রকাশ ও পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউস কোনও ধরনের প্রভাব খাটায়নি। ব্লাঞ্চের বক্তব্য, “কোন তথ্য প্রকাশ হবে, কোন অংশ গোপন রাখা হবে—এই বিষয়ে বিচার বিভাগকে কোনও নির্দেশ দেয়নি হোয়াইট হাউস।” যদিও গুঞ্জন উঠেছিল, ট্রাম্প সংক্রান্ত বিব্রতকর অংশ নথি থেকে কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দেন ব্লাঞ্চ। উল্লেখ্য, তিনি একসময় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন।

আরও পড়ুন: অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিতে হাইতির লক্ষাধিক শিশু

বিচার বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন নথিগুলিতে ট্রাম্পকে নিয়ে কিছু ‘মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ’ রয়েছে, যা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এফবিআই-এর কাছে জমা পড়েছিল। এসব অভিযোগের অনেকগুলির উৎস যাচাইযোগ্য নয় বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: কর্ণাটকের ভোটার তালিকা থেকে বাদ লক্ষ লক্ষ মুসলিম নাম

নতুন নথিতে যেসব প্রভাবশালী নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট)
ইলন মাস্ক (টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান)
বিল গেটস (মাইক্রোসফটের সহ–প্রতিষ্ঠাতা)
রিচার্ড ব্র্যানসন (ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা)
প্রিন্স অ্যান্ড্রু (ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য)
হাওয়ার্ড লুটনিক (মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী)
নথিতে কী রয়েছে?

আরও পড়ুন: তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ!

ডোনাল্ড ট্রাম্প:

এফবিআইয়ের একটি তালিকায় ট্রাম্পকে ঘিরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। বহু অভিযোগ ফোন ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জমা পড়ে, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগকারীরা নাম প্রকাশ করেননি। তদন্তকারীরা কিছু অভিযোগ যাচাই করলেও বহু অভিযোগকে অবিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করা হয়েছে। ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের সঙ্গে কোনও অপরাধমূলক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

বিল গেটস:

নথিতে থাকা একটি খসড়া ইমেইলে এপস্টেইনের দাবি, বিল গেটসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মধ্যস্থতা করেছিলেন। যদিও এগুলির সত্যতা বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেনি।

ইলন মাস্ক:

এপস্টেইনের সঙ্গে মাস্কের একাধিক ইমেইল আদান–প্রদানের তথ্য মিলেছে। একটি ইমেইলে এপস্টেইন দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাস্ককে বার্তা দেন, যার উত্তরে মাস্ক ‘পার্টি’র কথাও উল্লেখ করেন।

রিচার্ড ব্র্যানসন:

নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইমেইল পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও সফরের কথাবার্তা রয়েছে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু:

নতুন নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২০১০ সালে লন্ডন সফরের সময় এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। দু’জনের মধ্যে একাধিক ব্যক্তিগত ইমেইল আদান–প্রদানের তথ্যও রয়েছে।