পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তফসিলি ও অনগ্রস শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এই নির্দেশিকাকে ‘অস্পষ্ট ও অপব্যবহারের সম্ভাবনাযুক্ত’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করেছে সর্বোচ্চ আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ মার্চ। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি আমরা জাতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারলাম না? নাকি আমরা ক্রমশ পিছনের দিকে এগোচ্ছি?” তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ছাত্রছাত্রীদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন, বিভাজন তৈরি করা নয়।
তিনি আরও বলেন, ভিন্ন রাজ্য ও সংস্কৃতি থেকে আসা পড়ুয়াদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য বা আলাদা করে চিহ্নিত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। হস্টেলে পৃথকীকরণের ভাবনাকেও তিনি সমালোচনা করেন। “আমরা সবাই একসঙ্গেই থেকেছি, পড়েছি। সমাজে ভিন্ন জাতের বিয়েও হচ্ছে। তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন এই বিভাজন?”—প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি।
আদালতের মতে, UGC-র নির্দেশিকার ভাষা এতটাই অস্পষ্ট যে তার অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তাই আপাতত ২০১২ সালের নিয়মই বহাল থাকবে। পাশাপাশি, বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠনের পরামর্শও দিয়েছে আদালত, যাতে কোনওভাবেই সামাজিক বিভাজন তৈরি না হয়।





















