আরও পড়ুন:
স্মার্টফোন বিক্রির আগেই সরকারের ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ প্রি-ইনস্টল থাকা বাধ্যতামূলক, টেলিকম মন্ত্রকের এই নির্দেশিকা প্রকাশ হতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল প্রবল বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এর মাধ্যমে দেশের ৭৫ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর উপর নজরদারি ও গোপন চরবৃত্তি চালাতে চাইছে কেন্দ্র। শিল্পমহল, বিশেষ করে অ্যাপল ও স্যামসাং-সহ আন্তর্জাতিক মোবাইল প্রস্তুতকারকরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, কারণ এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আগে থেকে কাউকেই পরামর্শ করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
টেলিকম মন্ত্রকের ২৮ নভেম্বরের ওই নির্দেশিকা ফাঁস হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোড়ন ওঠে। কংগ্রেস জর্জ অরওয়েলের ‘নাইনটিন এইট্টি ফোর’ উপন্যাসের উদাহরণ টেনে অভিযোগ তোলে,"বিগ ব্রাদার নজরদারি শুরু করতে চাইছে"।
রাহুল গান্ধী সংসদে এ নিয়ে কথা বলার হুঁশিয়ারিও দেন।আরও পড়ুন:
সরকার অবশ্য যুক্তি দেখায়, সাইবার প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতেই সঞ্চার সাথী অ্যাপের প্রয়োজন। সন্দেহজনক কল বা প্রতারণামূলক যোগাযোগ শনাক্ত করে সতর্ক করার ক্ষমতা আছে অ্যাপটির,এটাই ছিল সরকারের বিবৃতি।
আরও পড়ুন:
কিন্তু মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল—নতুন ফোন কেনার সময় অ্যাপটি আগেই ইনস্টল করে দিতে হবে এবং ইচ্ছা করলেও তা ডিলিট করা যাবে না; শুধু নিষ্ক্রিয় করা যাবে। এই বাধ্যবাধকতাই বিতর্ককে তীব্র করে তোলে।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতির জেরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে কেন্দ্র। টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন,সঞ্চার সাথী অ্যাপ ঐচ্ছিক, বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে গ্রাহক তা আনইনস্টল করতে পারবেন। তিনি বলেন, "২০২৪ সালেই সাইবার প্রতারণায় ভারতীয়রা ২২ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন। আমরা মানুষকে সুরক্ষার সুযোগ দিতে চেয়েছি। ব্যবহার করবেন কি না,সেটা নাগরিকরাই ঠিক করবেন।" উত্তপ্ত বিতর্ক, শিল্পমহলের আপত্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনাগ্রহ,সব মিলিয়ে সরকার এখন কার্যত নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে।