০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলা বললে যদি বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়, তবে হিন্দি বা উর্দু বললে পাকিস্তানে পাঠান! বাংলাদেশে পুশব্যাক নিয়ে সংসদের সরব শতাব্দী

 

ভিনরাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা করা হচ্ছে, এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে শুক্রবার লোকসভায় বিস্ফোরক ভাষণ দিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি প্রশ্ন তুললেন, “বাংলা বললে যদি বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়, তবে হিন্দি বা উর্দু বললে কি পাকিস্তানে পাঠানো হবে না?” তাঁর এই মন্তব্যে মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ।

শতাব্দী দাবি করেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং বীরভূমের বহু শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে কেবল বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য ভয়াবহ হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বীরভূমের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে সমস্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও পরিবারসহ ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। একাধিক এমন ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্র বরাবর নীরব বলে অভিযোগ তাঁর।

বক্তব্যের মাঝেই স্পিকার বারবার বাধা দেন বলেই দাবি তৃণমূলের। এতে অধিবেশন কক্ষে স্লোগান শুরু হয়। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র শতাব্দীর পাশে দাঁড়িয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভে যোগ দেন। পরে আবার বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে শতাব্দী আরও আক্রমণাত্মক হন।

তিনি বলেন, বাংলাভাষী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। রাজ্য সরকার এসব অত্যাচারিত শ্রমিককে ফিরিয়ে এনে এককালীন আর্থিক সাহায্য দিয়েছে বলেও লোকসভায় তুলে ধরেন তিনি।

তৃণমূলের অভিযোগ,ভাষাকে কেন্দ্র করে বৈষম্য বাড়ছে, আর কেন্দ্রীয় সরকার তা রুখতে কোনও উদ্যোগই নিচ্ছে না।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

৫০০ সদস্যের পার্লামেন্টে বড় জয়ের দাবি: থাইল্যান্ডের নির্বাচনে এগিয়ে রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাংলা বললে যদি বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়, তবে হিন্দি বা উর্দু বললে পাকিস্তানে পাঠান! বাংলাদেশে পুশব্যাক নিয়ে সংসদের সরব শতাব্দী

আপডেট : ৬ ডিসেম্বর ২০২৫, শনিবার

 

ভিনরাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা করা হচ্ছে, এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে শুক্রবার লোকসভায় বিস্ফোরক ভাষণ দিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি প্রশ্ন তুললেন, “বাংলা বললে যদি বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়, তবে হিন্দি বা উর্দু বললে কি পাকিস্তানে পাঠানো হবে না?” তাঁর এই মন্তব্যে মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ।

শতাব্দী দাবি করেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং বীরভূমের বহু শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে কেবল বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য ভয়াবহ হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বীরভূমের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে সমস্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও পরিবারসহ ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। একাধিক এমন ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্র বরাবর নীরব বলে অভিযোগ তাঁর।

বক্তব্যের মাঝেই স্পিকার বারবার বাধা দেন বলেই দাবি তৃণমূলের। এতে অধিবেশন কক্ষে স্লোগান শুরু হয়। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র শতাব্দীর পাশে দাঁড়িয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভে যোগ দেন। পরে আবার বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে শতাব্দী আরও আক্রমণাত্মক হন।

তিনি বলেন, বাংলাভাষী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। রাজ্য সরকার এসব অত্যাচারিত শ্রমিককে ফিরিয়ে এনে এককালীন আর্থিক সাহায্য দিয়েছে বলেও লোকসভায় তুলে ধরেন তিনি।

তৃণমূলের অভিযোগ,ভাষাকে কেন্দ্র করে বৈষম্য বাড়ছে, আর কেন্দ্রীয় সরকার তা রুখতে কোনও উদ্যোগই নিচ্ছে না।