০১ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ প্রধান মহুয়া দাস-এর মন্তব্য ‘অনভিপ্রেত’, কড়া প্রতিক্রিয়া শহিদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপ্যাল আফসার আলির

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উচ্চমাধ্যমিক সংসদ প্রধান মহুয়া দাস-এর উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ প্রাপকের নাম না বলে ‘মুসলিম গার্ল’, ‘মুসলিম ওম্যান’ বলা এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে সব মহলেই। এবার উচ্চমাধ্যমিক সংসদ প্রধানের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন শহিদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপ্যাল আফসার আলি।

আফসারসাহেব পুবের কলমের প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষাক্ষেতে একজন প্রধানের কাছ থেকে এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ আশা করা যায় না। এই ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত। আফসারসাহেব ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, এত ভালো রেজাল্টের পর উনি (উচ্চমাধ্যমিক সংসদ প্রধান মহুয়া দাস) সেই শিক্ষার্থীর প্রশংসা করবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রধানের কথায় বিদ্বেষ প্রকাশ পাচ্ছে। যা কোনওভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। এমনকী রেজাল্ট প্রকাশের সময় আমি দেখেছি, উনি মেয়েটির নাম নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি নাম উচ্চারণের সময় ‘মুসলিম গার্ল’, ‘মুসলিম ওম্যান’ বলে উল্লেখ করছেন। এত উচ্চপদে আসীন থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে এই ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণ আশা করা যায় না।
শহিদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপ্যাল আফসর আলি বলেন, এই অবস্থার শিকার যাতে কোনও পরীক্ষার্থীকে না হতে হয়, তার জন্য আমরা চাই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় উত্তরপত্রে আর পরীক্ষার্থীর নামের প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সিবিএসি, আইসিএসসি এই সব পরীক্ষায় নাম লেখার প্রয়োজন হয় না। সেখানে রোল নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতে হয়। এতে যারা পরীক্ষার খাতা দেখেন তারাও নিরপেক্ষ বিচার করতে পারেন।
আফসারসাহেব বলেন, পরীক্ষা মানেই গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। কিন্তু অনেক সময় বর্ণবৈষম্যে ও লিঙ্গ বৈষম্যেরও শিকার হতে হয়। এখনও সমাজ মনে করে মেয়েরা অনেক কাজ করতে পারবে না। আবার অনেক সময় হতে পারে, পরীক্ষক হয়তো, পরীক্ষার্থীর কোনও আত্মীয়, খাতা দেখার সময় সেই পরীক্ষার্থীর প্রতি দুর্বলতা আসতে পারে। তাই আমাদের দাবি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর নাম থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকেও এই দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। আমাদের এই বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ জারি থাকবে।
সম্প্রতি, প্রকাশিত হয় উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট। সেখানে ৫০০’র মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেন মুর্শিদাবাদের মেয়ে রুমানা সুলতানা। রেজাল্ট প্রকাশের দিন রুমানার নাম উল্লেখ না করে ‘ধর্ম’ জানিয়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিক সংসদ প্রধান মহুয়া দাস। সাংবাদিকরা যখন তার নাম জানতে চাইছিলেন, সেই সময় সংসদ প্রধানকে বলতে শোনা যায়, সর্বোচ্চ নম্বর এককভাবে পেয়েছেন একজন মুসলিম কন্যা। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে একজন মুসলিম লেডি, গার্ল। তিনি এককভাবে ৪৯৯ সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন।
যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। মহুয়া দাসের পদত্যাগ চেয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। এই অবস্থায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সংসদ প্রধান মহুয়া দাস স্বীকার করেন, আবেগের বশে এই কথা বলেছি, অন্য কোনও অভিপ্রায় ছিল না।

আরও পড়ুন: শিক্ষা সংসদের সভাপতির পদ থেকে অপসারিত মহুয়া দাস

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

রাশিয়ায় আছড়ে পড়ল ইউক্রেনীয় ড্রোন, হামলা নিহত ২৪ জন নাগরিক

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সংসদ প্রধান মহুয়া দাস-এর মন্তব্য ‘অনভিপ্রেত’, কড়া প্রতিক্রিয়া শহিদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপ্যাল আফসার আলির

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উচ্চমাধ্যমিক সংসদ প্রধান মহুয়া দাস-এর উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ প্রাপকের নাম না বলে ‘মুসলিম গার্ল’, ‘মুসলিম ওম্যান’ বলা এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে সব মহলেই। এবার উচ্চমাধ্যমিক সংসদ প্রধানের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন শহিদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপ্যাল আফসার আলি।

আফসারসাহেব পুবের কলমের প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষাক্ষেতে একজন প্রধানের কাছ থেকে এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ আশা করা যায় না। এই ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত। আফসারসাহেব ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, এত ভালো রেজাল্টের পর উনি (উচ্চমাধ্যমিক সংসদ প্রধান মহুয়া দাস) সেই শিক্ষার্থীর প্রশংসা করবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রধানের কথায় বিদ্বেষ প্রকাশ পাচ্ছে। যা কোনওভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। এমনকী রেজাল্ট প্রকাশের সময় আমি দেখেছি, উনি মেয়েটির নাম নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি নাম উচ্চারণের সময় ‘মুসলিম গার্ল’, ‘মুসলিম ওম্যান’ বলে উল্লেখ করছেন। এত উচ্চপদে আসীন থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে এই ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণ আশা করা যায় না।
শহিদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপ্যাল আফসর আলি বলেন, এই অবস্থার শিকার যাতে কোনও পরীক্ষার্থীকে না হতে হয়, তার জন্য আমরা চাই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় উত্তরপত্রে আর পরীক্ষার্থীর নামের প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সিবিএসি, আইসিএসসি এই সব পরীক্ষায় নাম লেখার প্রয়োজন হয় না। সেখানে রোল নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতে হয়। এতে যারা পরীক্ষার খাতা দেখেন তারাও নিরপেক্ষ বিচার করতে পারেন।
আফসারসাহেব বলেন, পরীক্ষা মানেই গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। কিন্তু অনেক সময় বর্ণবৈষম্যে ও লিঙ্গ বৈষম্যেরও শিকার হতে হয়। এখনও সমাজ মনে করে মেয়েরা অনেক কাজ করতে পারবে না। আবার অনেক সময় হতে পারে, পরীক্ষক হয়তো, পরীক্ষার্থীর কোনও আত্মীয়, খাতা দেখার সময় সেই পরীক্ষার্থীর প্রতি দুর্বলতা আসতে পারে। তাই আমাদের দাবি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর নাম থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকেও এই দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। আমাদের এই বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ জারি থাকবে।
সম্প্রতি, প্রকাশিত হয় উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট। সেখানে ৫০০’র মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেন মুর্শিদাবাদের মেয়ে রুমানা সুলতানা। রেজাল্ট প্রকাশের দিন রুমানার নাম উল্লেখ না করে ‘ধর্ম’ জানিয়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিক সংসদ প্রধান মহুয়া দাস। সাংবাদিকরা যখন তার নাম জানতে চাইছিলেন, সেই সময় সংসদ প্রধানকে বলতে শোনা যায়, সর্বোচ্চ নম্বর এককভাবে পেয়েছেন একজন মুসলিম কন্যা। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে একজন মুসলিম লেডি, গার্ল। তিনি এককভাবে ৪৯৯ সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন।
যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। মহুয়া দাসের পদত্যাগ চেয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। এই অবস্থায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সংসদ প্রধান মহুয়া দাস স্বীকার করেন, আবেগের বশে এই কথা বলেছি, অন্য কোনও অভিপ্রায় ছিল না।

আরও পড়ুন: শিক্ষা সংসদের সভাপতির পদ থেকে অপসারিত মহুয়া দাস