পারিজাত মোল্লা: বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে উঠেছিল এক শিক্ষিকার চাকরি চলে যাওয়া সংক্রান্ত মামলা। বিচারপতি অবশ্য ওই শিক্ষিকার চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছেন। মিড ডে মিলে ‘নুন ভাত’ খাওয়ানোর অভিযোগে শর্মিষ্ঠা ঘোষ নামে এক শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সেই শিক্ষিকাকে অবিলম্বে চাকরি ফেরানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
গত ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট চুঁচড়া বালিকা বাণী মন্দির স্কুলে আচমকাই হাজির হয়েছিলেন হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। ওই সাংসদ এসে দেখেন, মিড ডে মিলে বাচ্চাদের শুধু নুন ভাত দেওয়া হয়েছে। অথচ সেদিন মেনুতে থাকার কথা ছিল ভাত, ডাল, সয়াবিন। ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে যায় রাজ্যে। তারপরই জেলার স্কুল পরিদর্শকের (ডিআই) কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন লকেট। এলাকার মানুষ স্কুল শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে চাল-ডাল চুরির অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনায় ডিআই স্কুলের সহ-শিক্ষিকা শর্মিষ্ঠা ঘোষকে বরখাস্ত করেন।

এই বরখাস্ত বেআইনি এমন অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ওই শিক্ষিকা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিত্ বসুর এজলাসে এই মামলার শুনানি চলে। সেখানে মামলাকারীর আইনজীবী জানান যে, ‘যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেসময় দু’দিন ছুটিতে ছিলেন তাঁর মক্কেল। ডিআই কী করে বুঝলেন তাঁর মক্কেল দোষী? আমার মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে মিড ডে মিলের দায়িত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা তাঁকে ছাড়তে দেয়নি। ইতিমধ্যে স্কুলে এই কাণ্ড ঘটে যায়। তারজন্য দোষী করা হয় আমার মক্কেলকে’।
এই তথ্য জানার পর বিচারপতি বসু প্রশ্ন করেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে নানা অভিযোগ রয়েছে ওই স্কুলের বিরুদ্ধে। সেগুলো নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি কিছু করেছে?’ এর প্রতুত্তরে ম্যানেজিং কমিটির আইনজীবী জানান যে, ‘যে কোনও তদন্তে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই’। হুগলির ডিআই এদিন আদালতে স্বীকার করেছেন যে, ‘তিনি অভিযোগ পাওয়ার পর তড়িঘড়ি ওই শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। লকেট চট্টোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করায় তিনি পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি’। বিচারপতি বিশ্বজিত্ বসু সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অবিলম্বে ওই শিক্ষিকাকে কাজে ফেরানোর নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘বকেয়া বেতন মেটাতে হবে শিক্ষিকার। লকেট চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন বলেই এত ওভার অ্যাকশন?’ চুঁচুড়ার সাসপেন্ড হওয়া শিক্ষিকার করা মামলায় হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়েন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং জেলা স্কুল পরিদর্শক। একইসঙ্গে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে ওই শিক্ষিকার চার বছরের বেতন ফেরানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের তরফে। এই মামলায় আগেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিত্ বসু। এদিন শুনানিতে ফের পর্ষদ ও স্কুল পরিদর্শকের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। এদিন বিচারপতি ওই শিক্ষিকার চার বছরের বকেয়া বেতন মেটানো সহ চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিলেন। এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য দু সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।






























