পুবের কলম প্রতিবেদকঃ আর জি কর কাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে ফের বিচারের দাবিতে সরব বিভিন্ন পক্ষ। নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা বাবা গত শনিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দেন। এই অভিযান ঘিরে সেদিন সারাদিন ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়কদের কয়েক জন সেই অভিযানে ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন কিছু নেতা ও সমর্থকরা। তবে দেখা যায়নি বিজেপির সাংগঠনিক নেতাদের।

নবান্ন অভিযান ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপ নেবে পুলিশ, এই সতর্কবার্তা আগেই দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই পুলিশ সাতটি এফআইআর দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।

তবে এখনও গ্রেফতারি শূন্য। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রসঙ্গে কথা বললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। সিপি জানান, 'এখনও পর্যন্ত সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। গ্রেফতারির সংখ্যাটা পাইনি। তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে হবে কারা হাইকোর্টের অর্ডার অমান্য করেছে।'

অন্যদিকে এই অভিযানে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁকে পুলিশ মেরেছে। মাথা ফুলে গিয়েছে।

আঘাত পান পিঠে, ঘাড়েও। এর পরেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। হেনস্থার অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবাও। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে সিপি বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে তা একদম অভিপ্রেত নয়। আর জি করের ছাত্রীর মা যে অভিযোগ করছেন, কী হলো, কী ভাবে হলো, পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে সত্যি কি মিথ্যা, তা দেখা হচ্ছে। তাঁদের তরফে অভিযোগ এলে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ না পেলেও আমরা তদন্ত করব।
বরং শনিবার থেকেই আমরা তদন্ত করছি।’

যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ করা হয়নি বলেও দাবি করেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি এদিন সাংবাদিকরা তাঁকে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান মনোজ ভার্মা। তিনি স্পষ্ট করেন, 'সমস্তটাই তদন্তের আওতায় এবং এই বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনরকম কথা বলা উচিত নয়। সিপি জানান, শনিবারের বিভিন্ন ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ভিত্তিতেই ‘অ্যাকশন’ হবে। সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা, ড্রোন ফুটেজ সবই খতিয়ে দেখছে লালবাজার। উল্লেখ্য, রবিবার নিহত তরুণী চিকিৎসকের মাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।